|
ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অটো পাসের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ওপর হামলা
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষে অটো পাসের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ওপর হামলা বুধবার (২১মে) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আতাউর রহমান বিষয়টি নতুন সময়কে নিশ্চিত করেছেন। পরিচালক মোস্তাফিজুর ও প্রক্টর আতাউর রহমান বলেন, উপাচার্য আমানুল্লাহ দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে গাড়ি থেকে নামেন। এ সময় স্নাতক পাস কোর্সের তৃতীয় বর্ষের ২০২২ ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা এক বিষয়ে অটো পাসের দাবিতে বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তাঁকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশেও বাঁধা দিয়ে উপাচার্যের গাড়ীর সামনে শুয়ে পড়ে উপাচার্যকে প্রবেশে বাঁধা দেন। পরে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হয় উপাচার্য স্যারকে। তাঁদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কিছু ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতকারী অসৎ উদ্দেশ্যে উপাচার্যের ওপর ভবনের গেটের সামনে হামলা করেন। এতে তিনি কিছুটা আহত হন। এ ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, ২০২২ সালের স্নাতক পাস কোর্সের ছাত্রছাত্রীরা অটো পাসের দাবিতে কয়েক মাস আগ থেকে পর্যায়ক্রমে বহুবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করছিলেন। কিন্তু অটো পাস না দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে ৬৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, করোনা মহামারি ও অন্যান্য রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা বিবেচনা করে এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইতিমধ্যে গ্রেস মার্ক দিয়ে পাস করানো হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগও দেওয়া হয়েছে, যার ফল এ মাসেই বের হবে। কিন্তু বিভিন্ন মহলের উসকানির পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যাচের কিছুসংখ্যক অকৃতকার্য শিক্ষার্থী আবার অটো পাসের দাবি নিয়ে এসে আজ হঠাৎ করে উপাচার্যের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালান। জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোস্তাফিজুর প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার অটো পাস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেবে না। আজকের এই ন্যক্কারজনক হামলার ব্যাপারে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে স্থানীয় গাছা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে শিক্ষার্থীরাও পাল্টা নানা অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমানুল্লার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি কল রিসিভড না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশের একটি সুত্র জানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
