ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬ মাঘ ১৪২৯
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিজয়ের বাধ্যবাধতা কেন, যা বললেন মন্ত্রী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 17 January, 2023, 3:12 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 19 January, 2023, 1:16 PM

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিজয়ের বাধ্যবাধতা কেন, যা বললেন মন্ত্রী

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিজয়ের বাধ্যবাধতা কেন, যা বললেন মন্ত্রী

সব অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বাজারজাত করার সময় বাংলা লেখার বিজয় কিবোর্ড থাকার বাধ্যবাধকতা কেন দেওয়া হয়েছে, তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলছেন, বাংলাদেশে মোবাইল কেনার পর সবাই যেন বাংলা লেখার একটি উপায় সেখানে পায়, এবং সেটা যেন বিনামূল্যে হয়, সেটাই সরকার চায়। আর বিএসটিআই যেহেতু বিজয় কিবোর্ডকে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, সে কারণে বিজয়ের কথাই বলা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্দেশনায়।

মোস্তাফা জব্বার প্রতিষ্ঠিত আনন্দ কম্পিউটার্স থেকেই ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয় বিজয় বাংলা কিবোর্ড ও সফটওয়্যার, যা পরে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যায়র হয়ে ওঠে। বিজয় কিবোর্ডের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারও মোস্তাফা জব্বার পেয়েছেন। খবর বিডি নিউজের

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ভাষ্য, “মোবাইল কোম্পানিগুলোও এগুলো (সফটওয়্যার) ফ্রি পাবে। স্পষ্ট, শতভাগ ফ্রি পাবে, বিজ্ঞাপন বা কিছুই থাকবে না। ব্যবহারকারী পুরো বিনামূল্যে এটি ব্যবহার করতে পারবে। এই ঘোষণায়, এই নির্দেশনায় মোস্তাফা জব্বার কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাবে এমনটি ভাবার কিছু নেই।”

আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সকল অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বিজয় সফটওয়্যার থাকা বাধ্যতামূলক করে গত শুক্রবার বিটিআরসির তরফ থেকে ওই নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়, বিজয় অ্যান্ড্রয়েড প্যাকেজ কিট (এপিকে) ইন্সটল করা ছাড়া কোনো স্মার্টফোন বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মোবাইলফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠিও দিয়েছে বিটিআরসি। সেখানে বলা হয়, আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সব অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বিজয় অ্যান্ড্রয়েড এপিকে ফাইল ব্যবহারের লক্ষ্যে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে বিনামূল্যে বিজয় অ্যান্ড্রয়েড এপিকে ফাইল সরবরাহ করা হবে।

কমিশন থেকে স্মার্টফোন বাজারজাতকরণের অনুমতি নেওয়ার আগে এপিকে ফাইলটি ইনস্টল করে তা প্রদর্শন করতে হবে। না হলে অনাপত্তি দেওয়া হবে না।

ওই নির্দেশনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা বলেন, “বিজয় নামটা ব্যবহার হয়েছে কী কারণে আমি জানি না। এখানে প্রমিত কোড বা কি-বোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা লেখার পেটেন্ট কী হবে তা সেট করা আছে, সরকার ২০১৭ সালে সেটি করেছে। এটি মনে করবেন না যে মোস্তাফা জব্বার মন্ত্রী এটা করেছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ২০১৭ সালে এটিকে স্ট্যান্ডার্ড করেছে, যা বিএসটিআইয়ের অনুমোদন পেয়েছে ২০১৮ সালে। এটি এখন নিঃসন্দেহে স্ট্যান্ডার্ড।”

“এখন সরকার তো চাইবে তার স্ট্যান্ডার্ডটাই ব্যবহার করা হোক। এটা স্ট্যান্ডার্ড। আপনি আইসিটি ডিভিশনের ওয়েবসাইটে গেলে দেখতে পাবেন, এটির পেটেন্ট… যা বিএসটিআই মানকৃত। আমি তো আপনাকে ফর্মুলাটাও বলে দিলাম, যা জাতীয় মান। তো সেই মান অনুসরণ করতে না বলে আমরা কি বলব যে যেটা আছে সেটাই ব্যবহার করেন?”

স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিজয়কে বেছে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকার বহু বছর আগে একটি নির্দেশনা দিয়েছে যে মোবাইল ফোনে বাংলার ব্যবহার করতে হবে। আমাদের যেগুলো ফিচার ফোন আছে সেগুলোতে অনেক আগেই বাংলার ব্যবহার বাস্তবায়ন হয়েছে, কিন্তু স্মার্টফোনের জন্য কোনো সলিউশন আগে ছিল না। এখন ২০১৭ সালে সরকার একটি প্রমিত কোড বা কিবোর্ড করেছে। এর প্রেক্ষিতে সফটওয়্যারও করা হয়েছে। বিজয়ের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আছে, যে ভার্সনটি গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। এখানে কোনো ব্যবসার বিষয় নেই।”

এই বাধ্যবাধকতায় ব্যবহারকারীদের কী সুবিধা হবে সেই প্রশ্নের উত্তরে জব্বার বলেন, “ব্যবহারকারীর দিক থেকে সে প্রথমত বিনামূল্যে একটি সফটওয়্যার পাচ্ছে, বাংলা লিখতে পারবে। এর বেশি আর কী সুবিধা এখান থেকে পাওয়ার আছে? আমরা বলেছি উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক তারা যেন সফটওয়্যারটা দিয়ে দেয়, যাতে ব্যবহারকারীর হাতের কাছে একটা বাংলা লেখার সফটওয়্যার থাকে এবং সেটা সে বিনামূল্যে পায়।”

তবে সবাইকে বিজয়েই বাংলা লিখতে হবে– এমন কোনো বাধ্যবাধকতা কোথাও দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “যদি কোনো ব্যবহারকারী ভিন্ন কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, তাতে তো কোনো বাধা নেই। সে ফোন হাতে নিয়ে (বিজয়) ডিলিট করে অন্য কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও আমাদের কিছু বলার নেই, সেটা তার খুশি। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে তার কাছে বাংলা লেখার সফটওয়্যার বিনামূল্যে দেওয়া, সরকার সেটাই করছে। কেউ যেন না বলতে পারে যে ‘আমি বাংলা লেখার কিছু পাইনি’।”

তবে বিজয়ের আদলে সফটওয়্যার নির্মাণ বা ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই এই পেটেন্টের কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব স্বীকার করে তা করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status