রবিবার, ২৮ নভেম্বর, 2০২1
তন্ময় আহমেদ
Published : Friday, 5 November, 2021 at 12:49 PM

স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের নীলনকশা ও সেনানিবাসে নারকীয় হত্যাযজ্ঞমূলত বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনিরা যখন বঙ্গভবনে বেপরোয়া-বিলাসী সময় কাটাচ্ছিল, ঠিক একই সময়ে সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় জন্য সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে আহ্বান জানান সিজিএস খালেদ মোশাররফ, ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার সাফায়াত জামিল, বিগ্রেডিয়ার নুরুজ্জামানরা। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজের সমর্থনপুষ্ট খুনিদের সেনানিবাসে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাওয়ার ব্যাপারেও দ্বিমত পোষণ করে সে। সেনাপ্রধানকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে, পরবর্তীতে নিজেরাই কিছু একটা করার চেষ্টা করেন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।

এরই ধারাবাহিকতায়, ১৯৭৫ সালের ২ নভেম্বর মধ্যরাতে, তথা ৩ নভেম্বর সেনাপ্রধান জিয়াকে গৃহবন্দি করে বঙ্গভবন ঘেরাও করেন খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল, এটিএম হায়দার ও হুদার অনুগত সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যরা। তাদের চাপের মুখে পরের দিন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। কিন্তু এরমধ্যেই বঙ্গবন্ধু হত্যার মদতদাতা ও স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাকের নির্দেশে: বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দিয়েই অতি গোপনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান ও এইচএম মনসুর আলীকে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা দেশ ছাড়ার পর এই তথ্য জানতে পেরে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েন অভ্যুত্থানকারী সেনা অফিসাররা।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের নির্মমভাবে হত্যার পর কক্ষচ্যুত হয়ে যাওয়া, টালমাটাল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনা উপায় খুঁজছিলেন অভ্যুত্থানকারীরা। ঠিক একই সময় ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে যাচ্ছিল গৃহবন্দি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে মত্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহেরকে ব্যবহার করে সে। তাহের তার বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্যদের মাধ্যমে উস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণ করান সেনানিবাসে। সাধারণ সৈনিকদের ক্ষেপিয়ে তোলো হয় অফিসারদের বিরুদ্ধে। চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে সেনানিবাসে। চারপাশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। পাকিস্তানফেরত সৈনিকরা মেতে ওঠে নারকীয় হত্যাযজ্ঞে।

প্রাথমিকভাবে নিজেকে মুক্ত করতে তাহেরের সাহায্য নিলেও, পরবর্তীতে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার পর নিজের আসল রূপ দেখায় জিয়া। মুক্তিযুদ্ধের বীর অধিনায়কদের হত্যার পর, ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে তাহেরকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় সে। সেনানিবাসে বিশৃঙ্খলার পুরো দায় চাপিয়ে দেয় তাহেরের ওপর। সেনানিবাসে যেহেতু রাজনীতি নিষিদ্ধ, তাই উচ্ছাভিলাসি তাহেরকে বিপদে ফেলাটা খুব সহজ হয়ে যায় সুচতুর জিয়ার জন্য।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft