|
ঢাকার এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে কেন বাড়ছে দুর্ঘটনা, কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ঢাকার এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে কেন বাড়ছে দুর্ঘটনা, কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় কয়েক দিন আগের ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা অনেকেরই মনে আছে নিশ্চয়। দুঃসহ সেই ঘটনায় সন্তানের পাশাপাশি স্ত্রীকেও হারিয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী সুমন। সেই স্মৃতি প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায় সুমন মিয়ার পুরো পরিবারকে। দুর্ঘটনার পর জানা গেছে, ঘাতক বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ পেরিয়েছিল দুবছর আগেই। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সেই দুর্ঘটনার ভুক্তভোগী আরও অনেকে। ব্যক্তিগত গাড়িটিতে থাকা ৪ যাত্রীও সেদিন নিহত হন। এই এক এক্সপ্রেসওয়েতে এমন অন্তত হাজারখানেক দুর্ঘটনার সাক্ষী ওই এলাকার বহু মানুষ। এছাড়া গেল বছর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন। গেল ডিসেম্বরে ৩০০ ফিট সড়কে প্রাণ গেছে ১০ জনের। সড়ক বিভাগের তথ্য হলো, ২০২২ সালে চালুর পর থেকে কেবল মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪০ জনের। দুর্ঘটনা আর প্রাণহানির দিক দিয়ে এগিয়ে আছে তিনশো ফিট সড়কও। গত পাঁচ বছরে এই সড়কে মারা গেছেন ৭৪ জন। অন্যদিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও দুর্ঘটনার সংখ্যা অন্তত ১০টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রায় ৯০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ উচ্চ গতি। সড়কে সবোর্চ্চ গতিসীমা উল্লেখ থাকা, সার্বক্ষণিক স্পিড ক্যামেরার তদারকিও কোনোভাবেই যেন কমাতে পারছে না গতির পাল্লা। এমনকি পুলিশের তদারকিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর পথও রপ্ত করেছেন তারা। মুন্সিগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল কাদের জিলানী সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের পুলিশের গাড়ি দেখলে চালকরা গতি কমিয়ে দেন। আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলে গতি আবার বাড়িয়ে দেয়।’ পুলিশের অ্যাকসিডেন্ট রিপোর্ট ফরমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে ৯৫ ভাগের বেশি দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া চালনা আর অতিরিক্ত গতি। আর প্রায় ৪৪ শতাংশ সড়কের মৃত্যুর জন্য দায়ী এসব দুর্ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মত হলো, এসব দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্পে নেই। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক ড. এম হাদিউজ্জামান বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থামানোর কোনো সুযোগ নেই। এমন পদ্ধতি করতে হবে, যেটাতে ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে গাড়ির নম্বর প্লেটটা পড়ে ফেলা যাবে এবং সে বাড়িতে যাওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা চলে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করতে গিয়েও পরিকল্পনায় কিছু ত্রুটি করে ফেলেছি। বাস-বে’তে বাস না থামিয়ে মূল সড়কের উপরে এক্সপ্রেসওয়েতে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে।’ বলা হয়ে থাকে সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সেই হিসেবে সড়কে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে উদ্যোগী হতে হবে সব পক্ষকে। সাম্প্রতিক সময় |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
