ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
লাখো কোটি টাকা বছরে ক্ষতি যানজটেই, বিআইডিএসের গবেষণা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 2 December, 2021, 10:57 PM

লাখো কোটি টাকা বছরে ক্ষতি যানজটেই, বিআইডিএসের গবেষণা

লাখো কোটি টাকা বছরে ক্ষতি যানজটেই, বিআইডিএসের গবেষণা

রাজধানী ঢাকার নাগরিকদের সবচেয়ে বড় বিরক্তির কারণ যানজট। একদিকে উন্নয়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে রাস্তায় চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই দুয়ে মিলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে বছরে জিডিপির সরাসরি ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি বাদ দিয়ে বছরে প্রায় লাখো কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে ঢাকার যানজটে। এ ক্ষতি দেশের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশের সমান।

এছাড়া প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাথাপিছু আয়ের ক্ষতি হচ্ছে মাইনাস ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সেই সঙ্গে ঢাকার ওভার প্রবৃদ্ধির কারণে ক্ষতি হয় জিডিপির ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অন্য গবেষণায় বলা হয়েছে, দারিদ্র্য নিরসনের গতিতে দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক গবেষণা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল ‘ঢাকাস ওভার গ্রোথ অ্যান্ড ইস কস্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) পরিচালক আহমেদ আহসান। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এ সম্মেলন হচ্ছে। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১৫টির মতো গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

উপস্থাপনায় আহমেদ আহসান বলেন, একদিকে উন্নয়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে রাস্তায় চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এই দুয়ে মিলে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। দেশের মানুষ যারা শহরে বাস করেন তাদের অধিকাংশ বাস করেন ঢাকায়। দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। প্রধান শহরগুলোতে বাস করে ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে আবার ঢাকায় বাস করে ১১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। এছাড়া ১০ লাখের বেশী মানুষ বাস করে সাড়ে ৩ শতাংশ শহরে। ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর মাত্র ৫টি।

তিনি বলেন, চীনের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৩৮ কোটি। এরমধ্যে শহরে বাস করে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, ১০ লাখের মতো মানুষ বাস করে এমন শহর রয়েছে ১০২টি। ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৩৩ কোটি। এরমধ্যে শহরে বাস করে ৬ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শহরে বাস করে ২ শতাংশ মানুষ। ১০ লাখের বেশী মানুষের শহর রয়েছে ৫৪টি।

পিআরআই পরিচালক বলেন, দেশের উন্নয়নের অধিকাংশ ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় অন্যান্য শহরগুলোতে উন্নয়নের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারেও অন্যান্য শহরগুলো পিছিয়ে আছে।  দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক। কিš‘ উৎপাদন হয় কম। দারিদ্র্য নিরসনের হার শহরে কম, গ্রামে বেশি। এই হার জাতীয় হারের চেয়ে গ্রামে বেশি। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি হারের প্রবৃদ্ধি শহরে কমছে। আগে যেখানে প্রবৃদ্ধির এই হার ১২ শতাংশ ছিল। এখন সেটি কমে ৮ শতাংশ হয়েছে।

আরেক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিআইডিএসের সিনিয়র রির্সাস ফেলো ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, দেশে জাতীয় পর্যায়ে ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে সেটি কমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশে। অন্যদিকে জাতীয় পর্যায় মাথাপিছু ভোগ ২০১০ সালে ছিল এক হাজার ৪৭১ টাকা ৫৪ পয়সা। ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৫০৮ টাকা ৬৪ পয়সা।

এদিকে, অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর দারিদ্র্য পরিস্থিতি নাজুক। ২০১০ সালে এসব জেলায় দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশে। এই হার জাতীয় দারিদ্র্যের হারের তুলনায় বেশি। ২০১০ সালে জাতীয় গড়ের চেয়ে দারিদ্র্যের হার ২ শতাংশ বেশি থাকলেও ২০১৬ সালে এসে এই অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি ছিল ৬ শতাংশের বেশি।

বিআইডিএসের গবেষণার হিসাব বলছে, ছয় বছরে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগের পরিমাণ বাড়েনি বললেই চলে। ফলে এই সময়ে এসে জাতীয় গড়ের সাথে এই অঞ্চলের মানুষের ভোগের পরিমাণের ব্যবধানও বেড়েছে। ২০১০ সালে এই ব্যবধান ছিল ৯৬ টাকা ৯৪ টাকা এবং ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১২৯ টাকা ৬৯ পয়সা।

অপরদিকে দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৬ সালে এই হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে। পূর্বাঞ্চলের এসব জেলার দারিদ্র্য পরিস্থিতি জাতীয় গড়ের তুলনায় ভালো। ছয় বছরের ব্যবধানে এই এলাকায় দারিদ্র্যের হার কমেছেও বেশি গতিতে। জাতীয় গড় মানের তুলনায় পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর নাগরিকরা ভোগেও এগিয়ে রয়েছেন।

২০১০ সালে এই অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু ভোগ ছিল ১ হাজার ৬১৩ টাকা ২২ পয়সা, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৪১ টাকা ৬৮ পয়সা বেশি। ২০১৬ সালে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৮ টাকা ১৯ পয়সায়। এই পরিমাণও ১৮৯ টাকা ৫৫ পয়সা বেশি। ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে এসে এই ভোগের হারের ব্যবধানও বেড়েছে গড় মানের তুলনায়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status