রাজধানীর উত্তরা থেকে ট্রেনটি মিরপুরের পল্লবী স্টেশনে যখন পৌঁছে, তখন সকাল ৮ টা ৩৫ মিনিট। যাত্রী ওঠার পর ট্রেনটি আগারগাঁওয়ের উদ্দেশ্য রওনা হয় ৮ টা ৩৭ মিনিটে। পল্লবী থেকে আগারগাঁও আসতে যাত্রীদের সময় লেগেছে মাত্র সাত মিনিট।
গত ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও মেট্রোরেল চালু হয়। এতদিন এ দুটি স্টেশনে যাত্রীরা চলাচল করতে পারতেন। আজ বুধবার থেকে পল্লবী স্টেশনে ট্রেন থামতে শুরু করেছে। তবে চালুর প্রথম দিনে উল্লেখযোগ্য যাত্রী চোখে পড়েনি। অনেকে এসেছেন ঘুরতে। আবার অনেকে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্য পল্লবী থেকে ট্রেনে করে আগারগাঁও–ও উত্তরায় গেছেন।
ডিএমটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘প্রথম দিনের শুরুতে পল্লবী স্টেশনে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কম। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর সংখ্যা বাড়বে।’
সরেজমিন দেখা যায়, আগের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল আটটায় পল্লবী স্টেশনের গেট খুলে দেওয়া হয়। যদিও তখন যাত্রীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।
উত্তরার দিয়াবাড়িতে একটি বায়িং হাউজে চাকরি করেন রুহুল আমিন। পল্লবীতে ট্রেন থামায় উচ্ছ্বসিত তিনি। তার বাসা মিরপুরের পল্লবীতে। এতদিন অফিসে যেতে সময় লাগত এক ঘণ্টা। এখন দশ মিনিটের মধ্যে অফিসে পৌঁছাতে পারবেন। যানজট থেকে মুক্তি পাওয়ায় তিনি মহাখুশি।
হাসনাত তানভীর, মতিউর রহমান, মাহবুবুল ইসলাম ও জুবায়ের রহমান চার বন্ধুর বাসা মিরপুরের ১১ নম্বরে। চারজনই চাকরি করেন। পল্লবী থেকে ট্রেন চালু হওয়ায় দেখতে এসেছেন। টিকিট কেটে যাবেন উত্তরা। তাঁরা জানালেন, মিরপুরের ১১ নম্বর থেকে উত্তরা যেতে আগে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগত। এখন মাত্র দশ মিনিটে পৌঁছে যাবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা তাদের সুবিধামতো টিকিট কেটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। প্রথম দিন যাত্রীদের হাতে একটি করে লাল গোলাপফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
সাব্বির শামসুল বারি চাকরি করেন সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ–এ (আইসিবি)। তার অফিস কাকরাইলে। তিনি জানান, পল্লবী থেকে এতোদিন আগারগাঁও আসতে সময় লাগত ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। আজ ট্রেনে লাগল মাত্র সাত মিনিট।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগারগাঁও থেকে পল্লবী বা উত্তরা স্টেশনে যাওয়ার যাত্রী কম। তুলনামূলক আগারগাঁও আসার যাত্রী বেশি। কারণ, অনেক সরকারি অফিস আগারগাঁও অবস্থিত। আবার আগারগাঁও থেকে মতিঝিল যাওয়া সহজ।
মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন জানালেন, অন্য স্টেশনগুলো চালু হলে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে।