ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৫ মার্চ ২০২৪ ২১ ফাল্গুন ১৪৩০
প্রেমের টানে নারায়ণগঞ্জে আফ্রিকান তরুণী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 12 February, 2024, 10:56 AM

প্রেমের টানে নারায়ণগঞ্জে আফ্রিকান তরুণী

প্রেমের টানে নারায়ণগঞ্জে আফ্রিকান তরুণী

প্রেমের টানে সুদূর আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তরুণী ফান্সসিসকা (৩০)। বিয়ে করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ত্রিবেণী এলাকার সাজেন হোসেনকে (২৭)। বর্তমানে তারা এখানেই সংসার শুরু করেছেন।


ফান্সসিসকা আফ্রিকার বংশোদ্ভূত তরুণী। তিনি দেশটির স্থানীয় একটি বিমানবন্দরের সিনিয়র ম্যানেজার ও ট্রভেলস এন্ড ট্যুর প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে কর্মরত আছেন।
 

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা মেলে ওই দম্পতির। এ সময় জমকালো লেহেঙ্গা পরা আফ্রিকান তরুণী ফ্রান্সসিসকা স্বামীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি তোমাকে বালোবাসি (ভালোবাসি), আমি তোমার ফ্যামিলিকে বালোবাসি। আমি বাংলাদেশকেও বালোবাসি’। বিদেশি তরুণীর মুখে আন্তরিকার সঙ্গে বাংলা ভাষায় এমন কথা শুনে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়ে যান।


জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নের ত্রিবেনী গ্রামে সাজেন হোসেন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পাড়ি দেন বাহরাইনে। সেখানে কয়েক বছর কাটিয়ে ২০১৮ সালে চলে যান আফিকার সী সেলস আইল্যান্ডে। সেখানে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সেফ হিসেবে চাকরি নেন তিনি।


ফান্সসিসকার সঙ্গে পরিচয় নিয়ে সময় সংবাদকে সাজেন হোসেন বলেন, হোটেলে অফিসের কাজে প্রায় সময় আসা যাওয়ার সুবাদে ২০২০ সালের নভেম্বরে সাজেনের পরিচয় হয় সী সেলস বিমানবন্দরের সিনিয়র ম্যানেজার অবিবাহিতা তরুণী ফ্রান্সসিসকার সঙ্গে।

জন্ম সূত্রে আফ্রিকার নাগরিক ফ্রান্সসিসকা সেখানকার একটি ট্রাভেলস এন্ড ট্যুর প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদেও চাকরি করেন। তবে উচ্চ বিলাসিতা ও অহংকারবিহীন সুন্দর মনের এই আফ্রিকান তরুণীর সঙ্গে অল্পদিনেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে হোটেলটির সেফ বাংলাদেশি যুবক সাজেনের। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালে নিজ নিজ পরিবারের মতামত নিয়ে সেখানে বিয়ে করেন তারা।


স্বামীকে খুশি করতে তার নামের অংশ যুক্ত করে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ফ্রান্সসিসকা হোসাইন। গত তিন বছর ধরে সাজেন-ফ্রান্সসিসকার দাম্পত্য জীবন বেশ সুখে শান্তিতেই কাটছে।

তবে দীর্ঘ সাত বছর প্রবাস জীবনযাবনের পর সাজেন বাবা-মা ও বোনদের দেখতে কর্মস্থল থেকে কয়েক মাসের ছুটি নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জের নিজ বাড়িতে যান। এরপর স্বামীকে দেখার জন্য স্বল্প সময়ের ছুটি পেয়েই (চৌদ্দ দিন) গত ২ ফেব্রুয়ারি তিনি আসেন বাংলাদেশে। ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিদেশি বধূকে বরণ করে বাড়ি নিয়ে যান সাজেন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

বিদেশি স্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ আফ্রিকা প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক সাজেন হোসেন সময় সংবাদকে আরও জানান, বাংলাদেশি মুসলমান যুবককে বিয়ে করার পর থেকে আফ্রিকান তরুণী ফ্রান্সসিসকা পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ হারাম খাবার পরিহার করে ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধান মেনে চলছেন। ক্লাব, বার ও পার্টিতে যাওয়া বাদ দিয়ে পোশাক আশাকেও বজায় রাখছেন ভদ্রতা ও শালীনতা। এমন স্ত্রী পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছেন সাজেন।

সাজেনের স্বজনরা জানান, উদার মানসিকতা ও সুন্দর ব্যবহারের কারণে মাত্র কয়েকদিনেই স্বামীর পরিবার, তার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মন জয় করে নিয়েছেন বিদেশি তরুণী ফ্রান্সসিসকো। আসার পর থেকেই স্বামী ও স্বামীর পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণসহ বাইরে বেড়াতেও যাচ্ছেন। তার আন্তরিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী ও নিকট আত্মীয়-স্বজনরা।

আরও পড়ুন: প্রেমের টানে খুলনায় আসা সেই অস্ট্রেলিয়ান ম্যালকম মারা গেছেন

বাংলাদেশে আসার পর অনুভূতি জানতে চাইলে সময় সংবাদকে ফ্রান্সসিসকা তার নিজের ভাষায় ইংরেজিতে বলেন, ‘স্বামীর বাড়ির মানুষ আমাকে এতো আদর যত্ন করছেন, এতো ভালোবাসা দিচ্ছেন, এতে আমি মুগ্ধ। আমি ভাবতেই পারিনি বাংলাদেশের মানুষ এতো ভালো, এতো আন্তরিক এবং এতো উদার। আমি যেখানেই যাচ্ছি সেখানেই খুব আদর ভালোবাসা ও সম্মান পাচ্ছি। আমার স্বামীর পরিবারের মধ্য দিয়ে আমি বুঝে নিয়েছি পুরো বাংলাদেশের মানুষ ওদের মতোই।’

সাজেনের বাবা আবদুস সাত্তার সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমার ছেলে আফ্রিকান মেয়ে বিয়ে করেছে। আমার ছেলে তার বউ নিয়ে দেশে ফিরেছে। ছেলে ও বৌমাকে দেখে আমি অনেক খুশি। আমার খুব আনন্দ লাগছে। বৌমা অনেক ভালো মেয়ে।’

পুত্রবধূর প্রশংসা করতে গিয়ে সাজেনের মা আফসানা আক্তার সময় সংবাদকে বলেন, ‘সাজেন আমাদের একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকে আমার ছেলে বলতো তার খুব শখ সে বিদেশে যাবে। বিদেশে গিয়ে বিদেশি মেয়ে বিয়ে করবে। আল্লাহ তার ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আমাদের বিদেশি বৌমা অনেক লক্ষ্মী। কোনো অহংকার নেই। আমার পরিবারের সবাইকে খুব আপন করে নিয়েছে। মুরুব্বিদের সম্মান দিয়ে কথা বলে। তার আন্তরিকতা ও ব্যবহারে সবাই বিদেশি বৌমার খুব ভক্ত হয়ে গেছে। এমন পুত্রবধূ পেয়ে আমরা খুবই গর্বিত।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ১৭/ডি আজাদ সেন্টার, ৫৫ পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status