ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতি নদীর পশ্চিম পান্তে অবস্থিত দুটি গ্রাম দীগনগর ও চরখোলাবাড়িয়া। প্রায় ২৫ শত থেকে ৩ হাজার লোকের বসবাস এখানে। এ গ্রাম দু'টিতে ১টি দাখিল মাদ্রাসা, ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি এতিম খানা, ৩/৪ টি মসজিদ, একটি ছোট্ট বাজার এবং একাধিক পাকা আধাপাকা রাস্তা রয়েছে।
শনিবার( ১৭ আগস্ট) দূপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মধুমতী নদীর করালগ্রাসে ভাঙ্গন কবলিত হাজারো মানুষের বাঁধভাঙ্গা আর্তনাদ!
হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় স্রোতের গতিবেগও বেড়ে যাওয়ায় কারণে তীব্র ভাঙ্গনে এ দু'গ্রামের নদীর তীরবর্তী মানুষগুলির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে চরখোলাবাড়িয়া গ্রামের মাসুদ মিয়া ও ইয়াকূব মিয়া ক্ষোভ ও দু:খ করে বলেন যে, আমাদের পৈত্রিক বসতভীটা, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি হুমকীর মুখে। নদীর একেবারে কাছে চলে আসায় যে কোনো মুহূর্তে আমার ভিটেমাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমরা খুব আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি । দীগনগর গ্রামের আরজান শেখ বলেন যে, “অতি দ্রুত সময়ে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা না করা হলে শতাধিক বাড়িঘর রাস্তা ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাবে।”
এখানকার আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা, মোসলেম মোল্লা এতিম খানা ও একটি মসজিদ নদী থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে আতঙ্কে আছি, পানির শোরচিৎকারে রাতে ঘুমোতে পারি না, যে কোনও মূহুর্তে নদীর গর্ভে চলে যেতে পারে আমাদের বসতভিটা। আমরা বাঁচতে চাই,সরকার আমাদের এ অবহেলিত এলাকার মানুষের খোঁজ রাখেন না।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, আলফাডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি জায়গাতেই এ ধরনের সমস্যার বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। বর্ষার মৌসুমের নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। আমরা বালুভর্তি জিও ব্যাগ দ্বারা ভাঙ্গনকবলিত এলাকা রক্ষার্থে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বিষয় টি আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল কে অবহিত করা হলে তিনি ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তিনি বলেন আমরা ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কে জানিয়েছি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগের মাধ্যমে ভাঙ্গন রক্ষার্থে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ শুরু করবে।