রবিবার, ২৮ নভেম্বর, 2০২1
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
Published : Saturday, 23 October, 2021 at 10:10 PM
সাতক্ষীরায় শীর্ষ চোরাকারবারি  অসলেই হলেন নৌকার মাঝি

সাতক্ষীরায় শীর্ষ চোরাকারবারি অসলেই হলেন নৌকার মাঝি

সাতক্ষীরা বৈকারি  ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলের অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার মানুষ ,আইনশৃঙ্খ‍লা বাহিনী সাতক্ষীরা সদরের জামাত অধ্যুষিত ভারত সীমান্তবর্তি বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসলের বিরুদ্ধে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই।  আসাদুজ্জামান অসলের বিরুদ্ধে রয়েছে অভিযোগের পাহাড়।


একাধিক অভিযোগকারী বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলের বিরুদ্ধে  রয়েছে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে প্রতারিত করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। তার এসব অপকর্মের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও তার কোন সুফল পাননি  ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত এক দশক আগে যিনি গরুর লেজ ধরে ভারত-বাংলাদেশ এপার-ওপার করতেন। দিন চলতো দিনমুজুরের কাজ করে। সম্পদ বলতে তখন তার ছিল পৈত্রিক দুই শতক জমি, খাসজমিতে কোনরকম খুঁপড়ি ঘর বেঁধে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন আসাদুজ্জামান অসলে। দিনমজুরি কাজ করতে করতে একসময় অসলে যাত্রাপালার মঞ্চে অভিনয় ও করেছেন।পরবর্তীতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে লবণ এনে বৈকারী বাজারে বিক্রি করতেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে অছলে বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের (মেম্বর) নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে অছলে বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

গরুর খাটাল ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতি প্রবেশ শুরু করেন । তিনি কখনো ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কোন সদস্য ছিলেন না। করেননি ছাএ রাজনীতি খাটাল মাদক গোল্ড , চোরাচালানীর টাকায় হয়ে গেলেন ক্ষমতাসীন বড় মাপের হাইব্রিড নেতা --হয়েছেন চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চালান তার দুই ছেলে ও তার কিছু দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে । কোন ইউপি মেম্বারদের সাথে তার সম্পর্ক ভালো নেই । কোন মেম্বার প্রতিবাদ করলে তার কোন  মূল্যায়ন দেওয়া হয়না । এমনটায় অভিযোগ করছেন কয়েক জন ইউপি মেম্বর‍রা ।


তার এই দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলেও তার কোনো সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা। বরং বহাল তবিয়্যতে রয়েছে চেয়ারম্যান অসলে, তিনিই পেলেন আবার ও নৌকার টিকিট ,হতভাগ বৈকারী ইউনিয়ন বাসী। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বেসরকারি টেলিভিশন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও বিভিন্ন নিউজ টেলিভিশনে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সাতক্ষীরার বৈকারি সীমান্তে মানব পাচারের গডফাদার আসাদুজ্জামান অসলে চেয়ারম্যান শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা ।  জনসাধারনের প্রশ্ন এত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কি ভাবে পেলেন নৌকার মনোনয়ন ।

এব্যাপারে বৈকারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কওছারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ছাএ জীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি, আমি দলীয় মনোনয়ন পেলাম না। তাতে আমার কোন দুঃখ নেই। কিন্তু যার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাকে কি ভাবে দল মনোনয়ন দিলো এটা আমার জানা নেই, সতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা কামাল জানান । আমাদের কে নির্বাচনের মাঠে থাকতে দিচ্ছে না  অসলে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীবাহিনী। আমার নেতা কর্মীদের উপর প্রতিনিয়ত হামলা করা হচ্ছে এভাবে নির্বাচন করা খুব কঠিন। মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষ ভোট কেন্দ্রে আসবে কিনা এটা বলা অসম্ভব ।

এদিকে জামাতের প্রার্থী থাকলেও মাঠে নেই কর্মী-সর্মথকরা। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চোরাচালানি খাতায় নাম লেখানোর পর তার আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। সীমান্তে খাটাল ব্যবসা, অস্ত্র চোরাচালানি, সোনা চোরাচালান, হুন্ডি ও মাদকের ব্যাবসা করে আসাদুজ্জামান অসলে এখন কোটিপোতি। সীমান্তের প্রত্যন্ত গ্রামে বসবাসকারী অসলের আছে প্রাইভেট কার, জীপ গাড়ি, নামে-বেনামে রয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রাক। সেগুলো সীমান্তে চোরাচালানের মালামাল পরিবহনে ব্যবহার করা হয় বলে প্রতক্ষ্যদর্শীদের অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার ভুক্তভোগী কয়েকজন জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলের ঢাকায় ফ্ল্যাট আছে। আরও আছে সাতক্ষীরা শহরে বিলাসবহুল আলিশান বাড়ি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া থানার তুলশীডাঙ্গা গ্রামে রয়েছে কোটি টাকার বিলাসবহুল আলিশান বাড়ি। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষ হুমকির মুখে পড়লে তিনি দ্রুত সীমান্ত টপকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বাদুড়িয়া থানার তুলশীডাঙ্গা গ্রামে নিজের ওই বাড়িতে নিশ্চিন্তে সময় কাটান।

এছাড়া নড়াইল জেলার শরপোতাডাঙ্গা গ্রামে শশুর বাড়িতে ক্রয় করেছেন ১২ বিঘা জমি, নিজের ইউনিয়নে ক্রয় করেছেন ৪৫ বিঘা জমি, যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে । দিনমজুর অসলে এখন অঢেল সম্পত্তির মালিক। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন মানুষের জমি জবরদখলের অভিযোগ রয়েছে। অসলের আছে নিজস্ব অবৈধ অস্ত্রধারি দেহরক্ষী, জনগণকে আতঙ্কে রাখতে ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করেন তিনি। অসলে ও তার সহোদার ভাই আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে সাতক্ষীরা সদর থানায় ৫৯নং সোনা পাচার মামলা।  

তারিখ-২৮/০৬/২০১৬। তার আপান চাচাত ভাই মফিজুল ইসলাম সাত পিচ সোনার বারসহ বিজিবির হাতে আটক হয়, জিআর মামলা নং-৯২৭ তারিখ- ২৯/১১/২০১৭। বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চোরাকারবারি, সোনা বিদেশী মুদ্রা পাচার, হুন্ডি ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের জাতীয় তালিকাভুক্ত চোরাকারবারি।  তিনি প্রসঙ্গত: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশে গরু আনার অনুমতি দেয়।  সে সময় অসলে সদর উপজেলা বৈকারী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আনার জন্য ও গরু খাটাল পরিচালনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  থেকে অনুমোদন নিয়ে আসেন।

এ সময় তার খাটালে প্রতিদিন ৫০০ থেকে তিন হাজার গরু উঠতো। খাটাল ব্যবসার আড়ালে অছলে  ভারতে পাচার করতেন সোনা, নিয়ে আসতো মাদকদ্রব্য। সাথে চলতো হুন্ডি ব্যবসা। সে সময় তিনি করিডোর ছাড়াও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে গরুর ব্যবসা করতেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার আছে চোরাচালান সিন্ডিকেট।  অসলে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। গোপন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে তিনি সীমান্তে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে তার সিন্ডিকেটের প্রধান শীর্ষ চোরাকারবারি নজরুল ও ইশারুল  মেম্বরের  মাধ্যমে প্রতিদিন বাংলাদেশের গরু রাখালদেরকে দিয়ে চোরাই পথে ভারত থেকে গরু এনেছেন।


এ সময় রাখালদের  গরু প্রতি দেওয়া হতো ৪-৫ হাজার টাকা। বৈকারি ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর খুঁপড়ি ঘরের বাসিন্দাদের কষ্টের কথা ভুলে গেছেন তিনি । প্রধানমন্ত্রীর বাসগৃহ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে তার ইউনিয়নের কালিয়ানী গ্রামের মৃত নূর ইসলাম ওরফে আন্নুর ছেলে বাবলু গাজীর নিকট থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, একই গ্রামের কুদ্দুস সরদারের ছেলে সাদ্দাম সরদারের নিকট থেকে টাকা নিয়ে আজও তাদের কোন ঘর দেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী বাবলু গাজী জানান, চেয়ারম্যান অসলে পাকা ঘর দেওয়ার কথা বলে আমার নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে, কিন্তু আমাকে এখনো কোন ঘর দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে বেশ কয়েকজনের নিকট থেকে তিনি উৎকোচ হিসেবে টাকা নিলেও তাদেরকে ঘর  দেওয়া হয়নি । এ সকল অভিযোগের বিষয় আসাদুজ্জামান অসলের কাছে  মোবাইল ফোনে  জানতে  চাইলে । তিনি  প্রতিবেদককে বলেন , আমি নির্বাচনের আগে আপনার কোন সাক্ষাৎকার দেব না, বলে ফোনটি কেটে দেন। 


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft