ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ
নির্বাচনের আগে তরুণদের দুই দল একীভূত হওয়ার পথে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 18 September, 2025, 4:29 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 18 September, 2025, 7:44 PM

নির্বাচনের আগে তরুণদের দুই দল একীভূত হওয়ার পথে?

নির্বাচনের আগে তরুণদের দুই দল একীভূত হওয়ার পথে?

নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে জমে উঠেছে জোট–রাজনীতির আলোচনা। বিভিন্ন দল এখন ব্যস্ত নির্বাচনের আগে–পরের সমীকরণ কষায়। এমন সময় তরুণ নেতৃত্বাধীন দুই রাজনৈতিক দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদ—একীভূত হওয়ার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এই আলোচনা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। দুই দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একীভূত হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে তরুণদের শক্তিকে একত্রিত করে জাতীয় রাজনীতিতে একটি কার্যকর অবস্থান তৈরি করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  একীভূত হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় আপ বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এবং দলও যুক্ত হতে পারে।

গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট অনেকটা একই সূত্রে গাঁথা। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গঠিত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ২০২১ সালে রূপ নেয় গণঅধিকার পরিষদে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনকে ঘিরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণরাই আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠন করে এনসিপি।

এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতারই রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে। এ কারণে অনেকে নুরকে এনসিপির অনেক নেতার "রাজনৈতিক গুরু" হিসেবেও উল্লেখ করে থাকেন।

গণঅধিকার পরিষদ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেলেও এনসিপি এখনো নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে আহত হলে তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান এনসিপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা, যার মধ্যে ছিলেন নাহিদ ইসলাম ও আসিফ। সেই সাক্ষাতের সময় দুই দলের নেতাদের মধ্যে সংগঠন এক করার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়।

গণঅধিকার পরিষদ থেকে এনসিপিতে যোগ দেওয়া এক নেতা জানান, একীভূত হওয়ার বিষয়টি এখনো অনানুষ্ঠানিক আলোচনা পর্যায়ে আছে। কংক্রিট কিছু হয়নি। নুর ভাই অসুস্থ থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বলেছেন, মধ্যপন্থীদের সঙ্গে এক হওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁরা। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান জানিয়েছেন, আমরা তারুণ্যের শক্তিগুলো এক হওয়ার চেষ্টা করছি। আলোচনা তো অনেক কিছুই হচ্ছে। যেদিন কিছু ঘটবে, সেদিন সবাই জানবে।

একই সুরে গণঅধিকার পরিষদের আরেক নেতা বলেন, এনসিপির সঙ্গে মার্জ (একীভূত) হওয়ার আলোচনা চলছে। আগ্রহ আমাদের দুই পক্ষেরই আছে। এক হলে আরও অনেকেই যুক্ত হতে পারে।

দুই দলের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একীভূত হলে নতুন দলের নাম হতে পারে এনসিপি। তবে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন আনা হবে। একজন নেতা জানান, নেতা-কর্মীদের মধ্যে ম্যাচআপের বিষয় আছে। সময়সাপেক্ষ হলেও নির্বাচনের তফসিলের আগে সমাধান করতে চাই আমরা।

আরও প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
শুধু এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ নয়, আলোচনায় আছে আরও কিছু রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নাম। এর মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও ‘আপ বাংলাদেশ’কে ঘিরেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এনসিপির এক নেতা বলেন, সংস্কার বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে, তবে একীভূত হওয়ার মতো আলোচনা হয়নি। আপ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ হয়েছে, তবে সেটিও এখনো অনানুষ্ঠানিক।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের এক নেতা জানান, এনসিপির সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব আছে, তবে সিদ্ধান্ত হয়নি। আপ বাংলাদেশের এক শীর্ষ নেতা বলেন, একীভূত না হলেও জোটগতভাবে এগোনোর বিষয়ে কথা হয়েছে। সামনে আরও আলোচনা হতে পারে।

নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই একীভূতকরণ হলে তরুণদের নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে বিকল্প মধ্যপন্থী রাজনীতির শক্তি হিসেবে এই উদ্যোগ কাজ করতে পারে।

এনসিপির এক নেতা বলেন, রাজনীতিতে এখন হয় বিএনপিপন্থী, নয়তো জামায়াত বা ইসলামপন্থী—এমন বয়ান দিয়ে এগোনো যায় না। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষই মধ্যপন্থী। তাদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি।

উল্লেখ্য: নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জোটের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বাধীন এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ যদি একীভূত হতে পারে, তবে রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বাড়বে। আলোচনা এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে থাকলেও নেতারা নির্বাচনের আগে বিষয়টি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status