ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ ৫ বৈশাখ ১৪৩১
ওর স্ত্রী অন্য পুরুষের কাছে যাওয়ার পরে আমি ওকে পেয়েছিলাম, আজ সে আমার স্বামী, গল্পটা ছিল...
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 9 January, 2023, 12:20 PM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 9 January, 2023, 12:34 PM

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

এই তরুণী অফিসে এক যুবকের প্রেমে পড়েন। কিন্তু সে ছিল বিবাহিত। এক সময়ে যদিও সে তাঁর পছন্দের পুরুষকে পায়। কিন্তু কী করে তা সম্ভব হল?

প্রেম জীবনে যে কেমনভাবে আসে, তা আমরা বলতে পারি না। শুধু এইটুকুই বারবার মনে হয়েছে যে, প্রেম ঝড়ের মতোই না জানিয়ে আসে। তারপর সব কিছু ওলটপালট করে দেয়। আমার জীবনের বেশ কিছু বছর পার করে এসেছি আমি। কলেজ জীবন থেকে কাজ করছি। তখন পার্ট টাইম চাকরি হিসেবে ওয়েটারের কাজও করেছি। আর এখন আপনি বড় কর্পোরেট অফিসে ভালো বেতন পাই। কিন্তু কেরিয়ারে আমি কতই সফল হই না কেন, প্রেমজীবনে আমি বারবার ভুল করেছি। আমি সারা জীবন ওই সুন্দর মুহূর্তটার জন্যে অপেক্ষা করতাম।


যখন আমার জীবনে প্রেম আসবে, আমার জীবন কতটা বদলে যাবে, এসব চিন্তাভাবনা চলতেই থাকত। কিন্তু যখন প্রেম এল, আমার জীবনটা পুরো ওলটপালট হয়ে গেল। তখন আর কিছুই ভালো লাগত না। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লাম, তখন বুঝতেও পারলাম না যে, একে কী বলব? এটাই কি আমার নিয়তি? আজ সবাইকে আমার গল্প শেয়ার করতে চাই, যাতে বাকিরা আমার থেকে উপকার পেলেও পেতে পারেন।

অফিসে ওকে দেখেই প্রেমে পড়ে যাই

আমি কোনওদিন ভাগ্যে বিশ্বাস করি না। জীবনে অনেক ভাঙা-গড়া পেরিয়ে আসতে হয়েছে আমাকে। কর্পোরেট কেরিয়ার শুরু করার পর আমার জীবন বদলে যায়। এক বছর পরে আমি একজন সুপুরুষ ব্যক্তিকে দেখি, সে আমাদের অফিসেই আসছে! ওকে খুব সুন্দর দেখতে। চওড়া কাঁধ এবং যথেষ্ট লম্বা। দেখেই প্রেমে পড়ে যেতে পারেন যে কেউ। আমাদের ম্য়ানেজার ওর সঙ্গে আমার আলাপ করিয়ে দিলেন।

সে আমাদের টিমেই নতুন যোগ দিল। ও এতটাই সুন্দর ছিল যে, বারবার ওর দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল আমার। একে অপরের সঙ্গে কথা বললাম। ও আমার দিকে তাকিয়ে সামান্য হাসল। আমি তো আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। কখনও কাউকে দেখে এত দ্রুত মন দিয়ে ফেলিনি আমি! এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মধ্য়ে সম্পর্ক আরও গাঢ় হতে থাকে। অফিসে একসঙ্গে কাজ করতে থাকি। একসঙ্গে লাঞ্চও করতাম।

একে অপরের সঙ্গে ভালো সময় কাটাই

কফি ব্রেকেও দেখা হত আমাদের। আমি ওর সব অভ্যাসের দিকে নজর দিতে থাকি। কখন ও কী করে, সব খেয়াল রাখতে শুরু করি। এরপর আমি খেয়াল করি যে, ও আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা বলাও শুরু করে। আমি খুব খুশি হই।

কয়েক মাসের মধ্যেই আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। আমরা প্রচুর কথা বলতাম। কাজের সময়েও কথাবার্তা হত। অফিসে লাঞ্চ করার সময়ে নানা বিষয়ে আমাদের মধ্য়ে হাসি-ঠাট্টা হত। এমনকী অফিসের পরেও সবাই মিলে কোথাও ডিনারে যেতাম। এরপর আমরা ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে আসতে থাকি। আমরা যে একে অপরকে পছন্দ করি, তাও ধীরে ধীরে বোঝা যায়। আমার খুব ভালো লাগে, মনে হয়, এবার জীবনে সেই সেরা অভিজ্ঞতা হবে আমার।

তুমি কি বিবাহিত?

কিন্তু এই সুখ খুব বেশিদিন থাকেনি। আমি ওর আঙুলে বিয়ের আংটি দেখতে পাই। আমি ওকে মজা করেই জিজ্ঞাসা করি, “তুমি কি বিবাহিত?”, ও উত্তর দেয়, “হ্যাঁ”। সঙ্গে সঙ্গে আমার মন ভেঙে যায়। আমি বুঝতে পারি না যে কী করব।

কিন্তু তারপরেই ও জানায় যে, গত দুবছর ধরে ওর বিবাহিত জীবনে নানা ঝড় আসছে। কোনওকিছুই আর ঠিক নেই। ওর স্ত্রীকে আর আগের মতো ভালোবাসে না ও। এমনকী এটাও সে পরোক্ষভাবে জানায় যে, এখন সে নতুন কারও সঙ্গেই জীবনটি ভাবছে। আমি যদিও নিশ্চিত হতে পারিনি এবং এরপরে আমার মনে আবারও তার প্রভাব পড়ে।

ওদের ছবি দেখে চোখ ভরে যায়

আমি ওর কথা বিশ্বাস করতে পারি না। আমার খুব মনখারাপ হয়ে যায়। এরপর বাড়ি ফিরে ওর সোশ্য়াল মিডিয়া প্রোফাইল স্টক করতে শুরু করি। সেখানে ওর স্ত্রীর সঙ্গে ছবিও দেখি আমি। ওর স্ত্রী অনেক ছবিতে ঠিক ওর পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে কী সুন্দর দেখতে!

সুন্দর হাসি দেখলেই মন হারিয়ে যেতে পারে যে কোনও পুরুষের। ঠিক এতটাই সুন্দর তিনি। যাই হোক, আমার মন এতটাই ভার লাগছিল যে আমি বাড়ির কাছেই একটি বারে যাই। মদ্যপান শুরু করি।

ওদের কি ডিভোর্স হবে?

কিছুক্ষণ পর আমি দেখি আমার পাশেই সেই মহিলা বসে আছেন। পাশের টেবিলেই সেই মহিলা অন্য় এক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় রয়েছেন। তাই দেখে আমার মাথা ঘুরে যায়। আমি ভাবি, নেশার ঘোরে ভুল দেখছি না তো! কিন্তু পরে খেয়াল করি যে, না! সেই মহিলাকেই আমি দেখছি।

সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ছবি তুলে রাখি আমি। সঙ্গে সঙ্গে আমি সেই কথা আমার সহকর্মীকে জানাই। ও কিন্তু খুব বেশি অবাক হয়নি। বরং এই কথা বলে, “আমি জানতাম, আমার স্ত্রী আজ নয়তো কাল আমায় প্রতারণা করতেই চলেছেন।” যাই হোক, আমারও মন ভালো ছিল না।

এরপর আমাদের বিয়ে হয়

পরের দিন আর ও অফিসে আসেনি। আমার মনে অপরাধবোধ হচ্ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ও আমাকে আবার মেসেজ করে। আমার সঙ্গে দেখা করতে চায়। একটি ক্যাফেতে আমরা দেখা করি। তখন ও আমাকে জানায় যে, ওদের ডিভোর্স হতে চলেছে। সেই কথা শুনে আমার খারাপ লাগছিল ঠিকই, কিন্তু একটু ভালোও লাগছিল। ও আমার হাত ধরে ধন্যবাদ জানায়।

এরপর ৬ বছর কেটে গিয়েছে। আমাদের বিয়েরও ২ বছর হয়ে গিয়েছে। তাহলে একে আমি কী বলব, আমার ভাগ্য নাকি কোনও মিরাকল?

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status