ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ১৫ জুন ২০২৪ ১ আষাঢ় ১৪৩১
এক মাসে কতবার বাড়লো-কমলো স্বর্ণের দাম?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 19 May, 2024, 11:05 AM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 19 May, 2024, 11:22 AM

এক মাসে কতবার বাড়লো-কমলো স্বর্ণের দাম?

এক মাসে কতবার বাড়লো-কমলো স্বর্ণের দাম?

গত মাসজুড়ে উত্থান-পতনে টালমাটাল ছিল দেশের স্বর্ণের বাজার। সবশেষ ৩১ দিনে মোট ১৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যার মধ্যে বেড়েছেই সাতবার। আর সবশেষ পাঁচ দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে মোট ৯ হাজার ২৯৭ টাকা।
শনিবার (১৮ মে) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১৭৮ টাকা। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার (১৮ মে) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১৭৮ টাকা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজিৎ দাস বিজয়

সবশেষ শনিবার (১৮ মে) ভরিতে ১ হাজার ১৭৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। এ নিয়ে ৩১ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ১৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করল বাজুস। যার মধ্যে ৯ বার দাম কমানো হয়েছে, আর বাড়ানো হয়েছে ৭ বার। 

স্বর্ণের বাজারে গত এক মাসের টানা উত্থান-পতন শুরু হয়েছিল দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দিয়েই। গত ১৮ এপ্রিল ভরিতে ২ হাজার ৬৫ টাকা বাড়িয়ে একভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৮ টাকা। যা এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৪ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৭ হাজার ৮৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৩৮৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৮০১ টাকা।
  
তবে রেকর্ড দাম নির্ধারণের পর একদিন বিরতি দিয়ে গত ২০ এপ্রিল স্বর্ণের দাম ভরিতে ৮৪০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। স্থানীয় বাজারে ১ ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৭ হাজার ১৯৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
দাম কমানোর পরদিন অর্থাৎ ২১ এপ্রিল স্থানীয় বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাজুস। সেদিন ভরিতে ৬৩০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৯ হাজার ৪২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৪ হাজার ৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৭ হাজার ৭০৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৮ হাজার ৬৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
এরপরই ধস নামে স্বর্ণের বাজারে। মাসের শেষ আট দিনে টানা ৭ দফায় কমানো হয় স্বর্ণের দাম। গত ২৩ এপ্রিল ভরিতে ৩ হাজার ১৩৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৬ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১০ হাজার ৯৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৫ হাজার ১৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৬ হাজার ৫৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত ২৪ এপ্রিল ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ১৯০ টাকা। এছাড়া এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৫ হাজার ২০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
গত ২৫ এপ্রিল ফের ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে ৬৩০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮ হাজার ৪০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯২ হাজার ৯১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
  
একদিন বিরতি দিয়ে ২৭ এপ্রিল ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৬২৯ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩১ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। তবে ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৬ হাজার ৮৪২ টাকা। এছাড়া দাম কমিয়ে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭ হাজার ৭৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয় ৯২ হাজার ৪০২ টাকা। 

এরপর টানা দিন অর্থাৎ ২৮-৩০ এপ্রিল স্বর্ণের দাম কমায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। ২৮ এপ্রিল ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩১৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১২ হাজার ৬১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯২ হাজার ১৪৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৬ হাজার ৬৩২ টাকা।
 
২৯ এপ্রিল ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ১৫৫ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ১১ হাজার ৪৬১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯১ হাজার ২০১ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৫ হাজার ৮৩৯ টাকা।
 
গত ৩০ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভরিতে ৪২০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১১ হাজার ৪১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬ হাজার ২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯০ হাজার ৮৬৩ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৫ হাজার ৫৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
দরপতনের এই প্রবণতা শেষ হয় গত ২ মে। এদিন ভরিতে ১ হাজার ৮৭৮ টাকা কমিয়ে একভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ১৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪ হাজার ১৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৮৯ হাজার ৩১১ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৪ হাজার ২৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
তবে এরপরই দেশের স্বর্ণের বাজারে ঘটে ছন্দপতন। টানা ৫ দফা বাড়ে দাম। শুরুটা হয় গত ৪ মে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে। এদিন স্বর্ণের দাম গিয়ে ঠেকে ১ লাখ ১০ হাজার ২১৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫ হাজার ১৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯০ হাজার ১৭৪ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৪ হাজার ৯৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
এরপর ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গত ৫ মে আবার দেশের বাজারে বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এদিন ভরিতে ৭৩৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১০ হাজার ৯৪৮ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫ হাজার ৮৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯০ হাজার ৭৬৯ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৫ হাজার ৪৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
 
একদিন বিরতি দিয়ে গত ৭ মে আবার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৫০২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১০ হাজার ২০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৪ হাজার ৪৫৫ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৭৮ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করে সংগঠনটি।
 
গত ১১ মে ভরিতে ১ হাজার ৮৩২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের একভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৭ হাজার ২৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১১ হাজার ৯৫১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৯ হাজার ৩৩৯ টাকা।
 
আর ১৮ মে ভরিতে ১ হাজার ১৭৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৯৬ হাজার ৯১৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৮০ হাজার ১৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা বর্তমানে দেশের বাজারে স্বর্ণের সমন্বয়কৃত সবশেষ দাম।
 
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এমন টালবাহানা মূলত বিশ্ববাজারের দামের কারণেই ঘটছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ও বাজুস সহসভাপতি মাসুদুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকায় স্থানীয় বাজারেও বাড়ছে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম।
 
এদিকে, গত এপ্রিল মাসে বিশ্ববাজারে রেকর্ড ছুঁয়েছে স্বর্ণের দাম। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় গত ১২ এপ্রিল লেনদেনের এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম উঠে যায় ২৪৩১ দশমিক ৫১ ডলারে। তবে মাঝে কমলেও বর্তমানে সে ধারা আবারও ঊর্ধ্বমুখী।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status