বাগমারায় অবৈধ পুকুর খনন করতে গিয়ে ট্রলি চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু
রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দী ইউনিয়েিনর কনোপাড়া গ্রামের শপশার দিঘীর পাড়ের দক্ষিণে কনোপাড়া সিপজাইট সড়কের দিঘীভাটা এলাকাই আদালতের আদেশ অমান্য করে রাতের আধারে পুকুর খনন করতে গিয়ে এক ট্রলি গাড়িচালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসী ও সরজমীনে গিয়ে জানা যায়, গত রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দী ইউনিয়নের কনোপাড়া গ্রামে খুলুর পুকুরে ভেকু মেশিনে মাটিকেটে ট্রলি (কাঁকড়া) তে নিয়ে আসার সময় মাটি ভর্তি ট্রলি উল্টে গিয়ে এক ট্রলি গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে তার নাম মোহন ।
এলাকার মানুষ জানান কনোপাড়া দিঘীভাটার মালিক মোহন মন্ডল রাতের আধারে ভেকু মেশিন ও ট্রলি মালিকের সাথে চুক্তি করে কনোপাড়া গ্রামরে খুলুর পকুর থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে ট্রলি তে করে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে একটি মাটি বোঝায় ট্রলি শপশার দিঘীর পাড়ের দক্ষিণে কনোপাড়া সিপজাইট সড়কে দূর্ঘটনাবশত ট্রলিটি উল্টে যায়। এতে ট্রলি চালক সড়কের নিচে পরে গিয়ে মারাত্তকভাবে আহত হন, আহত অবস্থায় এলাকার মানুষ চালক মোহন কে বাগমারা হাসপাতালে ভর্তি করে। বাগমারা হাসপাতালের কতর্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। যানা গেছে পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের খোকশা সাতবাড়িঁয়া গ্রামের মৃত হুসেন আলীর ছেলে মোহন (১৮)।
মহোনের মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর এলাকাবাসীকে মর্মাহত করেছে। এ ব্যাপারে বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দী ইউনিয়নের রামরামা জলপইতলা গ্রামের মৃত আকবর আলী মন্ডলের ছেলে ভাটার মালিক মোহন মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কনোপাড়া গ্রামের আঃ সাত্তার প্রাং, মজিবর প্রাং, আবু জাফর প্রাং, আতিকুর রহমান প্রাং সহ প্রায় একশত লোকের রেকোর্ডিয় পুকুর ( খুলুর পুকুর) পাঁচ বছরের জন্য প্রতি বছর ৬৫হাজার টাকা করে সংস্কার করার শর্তে লীজ গ্রহণ করি এবং মাটি কাটার জন্য ভেকু ট্রলি মালিকদের সাথে মৌখিক চুক্তি করে রাতে মাটিকাটা শুরু করি।
মাটিকাটা অবৈধ জেনেও কেন মাটি কাটছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুকুর মালিক ও এলাকার কিছু মানুষের সহযোগিতায় আমি এ মাটি কাটছি।
পুকুরে মাটি কাটা ব্যাপারে পুকুর পাড়ে গিয়ে কনোপাড়া গ্রামের মৃত কাদেরের ছেলে নজরুল অরফে টুপি নজবুল ও তার ভাই গরিবুল্লাহ জানান পুকুর মালিকেরা এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এ পুকুর খনন চলছে বলে তারা জানান। উল্লেখ্য গত ২০১৭ইং সালে ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট জালাল উদ্দিন উজ্জলের রিটের কারনে মহামান্য হাইকোর্ট বাগমারায় সকল ধরনের পুকুর খননের উপর নিষেধাজ্ঞাজারী করেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরকে ভ্রামমান আদালত পরিচালনা করতে আদেশ দেন বলে এডভোকেট জালাল উদ্দিন উজ্জল জানান।
অবৈধ পুকুর খনন করতে গিয়ে একজন গাড়ি চালকের মৃত্যুর ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহাম্মেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রায় সমই আমি ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করছি, গতকালও চারটি ভেকু ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
কনোপাড়া গ্রামে রাতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করা হচ্ছে জানালে উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে কনোপাড়া গ্রামরে আতিকুর রহমান একটি লিখিত আবেদন পাওয়ার কথা শিকার করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পুকুর খননের কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি কেউ পকৃত পুকুর সংস্কার করার আবেদন করে সে ক্ষেত্রে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গাড়ি চালক মৃত মোহন মোহনের লাশ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতাউর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। যেহেতু গাড়ি উল্টে চালক মারা গিয়েছে এ ব্যাপারে পরিবারের কেউ অভিযোগ না করায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।