|
বরগুনা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর থাবা, প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
|
![]() বরগুনা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর থাবা, প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন রোববার (২২ জুন) পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩২৯ জন। আর প্রাণ গেছে ২১ জনের সবাই বরগুনা সদরের বাসিন্দা। একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ জন সদর উপজেলার। বাকি ১৬ জন বরগুনার পাঁচটি উপজেলার বাসিন্দা। এই পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিটি সংখ্যার পেছনে আছে ভেঙে পড়া একটি পরিবার, চোখের পানি মুছতে না পারা একেকটি মা-বাবা, সন্তান, স্বামী বা স্ত্রী। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ৬২ জন, পাথরঘাটা উপজেলায় ৫ জন, বামনা উপজেলায় ৪ জন, আমতলী উপজেলায় ১ জন, তালতলীয় ৩ এবং বেতাগী উপজেলার ৩ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ২২১ জন। এদের মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮৪ জন, আমতলী উপজেলায় ২ জন, বেতাগী উপজেলায় ৩ জন, বামনা উপজেলায় ১৩ জন, পাথরঘাটা উপজেলায় ১০ জন এবং তালতলী উপজেলায় ৯ জন। এছাড়া জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৩৪ জন, তালতলী উপজেলায় ২২ জন, বামনা উপজেলায় ৫৫ জন, বেতাগী উপজেলায় ১৪ জন এবং আমতলী উপজেলায় ১২ জন এবং পাথরঘাটা উপজেলায় ৯২ জন। হাসপাতাল নয়, যেন যুদ্ধক্ষেত্র বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল এখন শুধুই চিকিৎসাকেন্দ্র নয় এ যেন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধের ময়দান। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, করিডোর এমনকি বারান্দা পর্যন্ত রোগীতে ভরা। হাঁটার জায়গা নেই, নেই শান্তির নিঃশ্বাস। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুপ্রিয়া হাওলাদার বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে বরগুনা হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। এখানে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। হাঁটার জায়গাটুকুও নেই। চিকিৎসক ও নার্স সংকটে চিকিৎসা দিতে আমরা চরম কষ্টে রয়েছি। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ মুর্শিদ শুভ বলেন, গতকালের তুলনায় আজ রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। বন্ধের দিনেও নিয়মিত রাউন্ড দিতে হচ্ছে। চিকিৎসক সংকট থাকলেও আমরা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। জনগণের উচিত সচেতন হওয়া। নইলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহভাবে বাড়তে থাকবে। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, এমন অনেক রোগী এসে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, যাদের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব। এসব রোগীর কারণে হাসপাতালে চাপ বাড়ছে। এখানে ডেঙ্গু যে রকম মারাত্মক আকার ধারণ করেছে ঠিক তেমনিভাবে রোগীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই তারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে আসছেন। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘দিন যত বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ততই বাড়ছে। কিছুতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এমনিতেই এখন আমাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।’ তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, “বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, আতঙ্কে হাসপাতালে ছুটবেন না।’’ ২১টি প্রাণ নেই, যেন ২১টি বিসর্জন এই মৃত্যু শুধু পরিসংখ্যান নয় বরং বরগুনার বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া ২১টি আলোর নাম। তাই এখনই সময় আমরা সবাই যদি একসাথে না জাগি, তাহলে কাল আর কোনো সদর, কোনো বরগুনা থাকবে না নিরাপদ। ডেঙ্গু রোধে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া বিজয় সম্ভব নয়। বরগুনাকে বাঁচাতে হলে আগে আমাদেরই জেগে উঠতে হবে।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
অস্ত্র মামলায় বেনাপোলের মোস্তাফিজুর রহমানের ১৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল
দেশের টিভির বার্তা প্রধান আখতার হোসেন সাদ্দামকে সন্ত্রাসী ‘হোয়াইট বাবু’র হত্যার হুমকি, বাসায় মহড়া
‘হয় অর্থ, নয় রক্ত’, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি
