|
ব্যবসার আড়ালে বছরে হাজার কোটি টাকা পাচার করে ড্যাজেল এর দিদারুল!
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
|
ব্যবসার আড়ালে বছরে হাজার কোটি টাকা পাচার করে ড্যাজেল এর দিদারুল! দেশের মোবাইল ফোন বাজারে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠন ও বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে মোবাইল ব্র্যান্ড ‘ড্যাজেল’-এর মালিক দিদারুল ইসলাম খান। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধ হুন্ডি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি বছরে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে উঠে আসা দিদারুল রাজধানীর বিলাসবহুল শপিং মলগুলোতে ৯টি বড় শোরুমের মালিক হন। বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ প্রতিটি শোরুমের মূল্য ৫ থেকে ১২ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এত অল্প সময়ে তার ব্যবসা-বৃদ্ধি ঘিরে প্রশ্ন উঠতেই শুরু হয় বিভিন্ন সংস্থার নজরদারি। তদন্তসংশ্লিষ্ট জানান, দিদারুলের এই বিত্তবৈভবের নেপথ্যে ছিলেন কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য আরশাদুল আলম বাচ্চু। বাচ্চুর বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাও রয়েছে। মামলায় চট্টগ্রামের চকবাজার থানাধীন সেন্টাল প্লাজা মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান অস্ত্রের মুখে দখল করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী অফিস করে টর্চারসেল করার অভিযোগ করা হয় সেই মামলার বাদি মোস্তফা আলম কিশোর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পর বাচ্চু দুবাইয়ে পালিয়ে গেলে দিদারুল নিয়মিত দুবাই সফর শুরু করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাচার করা অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তিনি নেন। মোবাইল ব্যবসার আড়ালে বছরে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকার মোবাইল ফোন দুবাই ও ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসে। এসব পণ্যের দাম পরিশোধ করা হয় সম্পূর্ণ হুন্ডির মাধ্যমে। এতে সরকার বছরে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা। একটি সূত্র জানায়, অধিকাংশ মোবাইল খোলা বক্সে দেশে আনা হয় এবং পরে ড্যাজেলের কর্মীরা পুনরায় প্যাকেটজাত করে ‘ইনট্যাক্ট’ ফোন হিসেবে বিক্রি করেন। এমনকি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহৃত বা রিফারবিশড ফোন নতুন হিসেবে চালানো হয় এমন অভিযোগও রয়েছে। সরকারের এনইআইআর (মোবাইল নিবন্ধন ব্যবস্থা) চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দিদারুল দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে উস্কানি, অন্যদিকে নিজে গোপনে এনবিআর ও বিটিআরসি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বৈধ আমদানির লাইসেন্স পাওয়ার চেষ্টা এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বিতর্কিত রয়েছে ‘ড্যাজেল কেয়ার প্লাস’ নামের একটি ইন্স্যুরেন্স সার্ভিস। গ্রাহকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিক্রয়কর্মীদের সনদপত্র আটকে রাখার অভিযোগও কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। জীবনযাপনে বিলাসী দিদারুল বিএমডব্লিউ এক্স–৫ ও হ্যারিয়ারসহ একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহার করেন। ইউরোপের দুই দেশে নাগরিকত্ব কেনার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে। তার পরিবার যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে প্রস্তুত এমন তথ্যও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে দিদারুল ইসলাম খানের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
