|
সকালে রিমান্ড, বিকেলে জামিন, সন্ধ্যায় মুক্তি সুরভীর
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() সকালে রিমান্ড, বিকেলে জামিন, সন্ধ্যায় মুক্তি সুরভীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সুরভীর আইনজীবী ও গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কামাল। তিনি জানান, দুপুরে আদালতের দেয়া দুই দিনের রিমান্ড আবেদনের বিরুদ্ধে আমরা দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করি। পরে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুইদিনের রিমান্ড আদেশ বাতিল করেন এবং আমার জিম্মায় আসামির চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। তারও আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে। গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী শুনানি শেষে আসামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। একটি চাঁদাবাজির মামলায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে, সুরভীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে এই রিমান্ড ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা। গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সুরভীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। টঙ্গী এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর ঘুমন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ সুরভীকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নাঈমুর রহমান দুর্জয় নামে এক সাংবাদিক কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে বারোটার দিকে গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী নিজ বাসা থেকে সুরভিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে সুরভী গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। বাদী নাঈমুর রহমান দুর্জয় ঢাকার বাসাবো শাহীবাগ এলাকার সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি এজাহারে নিজেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। অপরদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার বাদীর একাধিক অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে শুনা যায়, বাদী গ্রেপ্তার জুলাই যোদ্ধা সুরভীকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই অডিও শেয়ার করে অনেক জুলাইযোদ্ধা দাবি করেছেন, সুরভী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। সোমবার সুরভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে সকাল থেকেই জুলাই যোদ্ধারা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তারা সুরভীর নিঃশর্ত মুক্তি ও রিমান্ড বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় পরিকল্পিতভাবে নির্দোষ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ফাঁসানো হয়েছে। গভীর রাতে বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বয়সের বিষয়টি গোপন করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই কায়দায় আজ তাকে হয়রানীমূলকভাবে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করায়। পুলিশ গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করে সুরভীর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন অ্যাডভোকেট কামাল বলেন, আমরা আদালতের আদেশটি রিভিউ চাইবো এবং চেষ্টা করব আজকে রিমান্ড বাতিল করে আগামীকাল যাবেন শুনানি করার জন্য। তিনি বলেন সুরভীর বয়স ১৭ বছরের একটু বেশি কিন্তু ১৮ বছর হয়নি। তাই এ বিষয়গুলি আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বয়স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’ গ্রেপ্তারের ১১ দিন পরও আসামির প্রকৃত বয়স যাচাই না করার বিষয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, এজাহারে বয়স ২১ বছর উল্লেখ থাকায় তারা আলাদা করে খোঁজ নেননি। তবে এখন বিতর্ক ওঠায় আসামির পরিবারের কাছে জন্মনিবন্ধন চাওয়া হয়েছে এবং তা অনলাইনে যাচাই করা হবে। গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির একজন আইনজীবী জানান, ‘পুলিশ প্রতিবেদনে বয়স যা উল্লেখ করে, আদালত সাধারণত তার ভিত্তিতেই আদেশ দেন। বয়স কম হওয়ার বিষয়টি সম্ভবত আদালতের নজরে আনা হয়নি। এখন উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন করলে রিমান্ড বাতিল ও জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’ এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি আমি দায়িত্ব নেয়ার আগের। বিষয়টি আমি জেনেছি। কোনও ধরনের অবিচার যেন না হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটি দেখব। আশা করছি একটি ন্যায় সংগত সমাধান হবে।’
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
