বেশি খাওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া, খুবি ছাত্রীর আত্মহত্যা
নতুুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 20 February, 2021, 1:12 PM
বেশি খাওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া, খুবি ছাত্রীর আত্মহত্যা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা আফরিন সুমি (১৯) আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিজ বাসভবনে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। সেখান থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সুমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও নগরীর ফুলবাড়িগেট মিরেরডাঙ্গা এলাকার মোল্যাবাড়ির ইউনুস মোল্যার মেয়ে। স্থানীয়রা জানায়, আফসানা আফরিন সুমি সবার অজান্তে গলায় ফাঁস দেন। আত্মীয়-স্বজন তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত তার মরদেহ খুমেকের লাশ ঘরে রয়েছে। আজ শনিবার তার লাশ দাফন করা হবে।
সুমির বাবা ইউনুস মোল্যা বলেন, ছয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট এবং আদরের মেয়ে সুমি। রোগাক্রান্ত হওয়ায় খাওয়া-দাওয়ার জন্য তার মা প্রতিনিয়ত চাপ দিত। বেশি বেশি খেতে বলত। সেই ক্ষোভে সুমি আত্মহত্যা করতে পারে। তার বন্ধু-বান্ধব তেমন ছিল না। লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকত সুমি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর বাবা লিখিত অভিযোগে বলেছেন খাওয়া-দাওয়া করত না এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া ও কথাকাটি হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থী আজ দুপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আফসানা আফরিন সুমি ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। পরে তার আত্মীয়-স্বজন তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (খুমেক) নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে সহপাঠীরা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের ১ম বর্ষের এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সুমির। সর্বশেষ কিছুদিন আগে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। তা নিয়ে সুমি বেশ হতাশায় ভুগছিল, যেটা তাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। তাই তাদের ধারণা সেই জেরেই সুমি আত্মহত্যা করেছেন।
একইসঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ শেষদিকের স্টোরিতে দেখা যায় ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে নিয়ে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন রকম স্টোরি দিয়েছিলেন। তবে কাউকে কিছু না জানিয়ে আত্মহত্যা করায় তার সহপাঠীরা হতবাক হয়েছেন।