বাইসাইকেলে ফেরী করে হরেক মালামাল বিক্রি- পরিশ্রমে সাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত মোঃ আসলাম আলী
এ এইচ অনিক
প্রকাশ: Saturday, 29 November, 2025, 4:48 PM
বাইসাইকেলে ফেরী করে হরেক মালামাল বিক্রি- পরিশ্রমে সাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত মোঃ আসলাম আলী
চুয়াডাঙ্গা জেলার কুড়োলগাছি গ্রামের সন্তান মোঃ আসলাম আলী আজ এলাকার মানুষের অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন স্বাবলম্বী ব্যবসায়ী হিসেবে। বাই সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নানান প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আর এই পথটাই আজ তাকে এনে দিয়েছে আত্মমর্যাদা, সম্মান এবং সাফল্য।
মোঃ আসলাম আলী জানান, তার জন্ম চুয়াডাঙ্গায় হলেও বেড়ে ওঠা গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভাঙ্গার হাট এলাকায়। তার বাবা একই পেশায় যুক্ত ছিলেন। বাবাকে দেখে দেখে ছোটবেলা থেকেই তিনি বুঝেছিলেন—পরিশ্রমই জীবনে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি। আর সেই পথ ধরেই তিনি প্রায় দশ বছর ধরে ফেরীভিত্তিক এই ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতা বাজারে ঘর ভাড়া করে থাকেন। ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের পুরনো সাইকেলে বোঝাই করে নেন প্লাস্টিকের বালতি, বাটি, জগ, প্লেট, জালি, চামচ, ঢাকনা, কড়াই সহ নানান ধরনের গৃহস্থালী পণ্য। তারপর একের পর এক গ্রাম পাড়ি দিতে থাকেন, যেমন সাতলা, বাগধা, আমবৈলা, নাগরা, চান্দো, চক্রীবাড়ি, পটিবাড়ি, হারতা, বিশারকান্ধী, শিবপুর, নয়াকান্দী, আশকোর, কালবিলা সহ আশপাশের গ্রামগুলোতে নিয়মিত পৌঁছে দেন তার হরেক রকমের পণ্য।
স্থানীয়দের দরজায় দরজায় গিয়ে তিনি শুধু মালামাল বিক্রিই করেন না, বরং মানুষের সঙ্গে গড়ে তোলেন এক আন্তরিক সম্পর্ক। তার হাসিমুখ, ভদ্র ব্যবহার ও সৎ ব্যবসায়ী মনোভাব তাকে মানুষের কাছে এক বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।
আসলাম আলী বলেন,“বাবা সারা জীবন পরিশ্রম করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মালামাল বিক্রি করেছেন। তার শিক্ষা থেকেই আমি এই পেশা বেছে নিয়েছি। পরিশ্রম করলে আল্লাহ্ কখনো কাউকে নিরাশ করেন না। আজ আমি নিজের উপার্জনে চলছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব।”
একসময় জীবন–সংগ্রামে জর্জরিত এই মানুষটি আজ নিজের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গ্রামবাংলার এমন সংগ্রামী মানুষগুলোই প্রমাণ করে—সুযোগ নয়, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমই একজন মানুষকে গড়ে তোলে তার প্রকৃত উচ্চতায়।