|
ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে
রিপন আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ
|
![]() ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সম্প্রতি দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর আর গ্রামাঞ্চলের আম গাছগুলোতে ফুটতে শুরু করেছে আমের মুকুল। এখন প্রকৃতির খেয়ালে স্বর্ণালিরূপ ধারণ করেছে আবহমান গ্রামবাংলা। জেলা ঘুরে দেখা গেছে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি আমগাছে আশানুরূপ মুকুল আসতে শুরু করেছে। এবারে এসব মুকুল থেকে বেশি পরিমাণ পরিপক্ব আম পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে গাছগুলোতে ওষুধ প্রয়োগসহ নানামুখী পরিচর্যা গ্রহণ করছেন চাষিরা। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। দেশজুড়ে উত্তর-পশ্চিমের্ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। যেদিকে তাকাই গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমাণ সোনালী মুকুলের আভা। মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি গাছ। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রায় ৭০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল। বাগান মালিক, কৃষি কর্মকর্তা ও আম চাষিরা আশা করছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। বর্তমানে আমচাষি ও বাগান মালিকরাও বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিবগঞ্জ উপজেলার আম চাষি শাহাব উদ্দিন বলেন, আমি একজন আম ব্যবসায়ী। সামনে আমের ভালো ফলনের জন্য আম গাছের পরিচর্যা নিচ্ছি এবং আগামীতে আমের মুকুল যেন নষ্ট না হয় সেজন্য আমের মুকুল সতেজ রাখার জন্য কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছি। তিনি আরও বলেন, কৃষি অফিস থেকে তাদের জানানো হয়েছে , আমের ফলন ভালো পেতে হলে আমের গাছে কোনো মহা (ছত্রাক জাতীয় এক ধরনের রোগ) লাগতে দেওয়া যাবে না। এজন্য কোম্পানি গুলো ওষুধ দিচ্ছে এবং সেই ওষুধগুলো ব্যবহার করছেন। তারা কৃষি অফিসের পরামর্শেই কাজ করছেন বলে জানান। শিবগঞ্জ উপজেলার চককীত্তি ইউনিয়ন লহলামারী গ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, উপজেলার এমন কোন বাড়ি নেই যে, যাদের বাড়িতে আমগাছ নেই। তাই প্রতিটি বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে আমের মুকুল। শুধু আমের মুকুলই নয়, কাঁঠাল, লিচু লেবু প্রভৃতি ফলের গাছের ফুলের গন্ধে চারিদিকে সুবাতাস বইছে। এসব মুকুলে সুবাস যেন মুগ্ধ করে তুলেছে মানুষকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আম চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, আমের মুকুল এখন দেখা দিতে শুরু করেছে তাই এখন ভালো ফলনের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করেছেন। তার আশা, এবার আল্লাহ চাইলে আমের ফলন ভালো হবে। আম চাষি জাহীদ হোসেন বলেন, এখন মহাকাটার জন্য তারা বিষ ব্যবহার করছেন। সালফা, মেনকোজ ও তরল বিষ একসঙ্গে মিশিয়ে তার গাছে দিচ্ছেন। এতে আমের মুকুল ভালো ফুটবে এবং মুকুল পরিষ্কার থাকবে। ভোলাহাট উপজেলার আম চাষি আলমগীর হোসেন বলেন, গাছে বিষ (কীটনাশক) দিচ্ছি আমের ফলন হওয়ার জন্য। আশা করছি, গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ আম ধরবে,কারন বাগানের আম গাছ গুলো দারুণ সিচুয়েশনে রয়েছে। একটু গরম পড়লে সকল আম গাছে জোরে সোরে আমের মুকুল আসতে শুরু করবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আমের রাজধানী বলা হয়। এখানে আমের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এই সময় আমের যে পরিচর্যাগুলো আছে সেইগুলো মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রোগামের মাধ্যমে, লিফলেট বিতরণ, মাঠ দিবস ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকছি। তার মধ্যে যে গাছগুলোতে এখনো মুকুল আসেনি এবং যে গাছগুলোতে মুকুল আসছে কিন্তু ফুল ফোটেনি সেই গাছগুলোতে একটি ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক অর্থাৎ ম্যাগোজাত গ্রুপের যে কোনো ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম করে এবং কীটনাশক একসঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া ফুল সম্পূর্ণরূপে ফুটে যাওয়ার পর নিয়মিতভাবে পানি সেচ দিতে হবে এবং যখন আমের আকারটা মারবেলের মতো হবে তখন আবার ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে দিতে হবে, শুধু গ্রুপগুলো চেঞ্জ করতে হবে। প্রতিবছর আমরা এই ধরনের ব্যবস্থাপনা কৃষক ভাইদের বলে থাকি এবং এবারো সেটি অব্যাহত আছে যাতে রোগ ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। আর সুন্দরভাবে আম উৎপাদন মৌসুমটা পার করতে পারি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
