ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১১ মে ২০২৬ ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
তার ছাড়াই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ!
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Friday, 24 December, 2021, 11:47 PM

তার ছাড়াই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ!

তার ছাড়াই বিনামূল্যে বিদ্যুৎ!

ক্রোয়েশিয়ার এক প্রান্তিক গ্রামে মধ্যরাতে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে ডিউকা। চিন্তিতভাবে পায়চারি করছে তার খ্রিস্টান পুরোহিত স্বামী মিলাটিন। ওদিকে বাইরে তখন চলছে তুমুল ঝড়। থেকে থেকে মেঘে ঢাকা কালো আকাশের বুক চিরে দিয়ে যাচ্ছে বজ্রপাত। বৃদ্ধা ধাত্রী বজ্রপাতের ঝলকানিতে ভয় পেয়ে, শিশুটির জন্মকে অশুভ সংকেত ধরে নিলেও, তা মানতে রাজি হননি ডিউকা। বরং পরম ভালোবাসায় বললেন, আমার এ সন্তান ছড়িয়ে দেবে আলো!

বর্তমান বিশ্বের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম এক বিস্ময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার গ্রিড। প্রায় একশো বছরে গড়ে ওঠা এই জটিল বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত অসংখ্য পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ট্রান্সফর্মার ছড়িয়ে আছে প্রায় ৪৫০ হাজার মাইল এলাকা জুড়ে। আর এমন সুদীর্ঘ অঞ্চলকে এ অভাবনীয় সংযোগে যুক্ত করে দুনিয়ার বুকে আলো ছড়িয়ে দেওয়া মানুষটির নাম নিকোলা টেসলা।

অসাধারণ প্রতিভাবান একজন বিজ্ঞানী ছিলেন নিকোলা টেসলা, যিনি আমাদের দিতে চেয়েছিলেন আরও অনেক বড় কিছু। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিনি আমাদের দিতে পারতেন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ।

আর এই উদ্দেশে ১৯০১ সালে নিউইয়র্কে শোরহামে এক বিশেষ ধরনের টাওয়ার তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫৭ মিটার উঁচু এই টাওয়ারের নাম দেওয়া হয় ‘ওয়ার্ডেন ক্লিফ টাওয়ার’। টাওয়ারটিতে স্থাপন করা হয়, প্রায় ৫৫ মিটার কন্ডাক্টিভ মেটাল।

টেসলার পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ওয়ার্ডেন ক্লিফ টাওয়ার’ এর পাশাপাশি আরো অনেকগুলো ছোট ছোট টাওয়ার তৈরি করার কথা ছিল বিশ্বজুড়ে। এগুলো মানুষের কাছে তার ছাড়া পৌঁছে দেবে। ঘরবাড়ি বা শিল্পকারখানার মানুষ প্রয়োজনমতো বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। আর এর জন্য কাউকে খরচ করতে হবে না একটি পয়সাও।

ওয়ার্ডেন ক্লিফ টাওয়ার তৈরির জন্য অর্থায়ন করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধন্য ব্যবসায়ী জেপি মর্গান। জৈব জ্বালানি নিয়েই ছিল তার বিশাল ব্যবসা। শুরুতে মর্গান ভেবেছিলেন, ওয়ার্ডেন ক্লিফ টাওয়ার তৈরি করা হচ্ছে বেতার ব্যবস্থা উন্নতির উদ্দেশে। যখনই তিনি জানতে পারলেন টেসলারের এই মহৎ উদ্যোগের কথা ঠিক তখনই তিনি টাওয়ার তৈরির জন্য অর্থায়ন বন্ধ করে দিলেন।

অন্যকোনো ব্যবসায়ীও আর টেসলারের ধারে কাছে ঘেষতে চাইলো না। এই জিনিস তৈরি হলেতো তাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার হাত ছাড়া হয়ে যাবে। নিজেদের এতো বড় ক্ষতি তারা কেন করবেন! ওয়ার্ডেন ক্লিফ টাওয়ার তাই আর তৈরি হলো না। এমনকি ১৯৪৩ সালে টেসলা মারা যাওয়ার পর তার সমস্ত কাজ চলে গেল এফবিআই- এর হাতে।

যুগে যুগে কিছু ক্ষমতাবান মানুষের স্বার্থরক্ষার মারপ্যাঁচে কত বিশাল সুযোগ থেকেই না বঞ্চিত গোটা মানবজাতি। আর টেসলারের এমন অভাবনীয় সৃষ্টি আর সকল সুযোগ কাজে লাগানো গেলে, পৃথিবীটাও না এগিয়ে যেত কত দূরে!

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status