ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১২ কার্তিক ১৪৩৩
ভিক্ষাবৃত্তি করা প্রতিবন্ধীদের কাছে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী আক্কাস
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 18 September, 2025, 3:15 PM

ভিক্ষাবৃত্তি করা প্রতিবন্ধীদের কাছে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী আক্কাস

ভিক্ষাবৃত্তি করা প্রতিবন্ধীদের কাছে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী আক্কাস

দীর্ঘদিন ধরে অচল কোমরের নিচ সহ দু'পা। চলাফেরা করতে হয় হুইল চেয়ারে। তারপরও জীবন যুদ্ধে হার মানেনি আক্কাস খন্দকার। পরিবারের ভরনপোষনের জন্য বেছে নিয়েছেন মোবাইল সরার কাজ। বর্তমানে পুরনো মোবাইল মেকানিকের ইনকামে চলছে তার পরিবার।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের ছোট বালিয়াতলী গ্রামের আক্কাস খন্দকার (২৭)। তার পিতা রাজ্জাক খন্দকার প্রায় ১২ বছর আগে বিদ্যুতের সর্ট সার্কিটে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ডান হাত হারান। পরে ১৮ বছর বয়সে পরিবারের ভরনপোষনের দায়িত্ব আসে আক্কাসের কাঁধে। তাই বেছে নেন বালুর ড্রেজারে শ্রমিকের কাজ। 

কিন্তু প্রায় ৭ বছর আগে ডেজ্রার থেকে পরে গিয়ে মেরুদন্ডে আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। পরে অচল হয়ে যায় তার কোমরের নিচের অংশ। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার চালাতে গিয়ে অসহায় হয়ে পরে তার পরিবার। জীবন নিয়ে অনেকটা অনিয়শ্চয়তায় পরেন আক্কাস। 
ভিক্ষাবৃত্তি করা প্রতিবন্ধীদের কাছে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী আক্কাস

ভিক্ষাবৃত্তি করা প্রতিবন্ধীদের কাছে এক উজ্জল দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী আক্কাস

পরে তার অপর এক বন্ধুর পরামর্শে ঢাকায় প্রশিক্ষন নিয়ে বেছে নেন মোবাইল সারার কাজ। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী লালুয়া ইউনিয়নের শনিবাড়িয়া বাজারে ছোট একটি দোকান তুলে সেখানে মোবাইল মেকানিকের ইনকামে চলছে তার পরিবার। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ প্রতিবন্ধীর জীবন চলে ভিক্ষাবৃত্তিতে। সেসব প্রতিবন্ধীদের জন্য আক্কাস এক দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।তবে আক্কাসের একাকী চলাফেরার জন্য এখন প্রয়োজন একটি ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার।

শনিবাড়িয়া বাজার এলাকার সুজন মিয়া বলেন, আক্কাসের জীবন অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলো। কিন্তু সে নিজেই এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। অন্যান্য যে সকল প্রতিবন্ধীরা রয়েছে তাদের আক্কাসের কাছ শিক্ষা নেয়া উচিত। 

তবে আক্কাসের চলাচলের সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করলে খুবই ভালো হতো। একই এলাকার ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, আক্কাস আসলেই এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। ভিক্ষা না করে মোবাইল মেকানিকের কাজ করে নিজে চলছেন এবং তার পরিবার চালাচ্ছেন। তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইলেকট্রিক হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। 

প্রতিবন্ধী আক্কাস কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলেন, আমি আহত হওয়ার পর জীবন নিয়ে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়ি। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। পরে আমার এক বন্ধুর পরামর্শে প্রশিক্ষন নিয়ে মোবাইল সারার কাজ শুরু করি। 

এখন আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভালোই চলছে। তবে আমার বাড়ি থেকে দোকানে যাওয়া আসার জন্য একটি হুইল চেয়ার প্রয়োজন। কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, আক্কাসকে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা সহ ইলেকট্রিক হুইল চেয়ার প্রদানের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

মো.ইমরান, কলাপাড়া

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status