ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪ ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
শেখ হাসিনাই কি সেই ফিনিক্স পাখি?
লীনা পারভীন
প্রকাশ: Sunday, 7 May, 2023, 11:33 AM

শেখ হাসিনাই কি সেই ফিনিক্স পাখি?

শেখ হাসিনাই কি সেই ফিনিক্স পাখি?

ছোটবেলায় রূপকথা পড়তাম। ভালো লাগতো সেসব কল্পকাহিনি। সেখানেই পড়েছিলাম ফিনিক্স পাখির গল্প। ফিনিক্স পাখি শুনলেই কল্পনায় জেগে ওঠে সুন্দর ও আকর্ষণীয় এক রঙিন পাখির চেহারা। গ্রীক পুরানে বলা আছে ফিনিক্স নামের এক পাখির কথা; যার জন্ম হয় আগুনে পোড়া ছাই থেকে। তথ্যবাতায়ন উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে ফিনিক্স হচ্ছে এক পবিত্র অগ্নিপাখি। আর এটি এমনই পবিত্র আগুনের পাখি, যার জীবনচক্র আবর্তিত হতে থাকে হাজার হাজার বছর ধরে।  নির্মমভাবে দগ্ধীভূত এই পাখি এবং তার বাসার ভস্ম থেকেই জন্ম নেয় নতুন জীবন। প্রাণ পায় নতুন জীবনের, শুরু হয় আবারও জাতিস্মর ফিনিক্সের অবিনাশী যাত্রা।
বলছিলাম আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। ১৯৭৫ সালে যার গোটা পরিবারকে হত্যা করেছিলো দেশি ও বিদেশি শত্রুরা। ভাগ্যক্রমে বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ঠিক যেন সৃষ্টিকর্তা নিজের আমানতের মতো বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। আর সেই আমানতই এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে বাঁচাচ্ছে নিজের জীবনের মূল্যে।

আজ সেই ঐতিহাসিক ফিনিক্স পাখির ফিরে আসার দিন। ২০০৭ সালের ৭ মে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন তিনি। দেশ মাতৃকার রক্ষাকর্তা হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তত্তাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করেই ফিরেছিলেন সেদিন। প্রথমবার ফিরেছিলেন ১৯৮১ সালে। পরিবারহারানো একজন মানুষের দেশে ফেরা নিষেধ ছিলো। তিনি থেমে যাননি। শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও স্বৈরাচারের মুখে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী।

আজকের যারা প্রজন্ম আছে তারা হয়তো কোনোভাবেই অনুধাবন করতে পারবে না শেখ হাসিনার পূর্বের শাসনামল আর আজকের শেখ হাসিনা যুগের পার্থক্য। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এক অদ্ভুত অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। এদেশের মানুষ নিজেদেরকে চির দরিদ্র বলেই বিশ্বাস করতে শিখেছিলো। বিদেশিরা দিলেই তবে পেটে খাওয়া জুটবে এমনি ছিলো বাংলাদেশের বাস্তবতা।

অতঃপর তিনি এলেন। যেন উদ্ধারকর্তার ভূমিকায়। আগুনের স্ফূলিঙ্গ থেকে নিজেকে সৃষ্টি করে ফিরলেন। শত বাধাও যাকে আটকে রাখতে পারেনি। ১৯৮১ থেকে এ পর্যন্ত যাকে প্রায় ২১ বার আক্রমন করা হয়েছে মেরে ফেলার জন্য। বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা কোনো চেষ্টাই বাদ থাকেনি। কিন্তু ওই যে সৃষ্টকর্তা যেন নিজের হাতে আগলে রেখেছিলেন তাকে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রতিবার নতুন রূপে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। কেবল ঘুরেই দাঁড়াননি, ঘুড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের চাকাকেও।

দেশে ফিরে তিনি আবারও দেশের মানুষের ভালোবাসাকে শক্তি করে দেশ গড়ার কাজে লেগে গেলেন। এজন্য তাকে কারাভোগও করতে হয়েছে। কিন্তু জনগণের জন্য নিবেদিত প্রাণকে আটকানো কার সাধ্য? ২০০৮ সালের ১১ জুন প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলেন। ফিরলেন ৪ ডিসেম্বর। ফিরে এসে আবারও রাজপথে নামলেন। তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুললেন সারাদেশে। অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে তিনি যেন তখন মুক্তিপাগল এক বিদ্রোহী। বলা যায় শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসলই হচ্ছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। আর এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হলো। সেই জয়কে বলা হলো “ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টোরি”। সেই থেকেই যাত্রা শুরু।

এগুতে থাকা বাংলাদেশের গল্পের শুরুটা সেই যে শুরু হলো আর পিছনে তাকানোর ঘটনাই ঘটলো না। একে একে সাফল্যের গল্প লেখা হতে থাকলো শেখ হাসিনার হাত ধরে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে যে পদ্মাসেতুর পরিকল্পনা ছিলো সেটাও বাতিল হয়ে গেল মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগে। বিধির কী অমোঘ বিচার। সেই বিশ্বব্যাংক এখন নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশের মেরুদণ্ড বলে পরিচিত পাওয়া স্বপ্নের পদ্মাসেতুর প্রশংসা করে। নিজেরা এসে বাংলাদেশের হাতে ঋণ দিয়ে যাচ্ছে। কেবল ঋণই নয়, ব্যাপক প্রশংসাও করছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের।

এইতো তরতাজা সংবাদ। ৬ মে ইংল্যান্ডের রাজা হিসেবে রাজকীয় আয়োজনের মাধ্যমে সিংহাসনে বসলো চার্লস। সেই আয়োজনে শেখ হাসিনাকে দেখা গেলো রাজার পিছনের সারিতে ঠিক যেন মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বসেরা নেতাদের সাথে। ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিহানুকের মুখের ভাষ্য তার স্ত্রী ও সন্তানের আদর্শ শেখ হাসিনা। তিনি চান তার দুই কন্যা যেন শেখ হাসিনার মতো একজন হতে পারে।

গর্ব নয়, কেবল আনন্দ হচ্ছে এটুকু ভেবে যে আমরাও এমন একজন নেতা পেয়েছি যিনি এখন বিশ্বের কাছে আদর্শ। অথচ একটা সময়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীরা কোথায় থাকতেন জানাও যেতো না। কেউ খোঁজও রাখতো না। কারণ আমরা যে তাদেরই দয়ায় বেঁচে ছিলাম।  

একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের চাওয়াটা যেন একলাফে ঊর্ধাকাশের পানে ছুটে যায়। আমরাও এখন বুক ফুলিয়ে বিদেশিদের বলি যে আমার দেশ বাংলাদেশ। আর আমার নেতা শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে চেনে না এখন এমন কোনো দেশ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। একটা সময়ে বাংলাদেশকে চেনাতে আমাদেরকে বলতে হতো ভারতের পাশের দেশ।

আহা! আজ আমরা প্রাউড বাংলাদেশি। আর এই পরিচয়টাকে নিশ্চিত করতে পেরেছেন কেবল একজন শেখ হাসিনা। আর তাইতো তার ফিরে আসার দিন মানেই বাংলাদেশের নিজের পরিচয়কে ফিরে পাবার দিন।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status