প্রতিপক্ষকে নাকি কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছিলেন নোহা লাইলস! গতকাল ১০০ মিটার হিটে দ্বিতীয় হওয়ার পর অকপটে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা স্প্রিন্টার। টোকিওতে ১০০ মিটার জিতে চমক দেখানো ইতালির মার্সেল জ্যাকবও হিটে প্রথম হতে পারেননি। দু’জনই অবশ্য সেমিতে উঠেছেন। তবে হিট দেখেই বোঝা গেছে, এবারের অলিম্পিকে দ্রুততম মানব হওয়াটা মোটেই সহজ কিছু হবে না। কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সবার জন্যই।
গত বছর বুদাপেস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে স্প্রিন্টে ট্রেবল জেতার পরই মহাতারকা বনে গিয়েছিলেন লাইলস। অনেকেই তাঁকে উসাইন বোল্টের যোগ্য উত্তরসূরির তকমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু স্তাদে ডি ফ্রান্সে ১০০ মিটারের তৃতীয় হিটে তাঁকে ম্লান করে দিয়ে ৯.৯৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে প্রথম হয়ে চমক দেন ব্রিটিশ চ্যাম্পিয়ন লুই হিনক্লিফ। একসময় তো লাইলস চতুর্থ স্থানে ছিলেন। শেষ দিকে গতি বাড়িয়ে ১০.০৪ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে নাম লেখান।
প্রতিপক্ষকে যে কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছিলেন, সেটাও স্বীকার করেছেন ২৭ বছর বয়সী এ স্প্রিন্টার, ‘আমি প্রথম রাউন্ডে এতটা চাপ নিতে চাইনি। কিন্তু বাকিরাও তো খেলতে এসেছে। আমার মনে হয়, অলিম্পিকে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়াটা আমার প্রথম শিক্ষা। এখানে সবাই নিজেকে উজাড় করে দেয়। প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার ভুল আমি আর করব না। নিজের সেরাটা দেব এখন। সবার মতো আমিও এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।’
টোকিও অলিম্পিকে ২০০ মিটারে ব্রোঞ্জ জেতা যুক্তরাষ্ট্রের এ স্প্রিন্টার আরও যোগ করেন, ‘সত্যি কথা বলতে কী, আমার আসলে ভাবা উচিত ছিল যে, এটা অলিম্পিক। অলিম্পিকে এই প্রথম আমি ১০০ মিটারে নামলাম, তাই হয়তো এমনটা হয়েছে। তবে আমি আর এমনটা হতে দেব না।’
দিনের শেষ হিটে নেমেছিলেন ১০০ মিটারের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মার্সেল জ্যাকব। নাইজেরিয়ার কাইনসোলা আইয়ির পেছনে থেকে ১০.০৫ সেকেন্ড টাইমিং করে তিনিও দ্বিতীয় হয়েছেন। ইতালিয়ান এ স্প্রিন্টারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, ‘আগামীকাল (আজ) হবে ভিন্ন একটি দিন। আজ (গতকাল) আমি কিছুটা মন্থর ছিলাম। আমি অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন। কাজেই আমি ফাইনালে যাব এবং পদকের জন্য লড়াই করব।’
হিটে দাপটের সঙ্গে দৌড়ে এ দু’জনের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন লাইলসের দুই সতীর্থ কেনি বেডনারেক ও গত অলিম্পিকে ১০০ মিটারে রৌপ্যজয়ী ফ্রেড কার্লি। দুই আমেরিকানই ৯.৯৭ সেকেন্ড টাইমিং করে নিজেদের হিটে প্রথম হয়েছেন। ১০.০ সেকেন্ড হিট শেষ করে স্বাচ্ছন্দ্যেই সেমিতে গেছেন জ্যামাইকার কিশানে থম্পসন। চলতি বছরের সেরা টাইমিং (৯.৭৭) তাঁর। থম্পসনের দুই সতীর্থ ওব্লকিউ সেভিলে ও আকিম ব্ল্যাকও সেমিতে নাম লিখিয়েছেন। এ ছাড়া চলতি বছরের দ্বিতীয় সেরা টাইমিং করা কেনিয়ার ফার্দিনান্দ ওমানালা ১০.০৮ সেকেন্ডে, দক্ষিণ আফ্রিকার আকানি সিম্বানে ও ১০০ মিটারে দুইবার ব্রোঞ্জজয়ী কানাডার আন্দ্রে ডি গ্রসও চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।