|
ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে বোনের যকৃৎ দান
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে বোনের যকৃৎ দান ছোট বোন এর যকৃতের একটি অংশ কেটে প্রতিস্থাপনের কাজটি সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক সূত্র জানায়, যকৃৎ প্রতিস্থাপনে ৩টি বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়। প্রথমত, অসুস্থ ব্যক্তির যকৃৎ কেটে ফেলে বাদ দিতে হয়। দ্বিতীয়ত, একজন সুস্থ ব্যক্তির যকৃতের অংশ কেটে নিতে হয়। তৃতীয় ধাপে সুস্থ ব্যক্তির কাটা যকৃৎ অসুস্থ ব্যক্তির কেটে নেয়া যকৃতের অংশে লাগাতে হয়। এটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া। এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতার। প্রতিস্থাপনের কাজটি শুরু হয়েছিল গত ১লা জানুয়ারি সকাল ৭টায়। আর শেষ হয়েছিল রাত ১০টায়। মো. মন্তেজার রহমান ও তাকে যকৃৎ প্রদান করা ছোট বোন শামীমা আক্তার এখনো বিএসএমএমইউতে আছেন। অপারেশনের পর তাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কেবিনে রাখা হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক ছাড়া অন্য কোনো ভিজিটরের প্রবেশ নিষিদ্ধ। শামীমা আক্তারের পারিবারিক সূত্র জানায়, ৫২ বছর বয়সী মো. মন্তেজার রহমান বগুড়ায় গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পেশাগতভাবে তিনি তেমন কিছুই করতেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের সমস্যায় ভুগছিলেন। যকৃৎ প্রতিস্থাপনের আগে থেকে তাদের দু’জনকেই কাউন্সেলিং করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, পেনক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মোহছেন চৌধুরী বলেন, যকৃৎ প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে বড় অংকের অর্থ ব্যয় হাসপাতালের পক্ষ থেকেই বহন করা হয়েছে। বিএসএমএমইউতে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় সেগুলো তাদেরকে ফ্রি করানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে বড় বড় পরীক্ষা নিরীক্ষা নিজেদের অর্থেই করতে হয়েছে তাদের। সকল ওষুধ তাদের নিজেদেরকে কিনতে হয়। এসব ওষুধ খুবই দামি। বাংলাদেশে যকৃৎ প্রতিস্থাপন নিয়মিত হলে ওষুধ এবং অপারেশন খরচ আরও কমবে। বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে যকৃৎ প্রতিস্থাপনের কাজ অব্যাহত থাকবে। বিদেশে যকৃৎ প্রতিস্থাপনে খরচ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। অথচ দেশে এর অর্ধেক খরচেই এটা সম্ভব। দেশে এখন পর্যন্ত ৭টি যকৃৎ প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের দুটি হয়েছে আমাদের হাসপাতালে। আমরা জানি যে এটা বাংলাদেশে হয় না। এটা বিদেশে হয়। হাসপাতালে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত একমাস ধরে চেষ্টা করে আমরা বগুড়ার মন্তেজারের সফল যকৃৎ প্রতিস্থাপন করি। ১৬ দিন পার হয়েছে। তারা দু’জনেই ভালো আছেন। তারাও খুশি। আমরাও খুশি। যকৃৎ প্রতিস্থাপনসহ বেশকিছু রোগের চিকিৎসায় প্রতিবছর বহু রোগী বিদেশে যান। কিন্তু অনেকেই জানেন না, অনেক রোগের সফল চিকিৎসা এখন দেশেই হচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
