শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, 2০২2
নতুন সময় প্রতিনিধি
Published : Tuesday, 2 August, 2022 at 11:52 PM
বাগমারায় জালিয়াতি করে নিয়োগ, পদোন্নতি পেলেন সেই শিক্ষক

বাগমারায় জালিয়াতি করে নিয়োগ, পদোন্নতি পেলেন সেই শিক্ষক

রাজশাহীর বাগমারার পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুর রউফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ৩ বছর আগে তাঁর এমপিও বাতিলের সুপারিশ করেছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।

শুধু তিনিই নন, ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল তখন। সুপারিশের ভিত্তিতে কয়েকজনের এমপিও বাতিল করা হয়। তবে আবদুর রউফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকে পদোন্নতির সুপারিশ করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এর ফলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অন্য শিক্ষকদের মধ্যে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভোকেশনাল শাখা সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছয়জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করা হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ত্রুটিপূর্ণ সনদ প্রদান ও জালিয়াতির কারণে ওই ছয়জনের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়। অধিদপ্তরের ভোকেশনাল শাখার তৎকালীন সহকারী পরিচালক জহুরুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।

এর মধ্যে আবদুর রউফ মণ্ডলসহ ছয়জন শিক্ষকেরই এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়। এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আবদুর রউফ মণ্ডলের এমপিও বাতিল হয়নি। এর পর থেকে তিনি আগের মতোই সরকারি সুবিধা ভোগ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন–ভাতা বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বিভাগের সচিব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবদুর রউফ ২০০৫ সালে সাচিবিকবিদ্যার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

তবে কারিগরি বোর্ডের জনবল কাঠামো অনুসারে তাঁর ওই পদে আবেদন করার যোগ্যতা ছিল না। ওই নিয়োগের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য অনুষদের যেকোনো বিষয়, পরিসংখ্যান, গণিত, অর্থনীতির মধ্যে যেকোনো একটিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ সাচিবিকবিদ্যার প্রশিক্ষণ সনদ থাকার কথা নিয়োগ বিধিতে বলা ছিল। এসব শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনোটাই আবদুর রউফ মণ্ডলের নেই। তিনি ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর প্রশিক্ষণের সনদও নেই।

ওই সময় আবদুর রউফ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সনদ দিয়েছিলেন, যা দিয়ে ওই বিষয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ ছিল না। নিয়োগের আগে তৎকালীন ইউএনও এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সুবোল বোস মনি তাঁর আবেদনপত্রটি বাতিল করেছিলেন। ইউএনও অন্যত্র বদলি হওয়ার পর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যদের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁর জালিয়াতির সমর্থনে বিভিন্ন প্রমাণও সংযুক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. জহুরুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত ও এমপিও বাতিলের সুপারিশ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আবদুর রউফ মণ্ডলের নিয়োগকালীন প্রশিক্ষণ সনদ সরকারের কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের নয়। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি যথাযথ ছিল না। এ জন্য তাঁর এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছিল। কী কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। সূত্র: প্রথম আলো


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft