শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, 2০২2
মিজানুর রহমান শেলী
Published : Monday, 18 October, 2021 at 4:04 PM
শেখ রাসেল যেন বাঙালির শৈশব

শেখ রাসেল যেন বাঙালির শৈশব

বয়স আর কতো?
আমাদের ঘুড়ি ওড়ানো বয়স। দূর মাঠে লাটাই হাতে আমরা যখন দৌড়ে যেতাম। আর যখন আকাশের দিকে তাকাতাম, দেখতাম ঘুড়ির অনেক উপরে ওঠে যাওয়া। তখন আরও সুতা ছেড়ে ঘুড়িটিকে শুভ্রনীলে ছেড়ে দিতাম। আমাদের সেই সময়টাই শেখ রাসেলের শৈশব। তখন মনে হতো নীল আকাশের বুকে আমার শৈশবের কোমল বিকেলবেলা, যা বিশালতা নিয়ে খেলা করে। উচ্ছলিত চোখ উচ্ছ্বাসে ভরা থাকত সেইসব সময়, শৈশব। বয়স তখন মাত্র ১০ বছর ১০ মাস।
সেই রাসেল এখব আর মাটিতে খেলা করে না। মাঠে দৌড়ায় না। ঘাতকরা নিস্পাপ রাসেলকে গুলি করে হত্যা করেছে। কেড়ে নিয়েছে তার ঘুড়ি ওড়ার সেই দূরন্ত শৈশব। যা আমরা কখনও মেনে নিতে পারব না!

আমরা দেখেছি আন্দোলনের সময়ে বেড়ে ওঠেছে শেখ রাসেল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, বাঙালির ৬ দফা, ৭৯-এর গণআন্দোলন, ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ ও তার পরবর্তী মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর ৭৫ পর্যন্ত
বেড়ে ওঠার নাম শেখ রাসেল।  
এই সকল আন্দোলনের মাঝে তার বেড়ে ওঠাকে আমরা ভবিষ্যতবানী করতে পারি। বাবার মতো বিশ্বনেতা হতে পারতো রাসেল। বাঙালির মুক্তির যে সনদ বাবা এনে দিয়েছেন, তা শেখ রাসেল বহন করে বিশ্ব দরবারে আরও সাক্ষর রাখতে পরতো। হতে পারতো মানবতার মহান ফেরিওয়ালা।

 দেখেছি, শিশু রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছর। বাবাকে একনজর দেখতে মায়ের কোলে চড়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যেতে হতো তাকে। বাবাকে রেখে আর আসতে চাইতো না। তখন ৬ মে ৬৬ টির ৬ দফার সময়। অবশেষে রাসেলকে বোঝানো হয়েছিল যে, জেলটাই তার বাবার বাড়ি। পিতার অবর্তমানে
পিতৃস্নেহ বঞ্চিত রাসেল নিজের ‘আম্মা‘কেই ‘আব্বা‘ বলে ডাকতে শুরু করেছিল। চিরসত্য চির শোকাবহ শৈশব ছিল তার! বঙ্গবন্ধু তার
 ‘কারাগারের রোজনামচা‘ গ্রন্থে শিশু রাসেলের
স্মৃতির কথা বলেছেন।

দেখেছি, বন্ধি জীবন।
২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাক জান্তারা যখন ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে,
 তখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু।এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানের
কারাবন্দি করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ করতে রণাঙ্গণে
চলে যান বঙ্গবন্ধুর
দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল। ধানমণ্ডির ১৮ নাম্বার সড়কের
একটি বাড়িতে বন্দি করে রাখা হয় বঙ্গমাতা শেখ
ফজিলাতুননেছাসহ অন্যান্য সদস্যদের। তখন সাড়ে ছয় বছরের শিশু শেখ রাসেল। আকাশে যুদ্ধ বিমান চলছে। মহড়া হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে।
 ছোট্ট রাসেল অনুভব করে ভয়াবহ সেইসব

 মহড়া। ‘আমাদের ছোট্ট রাসেল সোনা‘ গ্রন্থে এ বিষয়ে
 বিস্তারিত লিখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেখেছি, প্রিন্সকোট পরা রাসেলের একটি ছবি।ছবিতে ফুটে ওঠেছে তার ব্যক্তিত্ব। সেই ছবিতে তাকিয়ে বিমোহিত হয়েছে অনেকে। যেন বিশ্বনেতার চোখ তার চোখে। হতেও পারতো রাসেল। কল্পনায় আসে ১৫ আগষ্টের ঘাতকের নির্মমতা। সেই ভয়াবহতার কথা ভেসে আসে মনে। কতো পাষাণ তাদের মন ছিল!

বাংলার প্রতিটি শিশুর হাসি-কান্নার শৈশবই যেন ধারণ করে আছে ছোট্ট রাসেল। মনে হয়, ছোট্ট রাসেল নৌকা চড়ে দূরে কোথায়ও ধানশালিকের সাথে খেলা করছে৷ পানিতে নেমে ঝাপিয়ে ডুব দিয়ে যায় পানকৌড়ির মতো, নদীর পাড় ধরে হেঁটে বেড়ায় আকাশবেলার সাথে।
তার স্মমতিময় ছবি আমাদের কাঁদায়। তার শৈশব বাঙালির শৈশবকে কাঁদিয়ে যায়। ফুল ফুটার আগেই কলিতে আমরা হারালাম তাকে। এই বাংলায় যেন আর কোন শৈশবের ঘুড়ি অস্তমিত না হয়।

মিজানুর রহমান শেলী
পুলিশ সুপার
পিবিআই, ঢাকা মেট্রো।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft