ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 13 August, 2026, 12:41 PM

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দিল জামায়াত জোট

রাষ্ট্রপতি পদে লড়তে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা, ঢাকা ১৫ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হিসেবে এনসিপির সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনের নাম রয়েছে।

মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। দুই দফায় খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

তবে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ছাড়েন অলি। ওই বছর ২৬ অক্টোবর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি। তবে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০০৭ সালে বিকল্প ধারা ও এলডিপি আলাদা হয়ে যায়।

শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকলেও পরে বিএনপির জোটভুক্ত হয় এলডিপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধনি ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করেন অলি।

তবে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর নতুন মেরুকরণে বিএনপির সঙ্গে অলির বনিবনা হচ্ছিল না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তার এলডিপি যখন জামায়াত জোটে যোগ দিল, অনেকেই তখন বিস্মিত হয়েছিলেন।

প্রথমে বিএনপি এবং পরে এলডিপি থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনটি অলি আহমদের নিজস্ব আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। এলডিপি ১১ দলীয় ঐক্যে যোগ দেওয়ার পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে প্রার্থী করা হয় অলির ছেলে ওমর ফারুককে। তবে ভোটের লড়াইয়ে তিনি বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের কাছে পরাজিত হন।

তফসিল

বাংলাদেশের বাইশতম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন গত ৬ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল: ১৩ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।মনোনয়নপত্র যাচাই: ১৬ অগাস্ট সকাল ১০টা থেকে বাছাই পযন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ১৮ অগাস্ট বিকাল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।ভোট: ২০ অগাস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষ)।

সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।

কেন প্রার্থী দিল জামায়াত জোট?

বিএনপির দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে, এটা নিশ্চিত।

তারপরও অলি আহমদকে মনোনীত করার বিষয়ে ৯ অগাস্ট সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে, আমাদের দায়িত্ব হিসেবে, আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমাদের মধ্যে সর্বসম্মতভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দিয়েছি।”

নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সোমবার বলেছেন, “গণতন্ত্রের জন্য একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন এবং আমরা দেশবাসীকে রাজনৈতিক অবস্থানটাও জানান দিতে চাই।”

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অভিভাবক হিসেবে অলি আহমদ সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবেন বলে দাবি করেন তিনি।

৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, “তার পরেও যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে, এটাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিতে চাই না। আমরা সে কারণে বিরোধী দলের জায়গা থেকে প্রার্থী দিয়েছি।”

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ওই বিধান কার্যকর হবে জানিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। যদি কেউ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।”


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status