ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
তেঁতুলিয়া মিনি স্টেডিয়াম হস্তান্তরের অজুহাতে অভিভাবকহীন
মুস্তাক আহমেদ, তেঁতুলিয়া
প্রকাশ: Sunday, 15 June, 2025, 7:02 PM

তেঁতুলিয়া মিনি স্টেডিয়াম হস্তান্তরের অজুহাতে অভিভাবকহীন

তেঁতুলিয়া মিনি স্টেডিয়াম হস্তান্তরের অজুহাতে অভিভাবকহীন

তেঁতুলিয়া মিনি স্টেডিয়াম – যেন এক স্বপ্নের রাত কিন্তু এখনও সকাল হয়নি , ঘুম ভাঙ্গেনি বিবেকের । একটি উপজেলা শহরে একটি স্টেডিয়ামের কতটা গুরুত্ব তা যেন থেকেও বুঝতে পারছেন না অনেকেই। এমনকি অনেকে বুঝেও বুঝার চেষ্টা করছেন না। ৫ই আগষ্ট  সরকার পতনের পর থেকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে সৃষ্ট সরকারী স্থাপনাগুলিতে ভাংচুরের মধ্যদিয়ে তেঁতুলিয়া স্টেডিয়ামের ভাগ্যে অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়ে। এরপর অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১১ মাস অতিবাহিত হলেও ঘুম ভাঙ্গেনি প্রশাসনের । এমন সুযোগে কিছু দুবৃত্ত ও মাদকসেবীর নিরাপদ লুটপাট, চুরি ও অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিতি হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র হস্তান্তরের অজুহাতে উপজেলা প্রশাসন স্টেডিয়ামটির রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব নিতে নারাজ। জাতীয় আন্তজার্তিক ও স্থানীয় বিভিন্ন খেলাধুলা ও সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে এই মাঠকে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এদিকে উপজেলার ক্রীড়া অনুরাগীরা মনে করছেন স্টেডিয়ামের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি । অথচ সঠিক রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে অবহেলিত ও পতিত পরে আছে কোটি কোটি টাকার স্টেডিয়ামটি।

এক বিকেলে তথ্য সংগ্রহের কাজে নতুন সময় টিম তেঁতুলিয়া মিনি স্টেডিয়ামে যায়। ঐতিহ্যবাহী কাজী শাহবুদ্দিন গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের পাশেই নির্মিত তেঁতুলিয়া মিনি স্টেডিয়াম । বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের তথ্য মতে উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ  প্রকল্প (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫ কোটি টাকা অধিক মূল্যে স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং পরবর্তীতে স্টেডিয়াম সংলগ্ন মিনি পার্ক সহ ৬ কোটি টাকার অধিক এই প্রকল্প জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এস এন্ড এম টি (জেভি) ২০২২  সালের জানুয়ারী মাসে কাজ শুরু করেন। ০৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মত কাজ করে কোন প্রকার জবাবদিহিতা না দিয়ে কাজ শেষ না হও্রয়ার আগেই সারাদেশে ২য় পর্যায়ে ২৫ টি স্টেডিয়াম তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনার বাসভবন থেকে শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর কতৃপক্ষকে হস্তান্তর না করেই বর্তমানে পালাতক আছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এস এন্ড এম টি (জেভি)

স্টেডিয়ামের দোতালা বিল্ডিংয়ের তালা চাবি দিয়ে খুলতে হলো না। হাতে টান দিয়েই খুলে গেল তালা , এরপর সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই চোখে পড়লো ধংসযজ্ঞ , চুরি আর লুটপাটের ক্ষতচিত্র। বাথরুমের ফিটিংস, ডেসিং রুমের ফিটিংস , চেয়ার , টেবিল চুরি হয়ে গেছে। ভেঙ্গে পড়ে আছে কাচের যন্ত্রপাতি, আয়না, জানালা ইত্যাদি। বিদ্যুতের যাবতীয় সরঞ্জাম চুড়ি হয়ে গেছে। দেখে যে কারো মনে হবে স্টেডিয়ামটির কোন অভিভাবক নেই।
 
স্টেডিয়ামটি দ্রুত সংস্কার করে মাঠটিতে খেলাউপযোগী হিসাবে গড়ে তুলার জন্য স্থানীয় খেলা প্রেমী, শিক্ষার্থী, সুধী সমাজ জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের এমন উদাসীনতার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তেঁতুলিয়ার আইকনিক ক্রীড়া অনুরাগী সাজেদার হোসেন রাজু বলেন স্টেডিয়ামটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। মাঠ এখনও প্রস্তুত না খেলার জন্য, বালি দিয়ে মাঠ ভর্তি করা হয়েছে। মাঠের রেশিও ঠিক নাই। গোলকিপারের গোলপোষ্ট মাপ ছাড়াই দিয়েছে। স্টেডিয়ামটিতে অনেক মূল্যবান জিনিষ ছিল কিন্তু সঠিক রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে সব ধংষ হতে চলছে। স্টেঢিয়াম হয়ে উঠেছে একটি গোচরণ ভূমি। কারো কোন দায়িত্ব নেই। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কোন মিটিং হয় না। কোন কাজ নেই। কোন উদ্যোগ নেই।

কি কারনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে স্টেডিয়ামটিকে হস্তান্তর করতে পারেনি এমন প্রশ্নে উত্তরে সাবেক উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাগো নিউজকে বলেছিলেন ‘স্টেডিয়াম উদ্বোধন করা হয়েছে কিছুদিন আগে। তবে এখনো বেশি কাজ বাকি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন আমাদের কাছে স্টেডিয়ামের কোন ফাইল ও তথ্য নেই। যেহেতু স্টেডিয়ামটি এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি তাই এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ( পিডি , উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম ২য় পর্যায়) উপসচিব মাহবুব মোরশেদ সোহেল বলেন ২য় পর্যায়ে আমাদের বেশকিছু স্টেডিয়াম উদ্বোধন হয়েছে, কিন্তু এতদিনেও হস্তান্তর হয়নি কেন বিষয়টা জেনে বলতে হবে। তাছাড়া একটি স্টেডিয়াম সরকারি সম্পদ, এই সম্পদ রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব প্রশাসনের , ঠিকাদার তো কাজ শেষ করার প্রাথমিক পর্যায়ে ২ বছরেরও বেশি সময় স্টেডিয়াম দেখভাল করার দায়িত্ব থাকে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে এর রক্ষনাবেক্ষন কেন এখনও হয়নি আমি দেখছি।

 

 



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status