কয়েক দিনের উত্তেজনার পর গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি, শনিবারও বন্ধ পোশাক কারখানা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Saturday, 7 November, 2026, 2:25 PM
কয়েক দিনের উত্তেজনার পর গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে স্বস্তি, শনিবারও বন্ধ পোশাক কারখানা
টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আপাতত শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ও আজ শনিবার (৭ নভেম্বরও) কোথাও নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্কাবস্থানে রয়েছেন।
সাপ্তাহিক ছুটির কারণে শুক্রবার গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। এর বাইরে উৎপাদনের চাপ থাকায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু ছিল। আজ শনিবার সংহতি দিবস উপলক্ষেও কারখানাগুলো ছুটির আওতায় রয়েছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শুক্রবার অধিকাংশ কারখানা সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ ছিল। তবে উৎপাদনের প্রয়োজন থাকায় কিছু কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের ভিত্তিতে কাজ হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, শনিবার (৭ নভেম্বর) বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সতর্ক থাকবে।
তৌফিকের স্মরণে দোয়া মাহফিল এদিকে শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার বিকেলে চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মী এবং এবি পার্টির নেতারা এতে অংশ নেন। আয়োজকদের দাবি, পুলিশি বাধার কারণে চৌরাস্তার নির্ধারিত স্থানে না গিয়ে সড়কের পাশেই কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে।
দোয়া মাহফিল শেষে আলী নাছের খান শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দাবি করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে এসব বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যে সড়কে তৌফিক নিহত হয়েছেন, সেটির নাম তাঁর নামে করার পাশাপাশি আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আগামী তিন দিনের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে শ্রমিকদের নতুন করে আন্দোলনে নামার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শুরু উত্তেজনা শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দফায় টানা ৬দিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এরই মধ্যে বাংলাবাজার এলাকায় আন্দোলনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হন পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তৌফিকের মৃত্যুর পর শ্রমিক অসন্তোষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কয়েক দিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সহিংসতার পর শুক্র ও শনিবার নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় শিল্পাঞ্চলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত মজুরি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা গেলে শিল্পাঞ্চলে স্থায়ীভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।