ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৭ জুন ২০২৬ ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলায় ২৬ দিনের মাথায় রায়, আসামি মনিরের যাবজ্জীবন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 17 June, 2026, 4:44 PM

চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলায় ২৬ দিনের মাথায় রায়, আসামি মনিরের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলায় ২৬ দিনের মাথায় রায়, আসামি মনিরের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই মামলায় মোট ৫ কার্যদিবসে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা হল।

মামলার আসামি ৩২ বছর বয়সি মনিরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে। চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন তিনি।

২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। তারা বলে, তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে চায়।

দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।

সেদিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলায় ২২ মে বিকেলে মনির হোসেনকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার হলে তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া সে সময় বলেছিলেন, ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেস কারখানায়। সেসময় শিশুটি তার নানির সাথে ছিল। এ সুযোগে মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করে।

দুই সপ্তাহ তদন্তের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয় ।

চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

তিন কার্য দিবসে মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সোমবার আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামি মনির হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।

সবশেষ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status