ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪ ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
অবৈধ পণ্যে ঠাসা বড় বড় বিপণিবিতান, বিএসটিআই করছে কী?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 25 June, 2024, 10:14 PM

অবৈধ পণ্যে ঠাসা বড় বড় বিপণিবিতান, বিএসটিআই করছে কী?

অবৈধ পণ্যে ঠাসা বড় বড় বিপণিবিতান, বিএসটিআই করছে কী?

রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাস শপিং কমপ্লেক্স থেকে সম্প্রতি একটি বিদেশি পারফিউম কিনেছিলেন আদিলুর রহমান। বাসায় ফিরে স্প্রে করে দেখেন তরল স্প্রের বদলে ফেনা ফেনা জমাট বাধা পদার্থ বের হচ্ছে পারফিউমের বোতল থেকে। পণ্যের মেয়াদ থাকার পরেও কেন এমন অবস্থা- স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে আদিলুর রহমানের মনে।


শুধু আদিলুর রহমান না, রাজধানীর বড় বড় বিপণিবিতান থেকে পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ার এমন অনেক উদহারণ আছে। যারা পণ্য কিনে এভাবে প্রতারিত হয়েছেন, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিদেশি পণ্য হিসেবে বিক্রি করা এসব প্রসাধনী এবং খাদ্যপণ্যে নেই কোনো সার্টিফিকেশন মার্কস।
 
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আইন-২০১৮ এর ইনস্টিটিউশনের কার্যাবলিতে বলা আছে, স্থানীয় ব্যবহার, রফতানি বা আমদানি, যাই হোক না কেন, পণ্যসামগ্রী, মালামাল, উৎপাদিত পণ্য এবং খাদ্যসামগ্রীসহ অন্যান্য দ্রব্যের গুণগতমান প্রত্যয়ন করা বিএসটিআইয়ের অন্যতম কাজ।
 
কিন্তু সরেজমিনে রাজধানীর ডিএনসিসির গুলশান-১,২ এর মার্কেট, হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালিব প্লাজা, শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাস, কর্ণফুলি শপিং সেন্টার, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি শপিং সেন্টারের নানা দোকান ঘুরে দেখা যায়, এসব মার্কেটের বিদেশি খাদ্যপণ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীতে নেই কোনো আমদানির সার্টিফিকেশন মার্কস।
 
পণ্যে আমদানি সার্টিফিকেশন মার্কস না থাকায় এসব পণ্য আদৌ আসল কিনা বা ব্যবহার নিরাপদ কিনা সে বিষয়ে নেই কোনো নিশ্চয়তা। অন্যান্য অনুমোদিত পণ্যের তুলনায় এসব পণ্যের দাম কম হওয়ায় ভোক্তারা এদিকে ঝুঁকলেও, থেকে যাচ্ছে বড় রকমের ঝুঁকি এবং প্রায়ই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন তারা।
 
ইস্টার্ন প্লাজা শপিং কমপ্লেক্সের নিচতালার কসমেটিকস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগ মালামাল আসে লাগেজ পার্টির মাধ্যমে। লাগেজের মাধ্যমে যে ধরনের মালামাল আসছে; একদিকে তা আসল হলেও বাজারে প্রবেশ করছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে। অন্যদিকে আদৌ তা আসল কিনা তা যাচাই-বাছাই করার থাকছে না কোনো উপায়।
 
একইভাবে ডিএনসিসির দোকানগুলোতে ঢালাওভাবে ভারতীয় খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হলেও, সেগুলোর মান কেমন, শরীরের জন্য আদৌ ভালো কিনা, প্যাকেটের গায়ে যা মেয়াদ লেখা আছে তা কতটা ঠিক- এসব ব্যাপারে থেকে যাচ্ছে বড় ধরনের সন্দেহ।
 
এ প্রসঙ্গে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান সময় সংবাদকে বলেন, অনেকে জানেনই না বিদেশি এসব পণ্যের মান প্রত্যয়নের দায়িত্ব বিএসটিআইয়ের। লাগেজ পার্টির মাধ্যমে যেসব পণ্য আসে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ থাকে এবং পরবর্তীতে পুরানো মেয়াদ তুলে নতুন মেয়াদ লাগানো হয়। সার্টিফিকেশন মার্কস না থাকায় এসব পণ্য ব্যবহার একেবারেই নিরাপদ না।

 
বিএসটিআইয়ের নাকের ডগায় এতসব হওয়ার পরেও এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি কী করছে তা জানতে মহাপরিচালক এসএম ফেরদৌস আলমের সঙ্গে টানা ৯ দিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মোবাইলে দুবার এসএমএস দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
 
তিনবার বিএসটিআই মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথমবার তিনি জানান, ফেরদৌস আলম ঢাকার বাইরে আছেন। দ্বিতীয় দফায় জানান, তিনি অফিশিয়াল ট্যুরে আছেন এবং শেষ দফায় জানান, তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত আছেন।
 
পরবর্তীতে বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সময় সংবাদকে তিনি বলেন, ‘আমার অবসরের সময় ঘনিয়ে আসছে, তাই এ বিষয়গুলো নিয়ে বাড়তি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। এ মূহূর্তে আমি ঢাকার বাইরে যাচ্ছি, পরে কথা বলব।’
 
পরে আবার রিয়াজুল হককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সময় সংবাদের প্রতিবেদকে তিনি বলেন, 'ভাই আমি হজ করতে যাচ্ছি। এ নিয়ে এখন আর কোনো কথা বলব না। আমার জন্য দোয়া করবেন।'
 
এতদিন জিঞ্জিরা বা কেরানীগঞ্জের মতো জায়গায় এ ধরনের পণ্য তৈরি ও বেচাকেনার নানা ধরনের খবর এলেও, গুলশান-শান্তিনগরের মতো রাজধানীর অভিজাত ও প্রাণকেন্দ্রগুলোতে কীভাবে হরহামেশা এসব পণ্য বাজারজাত হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের পরিচালক নূরুল আমিন সময় সংবাদকে বলেন, 'আসলে লাগেজের মাধ্যমে এসব পণ্য এনে বিক্রি করা হচ্ছে। গুলশান-বনানীর নানা সুপারশপে আমরা অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানার আওতায় এনেছি। আপনি আমাদের তথ্য দিন। সে হিসাবে আমরা আবার অভিযান চালাব।'
 
বিএসটিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের হাতে এসব অবৈধ পণ্যের তথ্য নেই- এটিকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর সময় সংবাদকে বলেন, বিএসটিআইয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তাদের লোকবল সংকট থেকে শুরু করে নানা ধরনের সংকীর্ণতার মধ্য দিয়ে চলতে হয়।
 
তবে লাগেজ পার্টির এসব পণ্যের বাজারজাত রুখতে শুধু বিএসটিআই না; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগেরও বড় একটি দায় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএসটিআইয়ের উচিত কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করা। তাহলে তাদের কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। এতে করে একদিকে লাগেজে আসা পণ্যের পরিমাণ কমে যাবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতে পারলে এসব অবৈধ পণ্যের চাহিদাও কমে যাবে।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status