ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 28 April, 2026, 4:02 PM

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কী?

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং কী?

কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথমবারের মতো ফুয়েল লোডিং শুরু হচ্ছে। এটি একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, পারমাণবিক জ্বালানি আসলে কেমন? এই ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি লোডিং আসলে কি?

রূপপুরের চুল্লিতে জ্বালানি লোড করার মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা। মাত্র কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়াম থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব, তার জন্য প্রয়োজন হয় কয়েক টন কয়লা। অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার ফিশন প্রযুক্তিতে এই জ্বালানি ব্যবহার করে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদায় বিপ্লব আনা হবে।

এই ফুয়েল বা জ্বালানি বলতে পারমাণবিক জ্বালানি অর্থাৎ ইউরেনিয়ামকে বোঝায়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাধারণত স্বল্পমাত্রায় পরিশোধিত ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। ফুয়েল লোডিং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ পর্যায় থেকে উৎপাদন পর্যায়ে উত্তরণেরই ইঙ্গিত।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. শৌকত আকবর বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং একটি বড় মাইলফলক। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম ধাপ, যা নির্মাণ পর্যায় থেকে কার্যক্রম শুরুর দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, ফুয়েল লোড করা মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং এটি একটি সূক্ষ্ম ও দীর্ঘ কারিগরি প্রক্রিয়ার শুরু। জ্বালানি লোড করার পর রিঅ্যাক্টরের ভেতরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও টেকসই চেইন রিঅ্যাকশন বা ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু করা হয়। একে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি। শুরুতে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ ক্ষমতার মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ স্তরে রেখে নিউক্লিয়ার ফিজিকসের প্যারামিটারগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর রিঅ্যাক্টর। এখানেই ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোড করা হবে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মূলত ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’ বা নিউক্লিয়াস বিভাজন প্রক্রিয়ায় কাজ করবে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয়। এ তাপশক্তি দিয়ে পানিকে উচ্চচাপে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘোরানো হয়, যা থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত চেইন রিঅ্যাকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলে।

রিঅ্যাক্টরের ডিজাইন (ভিভিআর-১২০০) অনুযায়ী, ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করতে হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩০ দিন। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুসরণ করে করতে হয় এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ। এ পর্যায়ে ডিজাইন অনুযায়ী নিউক্লিয়ার ফিশন রিঅ্যাকশন ঘটানো হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে, যার জন্য প্রায় ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন হয়। পরীক্ষা শেষে রিঅ্যাক্টরের সক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% এ উন্নীত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে ৪০ দিন। 

রিঅ্যাক্টরের পাওয়ার ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি চলবে নিরাপত্তাবিষয়ক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব মিলে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক অপারেশন শুরুর পর রিঅ্যাক্টর ৯০ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে পুরোদমে চলতে শুরু করবে। টানা ১৮ মাস চলার পর ফুয়েল রিপ্লেসমেন্টসহ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে আবারো ১৮ মাসের সাইকেল নতুন করে শুরু হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status