|
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পানিবন্দী জনজীবন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে
এস এম সাখাওয়াত জামিল দোলন
|
![]() চাঁপাইনবাবগঞ্জের পানিবন্দী জনজীবন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় এবং হেপাটাইটিসের মত রোগ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে। আর পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে এ রোগগুলোই মহামারির আকার ধারণ করতে পারে। আর সময় মতো চিকিৎসা সেবা না পেলে পানিতে ভিজে থাকা কাটা-ছেঁড়া বা আঘাতের জায়গায় সংক্রমণ দেখা দেয় যা গ্যাংগ্রীনের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাছাড়া যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেকের মধ্যে চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্বাস্থ্যকে দূর্বল করে দেয়। এর ফলে শরীরে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে যা থেকে শরীরের স্থায়ী ক্ষতি এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। আর তাই এমন পরিস্থিতিতে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা শিবির স্থাপন ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ মেডিকেলের মাধ্যমে জরুরী ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষেরা বলছেন. অবহেলিত এই জনপদের মানুষরা শুকনোতে যেমন পানিবন্দীতে আরো কষ্টে থাকেন। কারণ বিগত ১০-১২ দিন ধরে আশপাশের অনেক এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি খাদ্য ও ঔষধের প্রয়োজনও প্রচুর। কিন্তু এদিকে একবার কেউ এলে পরেরবার আর আসতে চান না। পানিবদ্ধের কারণে প্রায় ঘরের সদস্যরা সর্দি-কাশি-জ¦রে আক্রান্ত। অশুদ্ধ পানি পান করার ফলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মানুষও কম নেই। এরপরেও চিকিৎসা দেয়ার জন্য কেউ আসেনা। শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের জলাবদ্ধ বাসিন্দারা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা মানেই আমাদের জনপদ। প্রতি বছরই পদ্মা নদীর এমন অবস্থা সৃষ্টি হলেও আগে থেকে আমাদের কাছে কোন ম্যাসেজ আসেনা। কোন সতর্কতা নিয়ে আসেনা কেউই। যার কারণে আমরা আগে থেকে কোন প্রস্তুতি নিতে পারিনা। যার ফলে আমাদেও বাড়ি-ঘর হারিয়ে যায়। আর যথাযথ চিকিৎসার অভেিব আমাদের অনেক পরমাত্মীয়ও চিরতরে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যায়। তারা আরো বলেন, সাত দিনের অধিক সময় ধরে এই এলাকার বাড়ির ভেতরসহ চারপাশে পানি থাকায় বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হচ্ছেন মানুষজন। চুলকানি থেকে শুরু করে ডায়রিয়াও হয়েছে অনেকের। তাছাড়া সুষম খাবারের পাশাপাশি এখন পানিবন্দি মানুষের বেশি প্রয়োজন চিকিৎসা সেবা। আমরা এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আর তাই অগ্রীম সতর্কতাসহ নির্দিষ্টস্থানে চিকিৎসা শিবির স্থাপন অথবা ভ্রাম্যমাণ মেডিকেলের মাধ্যমে জরুরী ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানান এলাকাবাসী। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার পাঁকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে প্রয়োজনীয় ঔষধ দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন নিজ উদ্দ্যোগেই এই কার্যক্রম করলেও পানিবন্দি মানুষের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। আমরা সিভিল সার্জন, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এই সঙ্কটের কথা জানিয়েছি। ওইসব এলাকার আরো পানি বাড়লে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। বন্যার পানির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের মানুষ। দূর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির অভাব, গোখাদ্যসহ চতুর্মুখী সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে পানিবন্দি মানুষ। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জরুরী হয়ে পড়েছে চিকিৎসা সেবা। কিন্তু নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ কাংক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিধায় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বন্যার পূর্বাভাস সহ উন্নত চিকিৎিসা সেবা জনুনী বলে মনে করেন বানভাসি মানুষ। ### |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
