ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪ ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
আঁতকে উঠবেন না ডক্টর ইউনুস!
সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী
প্রকাশ: Sunday, 23 June, 2024, 4:49 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 23 June, 2024, 7:23 PM

আঁতকে উঠবেন না ডক্টর ইউনুস!

আঁতকে উঠবেন না ডক্টর ইউনুস!

ছবিটা দেখে আঁতকে উঠবেন না, ডক্টর ইউনুস প্লিজ! আপনি ভাবছেন, যে কাগজ সম্বলিত ফাইল আপনি নরওয়ে সরকারের দাতা প্রতিষ্ঠান ‘নোরাড’- এর হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন অনেক বছর আগে, এটা আমাদের কাছে এলো কীভাবে। তাই না? আমরা অনুসন্ধানী সাংবাদিক। ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই করতে পারি। আপনার অতীত কর্মের বহু প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। যেহেতু আপনি সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে একটা সাজানো সাক্ষাৎকার দিয়ে কিছু তথ্য গোপন আর কিছু সত্যকে অসত্যের শাক দিয়ে ঢাকার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন, তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা এবার আপনার অনেক গোপন তথ্য জনসম্মুখে ফাঁস করলে আশাকরি ভুল হবেনা।

রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আপনি অনাথ আশ্রমের অর্থ তশ্রুপের অপরাধে সশ্রম কারাভোগরত খালেদা জিয়া এবং ওনার দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী পুত্র তারেক রহমানের পক্ষে সাফাই গেয়ে তাঁদেরকে শেখ হাসিনা সরকারের ভিক্টিম হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালিয়েছেন কোন কারণে এটা আমরা জানি। কারণ, গ্রামীণ ব্যাংককে দেয়া `নোরাড’-এর এক’শো কোটি ডলার অনুদান আপনি গোপনে গ্রামীণ কল্যানসহ আরো কিছু পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে অন্যায়ভাবে সরিয়ে নেন, যা তহবিল তশ্রুপের পর্যায়ে পড়ে। একটা প্রবাদ আছে – সুরির সাক্ষী মাতাল। ঠিক একই কাজ করে প্রমাণ করলেন  আপনিও ওদেরই গোত্রীয়।

আঁতকে উঠবেন না ডক্টর ইউনুস!

আঁতকে উঠবেন না ডক্টর ইউনুস!


‘নোরাড’ -এর অনুদানের টাকা চুরি করার ঘটনা যখন সামনে চলে আসে, তখন আপনি তড়িঘড়ি করে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্তাব্যক্তিকে এপ্রিল ১, ১৯৯৮ তারিখে পাঠানো একটা চিঠিতে বলেন – “ডিয়ার টোভ, আই নিড ইওর হেল্প” (প্রিয় টোভ, আমি  তোমার সাহায্য চাই)। ওই চিঠিতে আপনি বলেছেন, গ্রামীণ ব্রাংকের তহবিল থেকে টাকা সরিয়ে নেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুদ্র ঋন বিরোধীরা এটার সুযোগ নেবে।

সাবাস ডক্টর ইউনুস! নিজের অপকর্ম ঢাকতে এভাবে চিঠি দেয়ার সময় আপনার বিবেক একটুও বাঁধা দেয়নি? ওহ, ভুলে গেছি। বিবেক নামের বিষয়টা আপনার মাঝে কখনোই ছিলো না – এখনও নেই।

ক্লিনটন পরিবারকে লাখলাখ ডলার ডোনেশন দিয়ে ওদের ক্রমাগত চেষ্টায় অর্ধেক নোবেল পুরষ্কার হাতিয়ে নেয়ার পর আপনি নিজেকে মহামানব ভাবছেন এবং ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। আপনার বিবেক একবারও টোকা দেয়না – অন্যের দয়া-দাক্ষিন্যে পাওয়া পুরষ্কার আদতে সম্মান নয়। এটা কলঙ্ক। আপনার অনুগত কিছু লোক আকারে-ইঙ্গিতে বহুবার বোঝাতে চেয়েছে, আপনার সমালোচনা করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্যতা নেই। এক্ষেত্রে আমি বলবো, শেখ হাসিনা অবশ্যই একদিন নোবেল পুরষ্কার পাবেন, বারো লাখের বেশী রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে ওদের জীবন রক্ষার মতো মহৎ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে। আর এটা পেতে ওনার কারো দয়া-দাক্ষিণ্যের প্রয়োজন হবেনা একদম।

 আপনি এবং আপনার অনুগত বাহিনী হয়তো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবে - বারো লাখের বেশী রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে ওদের জীবন রক্ষার ঘটনা তো ২০১৭ সালের। আজ অব্দি তাহলে শেখ হাসিনা নোবেল পুরষ্কার পেলেন না কেনো! উত্তরে আমাকে বলতেই হবে, এটা আমাদের সবার ব্যর্থতা। সরকারের ব্যর্থতা। ক্ষমতাসীন দলের ব্যর্থতা। সর্বোপরি শেখ হাসিনার আশেপাশে যারা আছেন, যাদের দায়িত্ব ছিলো বারো লাখের বেশী রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টা জোরালোভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরা – ওনাদের সবার ব্যর্থতা। কিন্তু এবার শেখ হাসিনার পাশে প্রেস সচিব হিসেবে শ্রদ্ধেয় নাঈমুল ইসলাম খান আছেন। ইনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি মিডিয়ার বিষয়টা খুব ভালো মতো বোঝেন।

অর্ধেক নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার পর, হিলারি ক্লিনটনের পরামর্শে  আপনি ২০০৭ সালের ২০শে এপ্রিল ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস পার্টির নেতা ডঃ মনমোহন সিং-এর সাথে দিল্লিতে দেখা করে রাজনিতিতে যোগ দেয়ার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন। এরপর কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর সাথেও বৈঠক করেন।

পরের দিন একটা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে আপনি বলেন, “দেশের পরিস্থিতি বাধ্য করলে” রাজনীতিতে যোগ দেবেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি আপনাকে উদ্ধৃত করে লিখে “রাজনীতিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার মতো ব্যক্তি আমি নই। কিন্তু পরিস্থিতি যদি বাধ্য করে তাহলে রাজনীতিতে যোগ দিতে আমি দ্বিধা করবো না।”

দিল্লীতে সংবাদ সম্মেলনে আপনি আরো বলেন, “রাজনীতিবিদরা দেশকে এলডিসির পর্যায় থেকে আরো উন্নত পর্যায়ে আনতে চান না। কারণ এতেই তারা নিজেদের লাভ দেখতে পান।”

জরুরী অবস্থা জারির পর থেকে আপনি বিভিন্ন সময় দেশের প্রচলিত রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদদের কড়া সমালোচনা করেন।

২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আপনি দেশের রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে বলেন, “তারা রাজনীতি করে টাকার জন্য।“

এরপর ১১ই ফেব্রুয়ারি আপনি দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দেন। সে চিঠিতে আপনি নিজের রাজনীতি সম্পর্কে পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নতুন রাজনীতি সৃষ্টির জন্য প্রচণ্ড উদ্যোগ নিতে হবে। এটি করতে না পারলে পুরনো রাজনীতি থেকে পরিষ্কারভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।

খোলা চিঠিতে আপনি আরো উল্লেখ করেন , "আল্লাহর অসীম রহমতে আমি এক অতিশয় ভাগ্যবান মানুষ। আমার পাওয়ার আর কিছু অবশিষ্ট নেই। আমি জানি, রাজনীতিতে জড়িত হওয়া মানে বিতর্কিত হওয়া। আপনার যদি মনে করেন, আমার রাজনীতিতে আসাটা দেশে নতুন রাজনৈতিক পরিমণ্ডল রচনায় সহায়ক হবে তবে আমি তার জন্য এ ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত আছি।

এই চিঠির পেছনে কারা কাজ করেছে, কারা এর খসড়া তৈরি করেছে। কারা এটা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে, এটা আমরা সবাই জানি।

আপনার ওই কল্পিত রাজনৈতিক দলের নাম দিয়েছিলেন ‘নাগরিক শক্তি’ বা ‘নাশ’। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারলে আপনি গোটা দেশের সর্বনাশ করে ছাড়তেন, ঠিক যেভাবে আপনি লাখলাখ গরীব মানুষকে চড়া সুদের ঋনের জালে আটকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছেন।

‘নাশ’ গঠনের চিঠিটা প্রকাশের পরের দিনই আপনি কলকাতায় ছুটে যান এবং সেখানেও সাংবাদিকদের ডেকে রাজনিতিতে আসার কথাটা তুলে ধরেন। আপনি বলেন, নতুন ধারার রাজনৈতিক দল করার সুযোগ এসেছে। এজন্য আপনি নতুন ধারার রাজনীতি করতে চান। এটাও বলেন, জনগণ চাইলে আপনি নতুন দল গঠন করবেন।

আপনি বলেন, দেশের প্রয়োজনে রাজনীতি করতে গিয়ে বিতর্কিত হওয়ার ঝুঁকি নিতেও রাজী আছেন।

ভারত থেকে ফিরে আপনি রাজনৈতিক দল গঠনের ব্যাপারে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেন। বিমানবন্দরে আবারো সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। একথাও বলেন, রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য আপনি প্রয়োজনে গ্রামীণ ব্যাংক ছেড়ে দেবেন।

আপনার রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টাকে ভূয়সী প্রশংসা করে কিছু সংবাদপত্র। এদের মধ্যে অন্যতম ছিল দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি ষ্টার।

খোলা চিঠিকে 'সবচেয়ে অভিনব ব্যাপার' হিসেবে বর্ণনা করে প্রথম আলো বলে, " বিপুল সংখ্যক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ড. ইউনুস যদি যথার্থ গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে পারেন, তবে তা এদেশের রাজনীতি মাইলফলক হয়ে থাকবে।"

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হবার পরে আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে জোরেশোরে চেষ্টা করেছিল। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বাইরে রাখা কিংবা বিদেশে পাঠিয়ে দেবার নানা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এসবের পেছনে আপনি অন্যতম পরামর্শকের ভুমিকা রেখেছিলেন, যা হয়তো অনেকের এখন আর মনে নেই। আপনি ইউনুস, দেশের প্রধান দুই দলকে নির্বাসনে পাঠিয়ে ফাঁকা মাঠে রাজনীতিবিদ এবং সরকার প্রধান বনে যাওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন, যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।

আপনি যখন রাজনীতিতে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেন তখন সেটির কড়া সমালোচনা করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছিলো, “যারা রাজনীতিতে নতুন আসে তারা ভয়ঙ্কর হয়। তাদের তৎপরতা সন্দেহ করার মতো। তারা জাতির ভালো করার পরিবর্তে আরো বেশি খারাপ করে।“ 

ওই সময়ে আপনার রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে বিএনপি ছিলো প্রশংসায় ব্যস্ত। বিএনপির তৎকালীন মুখপাত্র ও সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খান এটাকে তাঁর দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানান।

তারমানে, এক-এগারো পরবর্তী সরকারের সাথে মিলে আপনি আওয়ামীলীগ এবং শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। অনেকেই যদিও বলে “মাইনাস টূ ফর্মুলা”আদতে এটা ছিলো “মাইনাস ওয়ান”কিংবা শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র। অর্থাৎ, একুশে অগাষ্ট আওয়ামীলীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নামচিহ্ন মুছে দেয়ার যে ভয়ঙ্কর অপচেষ্টা চালিয়েছিলো তারই ধারাবাহিকতা ছিলো আপনার ও বিএনপির যৌথ উদ্যোগ – মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা।

লেখা:
সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী , আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত জঙ্গিবাদ বিরোধী সাংবাদিক,কাউন্টারটেররিজম বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রভাবশালী ইংরেজি পত্রিকা ব্লিটজ-এর সম্পাদক।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status