ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৭ জুন ২০২৬ ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে বোনের যকৃৎ দান
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 17 January, 2023, 10:56 AM

ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে বোনের যকৃৎ দান

ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে বোনের যকৃৎ দান

যকৃতের জটিল রোগ নিয়ে কয়েক মাস আগে রাজধানীর বিএসএমএমইউতে ভর্তি হন বগুড়ার মো. মন্তেজার রহমান। বয়স ৫২ বছর। যকৃৎ প্রতিস্থাপনই তার চিকিৎসা বলে জানিয়ে দেন চিকিৎসক। এরপর শুরু হয় যকৃতের সন্ধান। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায় মন্তেজারের ছোট বোন শামীমা আক্তারের যকৃৎ তার যকৃত এর জন্য উপযুক্ত। পরবর্তীতে পরিবারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১লা জানুয়ারি বোন শামীমার যকৃৎ কেটে মন্তেজারের শরীরে জুড়ে দেন বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকেরা। ভাইয়ের জীবন বাঁচিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা শামীমা ও মন্তেজার কথা বলতে গিয়ে খুশিতে নিজেরাও কাঁদলেন। কাঁদালেন অন্যদেরও।

ছোট বোন এর যকৃতের একটি অংশ কেটে প্রতিস্থাপনের কাজটি সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। 

চিকিৎসক সূত্র জানায়, যকৃৎ প্রতিস্থাপনে ৩টি বড় অস্ত্রোপচার করতে হয়। প্রথমত, অসুস্থ ব্যক্তির যকৃৎ কেটে ফেলে বাদ দিতে হয়।

দ্বিতীয়ত, একজন সুস্থ ব্যক্তির যকৃতের অংশ কেটে নিতে হয়। তৃতীয় ধাপে সুস্থ ব্যক্তির কাটা যকৃৎ অসুস্থ ব্যক্তির কেটে নেয়া যকৃতের অংশে লাগাতে হয়। এটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া। এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতার। প্রতিস্থাপনের কাজটি শুরু হয়েছিল গত ১লা জানুয়ারি সকাল ৭টায়। আর শেষ হয়েছিল রাত ১০টায়। মো. মন্তেজার রহমান ও তাকে যকৃৎ প্রদান করা ছোট বোন শামীমা আক্তার এখনো বিএসএমএমইউতে আছেন। অপারেশনের পর তাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কেবিনে রাখা হয়েছে। যেখানে চিকিৎসক ছাড়া অন্য কোনো ভিজিটরের প্রবেশ নিষিদ্ধ। শামীমা আক্তারের পারিবারিক সূত্র জানায়, ৫২ বছর বয়সী মো. মন্তেজার রহমান বগুড়ায় গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পেশাগতভাবে তিনি তেমন কিছুই করতেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যকৃতের সমস্যায় ভুগছিলেন। যকৃৎ প্রতিস্থাপনের আগে থেকে তাদের দু’জনকেই কাউন্সেলিং করা হয়। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোবিলিয়ারি, পেনক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. মোহছেন চৌধুরী বলেন, যকৃৎ প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে বড় অংকের অর্থ ব্যয় হাসপাতালের পক্ষ থেকেই বহন করা হয়েছে। বিএসএমএমইউতে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় সেগুলো তাদেরকে ফ্রি করানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে বড় বড় পরীক্ষা নিরীক্ষা নিজেদের অর্থেই করতে হয়েছে তাদের। সকল ওষুধ তাদের নিজেদেরকে কিনতে হয়। এসব ওষুধ খুবই দামি। বাংলাদেশে যকৃৎ প্রতিস্থাপন নিয়মিত হলে ওষুধ এবং অপারেশন খরচ আরও কমবে। বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে যকৃৎ প্রতিস্থাপনের কাজ অব্যাহত থাকবে। বিদেশে যকৃৎ প্রতিস্থাপনে খরচ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। অথচ দেশে এর অর্ধেক খরচেই এটা সম্ভব। দেশে এখন পর্যন্ত ৭টি যকৃৎ প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের দুটি হয়েছে আমাদের হাসপাতালে। আমরা জানি যে এটা বাংলাদেশে হয় না। এটা বিদেশে হয়। হাসপাতালে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত একমাস ধরে চেষ্টা করে আমরা বগুড়ার মন্তেজারের সফল যকৃৎ প্রতিস্থাপন করি। ১৬ দিন পার হয়েছে। তারা দু’জনেই ভালো আছেন। তারাও খুশি। আমরাও খুশি। যকৃৎ প্রতিস্থাপনসহ বেশকিছু রোগের চিকিৎসায় প্রতিবছর বহু রোগী বিদেশে যান। কিন্তু অনেকেই জানেন না, অনেক রোগের সফল চিকিৎসা এখন দেশেই হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status