ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য দ্বার বন্ধ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের
এলামী মো: কাউসার কায়রো
প্রকাশ: Wednesday, 23 November, 2022, 12:04 PM

মিসরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

মিসরে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশী ছাত্রদের আর আসা হচ্ছে না আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে! কথাটা শুনে হঠাৎ কেমন একটা ধাক্কা মনে হলেও হ্যাঁ, এটাই হয়তোবা সত্যি হতে যাচ্ছে। কেননা বিগত কয়েক বছর থেকে সরকারিভাবে বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েও এখনো কোনো বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রী আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সম্ভব হয়নি। মূলত মিসরে সরকারিভাবে ছাত্র ও শ্রমিকদের আনা-নেয়া শুরু হয় নব্বই সালের পর থেকে। তারপর ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে ২০০১ সালে থেকে শুরু হয়ে ২০১৯ অথবা ২০২০ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে এর ধারাবাহিকতা। কিন্তু কোনো এক ধূসর কালো ছায়ায় বন্ধ হতে চলেছে দেশের হাজারো তরুণের স্বপ্নের চাওয়া আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসা। তরুণরা কেনইবা এই স্বপ্ন দেখবে না বলুন অথবা কেনইবা ছেড়ে দেবে সরকারি বৃত্তি পেয়েও পৃথিবীর প্রাচীনতম ও স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটিতে পড়তে আসা। কেননা আফ্রিকার ছয়টি দেশের সরকারপ্রধান, বিরোধীদলীয় নেতা, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট, বিখ্যাত ধর্মতত্ত্ববিদ মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি, মুসলিম বিশ্বে নোবেল খ্যাত কিং ফায়সাল পুরস্কার জিতেছে দর্শন, ধর্ম ও সামাজিক কাজে গবেষণায় আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র শিক্ষকসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মুসলিম দেশের ছাত্র শিক্ষক দার্শনিকরা। এ ছাড়াও বাংলাদেশের গর্বিত সন্তান সৈয়দ মুজতবা আলী, হাজী শরীয়তুল্লাহ, ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীসহ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর নানা মুসলিম দেশে মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন।

এ ছাড়াও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার কারণে বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণের তালিকায় রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। তাছাড়া পৃথিবীর এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না, যে দেশের দুই-একজন ছাত্র হলেও আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। কিন্তু হঠাৎ কেন বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের সেই আশায় গুড়েবালি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থিত মিসর দূতাবাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে ভর্তি প্রসেসিং করা হয় সেখানে নকল ও অবৈধ কাগজপত্র দাখিল, বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি জটিলতা এবং বাংলাদেশী ছাত্রদের অবৈধভাবে মিসরে এনে ভর্তিসহ এই ধরনের নানা অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশী ছাত্রদের বিরুদ্ধে। এ সম্পর্কিত কটু অভিযোগ মিসর দূতাবাসের মাধ্যমে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশন অফিসে পৌঁছলে নড়েচড়ে বসে মিসরের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশনের গোয়েন্দা সংস্থা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে মিসর দূতাবাসের কাউন্সিলর মিনা মিকারী বলেন, যারা ছাত্র ও ভ্রমণ ভিসায় সাধারণ পাসপোর্টে মিসরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন আমরা মূলত তাদের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে মোফায় প্রেরণ করি। তারপর সেখান থেকে মানদুব হয়ে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনে (আব্বাসিয়া) পাঠানো হয়। সেখান থেকে অনুমতি অথবা ছাড়পত্র এলেই আমরা ভিসা দেয় নচেৎ নয়। তা ছাড়া সরকারি ও ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টের জন্য এই ধরনের শর্ত নেই। মূলত সমস্যাটা এখানেই। মিসরের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অফিসে পড়ে আছে অসংখ্য বাংলাদেশী ভ্রমণপিপাসুদের ভ্রমণ ফাইল। এ ছাড়াও সরকারি বৃত্তি পাওয়ার পরেও যারা যেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা অনেকেই এই প্রতিবেদককে জানান আমরা কেউবা এক বছর কেউবা দুই বছর অথবা নতুন বৃত্তি পাওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারার জন্য দায়ী করেছেন সরকারি কূটনৈতিক তৎপরতাকে। এই দিকে তারা বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারণ এই আশায় বুক বেঁধে অনেকেই অন্য কোথাও তারা ভর্তি হয়নি। মিসরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ পুলিশের এসপি ইসমাইল হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা আপনার মাধ্যমে জানলাম। আসলে অবাক হওয়ার মতো একটা বিষয় এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা বাঞ্ছনীয় নয়। তা ছাড়া এ দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আমার দেশের ভ্রমণপিপাসু নাগরিকদের ক্ষেত্রে কী জানবে। এগুলো তাদের হঠকারী সিদ্ধান্ত। যাই হোক এই বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসে একটা সমাধান বের করব। এ ছাড়াও মিসরে অবস্থিত একমাত্র ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন এই সমস্যার দ্রুত অবসান চেয়েছে।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft