ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ● ৬ নভেম্বর ২০২৬ ● ২১ কার্তিক ১৪৩৩
তেঁতুলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ
মুস্তাক আহমেদ, পঞ্চগড়
প্রকাশ: Wednesday, 25 June, 2025, 3:10 PM

তেঁতুলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ

তেঁতুলিয়ার জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় চাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ

সাধারণত বায়ুমন্ডলে কার্বনের পরিমান বৃদ্ধি পেলে পরিবেশ ও আবহাওয়ার উপর যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় মোটাদাগে এটাই হল জলবায়ু পরিবর্তন । কলকারখানার কালো ধুয়া  যখন বায়ু মন্ডলে অবস্থান নেয় তখন প্রাকৃতিক সৃষ্ট মেঘ ও বৃষ্টি সঠিক সময়ে হয়না বিধায় সৃষ্টি হয় অতি গরম ও বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি। ক্ষতিগ্রস্থহয় এর সঙ্গে সংশিষ্ট জীবন ও জীবিকা দাম।

একদল চা গবেষক উনিশ শতকের শেষ দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ডাহুক নদীর পারে এসে দাড়ালেন । তারা এ অঞ্চলে চা চাষের কথা ভাবছেন । এর মধ্যে রয়েছেন দুজন আমেরিকান উদ্যোক্তা ও চা গবেষক। প্রথমে তারা মাটি পরীক্ষা করলেন এরপর সিলেট থেকে আনা চায়ের চারা রোপন করলেন । 

এরপর থেকেই শুরু হল চায়ের বাণিজ্যিক সফল চাষাবাদ। কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠান তেঁতুলিয়া উপজেলার অনূর্বর বালি জমি ভরে দিলেন সবুজে সবুজে। প্রাণ ফিরে পেল তেঁতুলিয়ার প্রকৃতি ও পরিবেশ।

এই চা বাগানের সবুজায়ন তেঁতুলিয়ার একটি বৃহৎ অংশ জুরে বিস্তৃত । এশিয়ান হাইওয়ের দু পাশে এমনকি শাখা প্রশাখার রাস্তাগুলোর ডানে বামে র্দীঘমেয়াদী এই চায়ের বাগান যেন সবুজের প্রান্তর। এই সবুজ ধরে রেখেছে এ অঞ্চলের জলবায়ুর স্বাভাবিক অবস্থা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ অঞ্চলের পর্যটন খাতের ক্ষতি মাঝে মাঝে পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাথিত করে। সাধারণত বায়ুমন্ডল পরিস্কার থাকলে অক্টোবর ও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে । কিন্তু বায়ুমন্ডল অথবা আকাশ পরিস্কার না থাকলে নভেম্বরেও দেখা পাওয়া যায়না এই ভাগ্যরুপি কাঞ্চনজঙ্ঘার। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত পর্যটকদের পথভষ্ট করে দেয়। তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । কারণ কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্যটকদের মূল আর্কষণ । 

এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকলে। কলকারখানা কালো ধুয়া আর বায়ুমন্ডে ধুলাবালি মিলিয়ে যে মরিচিকা তৈরী করে তা তেঁতুলিয়ার পর্য়টন শিল্পে বিরুপ প্রভাব ফেলে । এর জন্য চাই বিকল্প বিনোদন ব্যবস্থা ও জলবায়ু ফান্ড। যা ক্ষতিগ্রস্থ পর্যটকদের পাশে দাড়াবে। তৈরী হবে নতুন নতুন বিনোদন কেন্দ্র।

তেঁতুলিয়া পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী নতুন নতুন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরী । এর মধ্যে পাথর ও বালি উত্তোলনে থাকতে হবে  সঠিক ব্যবস্থাপনা । সবুজ শহর গড়ে তুলতে পরিকল্পিত গাছ লাগানো পরিকল্পনা । জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পর্যটন খাতের ক্ষতিপুরণে উদ্যোগ । পাথর ক্রাসিং মেশিনের ধুলাবালি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের উপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলছে সে ব্যাপারে প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা । পাথর ও বালি পরিবহনে চাই পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থাপনা। 

প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারে সচেতন থাকার সঠিক প্রচারণা ও শব্দ দুষন নিয়ে পারস্পরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ।  ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনায় পরিবেশ বান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টি । কৃষি ও প্রান প্রকৃতি সুরক্ষায় যথাযথ আইনের বাস্তবায়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধি । কারখানার বর্জ্য অপসারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিকল্পনার মূল্যায়ন সহ নদী ও পানি দুষণে গৃহীত পদক্ষেপ এর সঠিক বাস্তবায়ন।

প্রাণ প্রকৃতি বিষয়ক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা কারিগরের প্রধান নির্বাহী সরকার হায়দার মনে করেন তেঁতুলিয়ায় এখন আর শিল্প কারখানার দরকার নাই। তিনি বলেন আমরা সবুজে থাকতে চাই। তেঁতুলিয়ার আগামী ভবিষ্যত  হোক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে।  

 

 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status