রবিবার, ২৮ নভেম্বর, 2০২1
নতুন সময় ডেস্ক
Published : Saturday, 23 October, 2021 at 11:28 AM
জেমস বন্ড কেন আইফোন ব্যবহার করে না

জেমস বন্ড কেন আইফোন ব্যবহার করে না

দুনিয়া কাঁপানো স্পাই-থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি জেমস বন্ড সিরিজের সর্বশেষ সিনেমা ‘নো টাইম টু ডাই’ সদ্যই হাজির হয়েছে রুপালি পর্দায়। ২০১৯ সালের বদলে ২০২১ সালে মুক্তি পাওয়ার পেছনে লেখক ড্যানি বয়েলের সরে যাওয়া, কভিড-১৯ প্যান্ডেমিক ছাড়াও রয়েছে স্মার্টফোন পার্টনার নকিয়ার সঙ্গে চুক্তির ফলে নতুন করে কিছু দৃশ্য শুট করার চাপ। প্রথম যখন দৃশ্যগুলো শুট করা হয়েছিল, ওই সময়ের নকিয়া স্মার্টফোনের মডেলগুলো এ সময়ে এসে হয়ে গেছে পুরনো, ফলে নতুন ফ্ল্যাগশিপ হাতে বন্ডকে তুলে ধরতে নতুন করে করতে হয়েছে বেশ কিছু শুটিং।

সিনেমাটিতে বন্ডের হাতে থাকবে নকিয়া ৩৩১০, নকিয়া ৭.২ এবং নকিয়া ৮.৩ ফাইভজি। ফোনগুলো এরই মধ্যে হয়ে গেছে কিছুটা পুরনো, ফলে তাদের সর্বশেষ ফোন এক্সআর২০ যুক্ত হয়েছে নতুন বন্ড ফোন হিসেবে। মজার বিষয় হচ্ছে, জেমসের হাতে নয়, বরং এজেন্ট নেয়োমির হাতেই থাকছে সর্বশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি এই মডেল। নকিয়ার দাবি, একজন স্পাইয়ের জন্য এক্স২০ হতে পারে সবচেয়ে কাজের ডিভাইস, কেননা এটি সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে ডাইভিং ও সাঁতারের সময়ও থাকবে সচল। অন্তত চার বছর পর্যন্ত পাবে সুরক্ষার জন্য সফটওয়্যার হালনাগাদের সুবিধা।

এখান থেকে একটি প্রশ্নের জন্ম হয়—বন্ডকে কেন কখনো আইফোন হাতে দেখা যায়নি? বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা এই ফোনগুলো বাদ দিয়ে মাত্র ০.৭ শতাংশ বাজার দখল করা নকিয়া কেন বিশ্বের সেরা স্পাইয়ের হাতে? আসল কারণ খুবই সহজ, অ্যাপলের চেয়ে নকিয়ার এ ব্যাপারে আগ্রহ বেশি, তারাই এই প্লেসমেন্টের জন্য খরচ করতে রাজি হয়েছে। এর পরও কিছু সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ভেবে বের করতে চেষ্টা করেছেন যে স্পাইরা এরূপ প্রচলিত ফোন এলেই ব্যবহার করবেন কি না।

তাঁদের মতে, একজন গুপ্তচরের ফোন কোনোভাবেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি প্রচলিত মডেলের হতে পারে না। বর্তমানে বাজারে থাকা সব অ্যানড্রয়েড ফোনেই আছে লোকেশন ট্র্যাকিং এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহের ফিচার, যা গুপ্তচরদের জন্য হতে পারে চরম হুমকিস্বরূপ। প্রযুক্তি বিষয়ক গণমাধ্যম ‘টেক রাডার’-এর মতে, আইফোনে এরূপ ট্র্যাকিং কম হলেও অ্যানড্রয়েড ফোনের অপারেটিং সিস্টেম কাস্টমাইজ করে সেটা পুরোপুরি বাদ দেওয়া যেতে পারে, যেটা আইফোনে সম্ভব নয়, ফলে শুরুতেই সেটা বাদ। আইফোনের সফটওয়্যার হ্যাক করারও টুলস রয়েছে, যেমন—পেগাসাস, যার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাইলেও অ্যাপলের বাইরে অন্য কেউ নিতে পারবে না।

অ্যানড্রয়েডে অপারেটিং সিস্টেমই গোড়া থেকে তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। জনপ্রিয় মডেলের অ্যানড্রয়েড ডিভাইসগুলোর জন্য নানা রকম হ্যাকিং টুলসও এরই মধ্যে তৈরি করা রয়েছে, ফলে অজনপ্রিয় ফোন ব্যবহারই শ্রেয়। অতএব নকিয়ার মতো ব্র্যান্ডের ফোনকে কাস্টমাইজ করে স্পাই ফোন তৈরি অসম্ভব নয় বলেই দাবি করেছেন তাঁরা। সঙ্গে এ-ও বলেছেন, সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় স্মার্টফোনের বদলে ফিচার ফোন ব্যবহারই হবে সবচেয়ে নিরাপদ, ফলে নকিয়া ৩৩১০ ব্যবহারও অলীক নয়।

সর্বশেষে অ্যানড্রয়েডের সবচেয়ে বড় ফিচার রুট অ্যাকসেস এবং নানা রকম অ্যাপ অ্যাপলের দেওয়া গাইডলাইনের বাইরে তৈরি করেও ইনস্টল করার সুবিধা। অ্যানড্রয়েড ডিভাইসে নানা রকম হ্যাকটুল ও স্পায়িং করার অ্যাপের মধ্যেই রয়েছে, চাইলে তার সঙ্গে বাড়তি হার্ডওয়্যার যেমন এসডিআরও যুক্ত করা যায়, যে কাজটি আইফোনে করা সম্ভব নয় বা করলেও সেটি ব্যবহারের অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করা যাবে না। ফলাফল, স্পাইদের জন্য অ্যানড্রয়েডই শ্রেয়, আইফোন নয়।



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft