ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: জাবেদসহ ৩৬ আসামির মামলায় সাক্ষ্য ৫১ জনের
মো. মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: Tuesday, 22 September, 2026, 12:05 PM
ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: জাবেদসহ ৩৬ আসামির মামলায় সাক্ষ্য ৫১ জনের
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৫১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে দুদকের পক্ষে উপস্থাপিত ছয় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার মামলার ছয় সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জেরা করেন। সাক্ষ্য ও জেরা—দুই প্রক্রিয়াই শেষ হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান। গত ৫ জানুয়ারি তিনি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে মোট ৩৬ জনকে আসামি এবং ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
যেভাবে ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ‘ভিশন ট্রেডিং’-এর মালিক হিসেবে দেখানো হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।
দুদকের দাবি, ঋণের টাকা পরবর্তীতে জাবেদের কর্মচারীদের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। এরপর হুন্ডির মাধ্যমে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় যাঁরা আসামি মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী রয়েছেন।
এ ছাড়া ইউসিবিএলের সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী, তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউনুছ আহমদ, হাজী আবু কালাম ও নুরুল ইসলাম চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে। রয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীও।
ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যেও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, আবদুল হামিদ চৌধুরী, আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান, মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন ও বজল আহমেদ বাবুল রয়েছেন।
জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী, ইয়াছিনুর রহমান, ইউছুফ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম, এজিএম উৎপল পাল, প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, মো. জাহিদ, মো. শহীদ, মো. সুমন, ইলিয়াস তালুকদার ও ওসমান তালুকদার রয়েছেন।
মামলার শুরু যেভাবে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে দুদক। পরে তদন্তে আরও সাতজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁদের আসামি করা হয়। ফলে অভিযোগপত্রে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ জনে।
তদন্তে থাকা ৩১ আসামির মধ্যে দুজন মারা যাওয়ায় তাঁদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম।
অভিযোগপত্রে মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আবারও মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে।