ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
কাতারে সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশী আম মেলা
কাজী শামীম, কাতার
প্রকাশ: Sunday, 25 May, 2025, 1:41 PM

কাতারে সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশী আম মেলা

কাতারে সপ্তাহব্যাপী বাংলাদেশী আম মেলা

আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। কিন্তুু রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। এই পরিস্থিতি রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাস দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশী আম মেলা আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে ফল রপ্তানির দ্বার উন্মোচন হবে। মেলায় ৫ লাখ কেজি ফল বিক্রির প্রত্যাশা আয়োজকদের। 

কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে আগামী ২৫জুন থেকে ১লা জুলাই হতে যাওয়া সপ্তাহব্যাপি এই মেলায় ৬০টি স্টল অংশ নিবে। কাতারের রাজধানী দোহা এর বাণিজ্য এলাকা খ্যাত সুক ওয়াকিফে অনুষ্ঠিত এই মেলায় দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা স্বল্প খরচে অংশ নিতে পারবেন। মেলায় ভালো জাতের আম, বোম্বাই লিচু, কাঠাল ও জাম প্রদর্শণ ও বিক্রি করতে পারবেন দেশের উদ্যোক্তারা। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য প্রদর্শণ ও বিক্রির জন্য স্টল নিতে পারবেন। এই মেলা আয়োজনে সহযোগি পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করছে এম্পিরিক রিসার্স লিমিটেড। 

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কোন প্রতিষ্ঠান এই আম উৎসবে অংশ নিতে চাইলে এম্পিরিক রিসার্স লিমিটেডের সার্বিক সহযোগিতা নিতে পারবে। এ বিষয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব আবদুল্লাহ আল রাজী জানিয়েছেন, কাতার সরকারের সহযোগিতা নিয়ে প্রথমবারের মত কাতারে বাংলাদেশী আম মেলা ২০২৫ আয়োজন করতে যাচ্ছে। 

কাতারের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সুক ওয়াকিফে এই আম মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবের লক্ষ্য হলো কাতারের ভোক্তা, আমদানিকারক এবং পরিবেশকদের কাছে বাংলাদেশের আম এবং আম সম্পর্কিত পণ্য এবং অন্যান্য মৌসুমী ফলের অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ, গুণমান এবং বৈচিত্র প্রদর্শন করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশী ফলের খ্যাতি এবং চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। বাংলাদেশের ব্যবসাযীদের জন্য মেলাতে পণ্য আনার জন্য হ্রাসকৃত মূল্যে কার্গো ভাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি আরও বলেন, মেলার মাধ্যমে কাতারের সঙ্গে কৃষি পন্য রপ্তানির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্টলগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সম্প্রতি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাজা ফলের বৈশ্বিক বাজার প্রায় ৭৭৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২০২৪ সালে আমের বৈশ্বিক বাজার ছিলো ৬৭.৪ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২৫ সালে ৭১.৯৮ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০২৯ সালে ৯৭.৮২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। 

কাতারের বাংলাদেশি ব্যবসায়িরা বলছেন, কাতারে মূলত ভারত ও পাকিস্থান থেকেই বেশি ফল আসে। তবে নানান বাধায় কাতারে বাংলাদেশের সুস্বাদু ফল পৌছাতে পারে না। কিন্তু দেশটিতে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফলের বাজার রয়েছে। সেই বাজারে প্রবেশ করতে গেলে বাংলাদেশের ব্যবসায়িদের আরো দক্ষভাবে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। তাহলে দেশটিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারের ফল রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এই মেলার আয়োজন সেই সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলবে।

জানা গেছে, দেশে প্রায় ২৭ লাখ টন আম উৎপাদন হচ্ছে। যার বাজার মূল্য ২০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, হংকং, কানাডা, বাহরাইন, সুইজারল্যান্ড, ইতালি ও সুইডেনে আম রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে সর্বাধিক রপ্তানি হয়েছে। এছাড়া চীনে বড় ধরনের আম রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন সম্ভাবনাময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।

আমের বেশ কয়েকটি প্রজাতি ইতোমধ্যেই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যেমন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি, নওগাঁর নাক ফজলি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা ও রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা। এসব আম সঠিক মান বজায় রেখে রপ্তানি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status