শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, 2০২1
এম এস দোহা
Published : Sunday, 1 August, 2021 at 8:58 PM, Update: 01.08.2021 9:09:30 PM
দেশে সাড়ে ১১ হাজার কোটিপতি বাড়লেও করোনায় কমছে

দেশে সাড়ে ১১ হাজার কোটিপতি বাড়লেও করোনায় কমছে

নতুন সাড়ে ১১ হাজার কোটিপাতি’র আর্বিভাব হয়েছে দেশে। ২০২১ সালে করোনার শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে তাদের আত্ম প্রকাশ। টালমাটাল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভেতর এই সংবাদ অবশ্যই ইতিবাচক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে গত মার্চ মাসে দেশে কোটিপতি ছিলো ৮২ হাজার ৬২৫ জন। ২০২১ সালের মার্চে তা ৯৪ হাজার ২৭২ জনে উন্নীত হয়।


করোনাকালে কোটিপতি বাড়লেও ত্রাণ তৎপরতায় সাধারণ মানুষ হতাশ। গত ২০২০ সালে শিল্পপতি ও বিত্তশালীদেরকে করোনার ত্রাণ কর্মকান্ডে কিছুটা দেখা গেলেও ২০২১ সালে কেন জানি তা ঠেকেছে অনেকটা তলানীতে। পাকিস্তান আমলে ২২ কোটিপতি থেকে এখন আমাদের হাজার হাজার শিল্প গ্রুপের ছড়াছড়ি। অথচ করোনাকালে তারা রয়েছে দর্শকের ভূমিকায়। কেউ কেউ গর্তে লুকিয়ে।


অপ্রিয় হলেও সত্য যে, পরিসংখ্যানে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বাড়লেও করোনার কমেছে। আগে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃর্যোগে শিল্পপতিদের মানবিক কর্মকান্ড ও অস্তিত্ব বুঝা যেতো। কিন্তু করোনা মহামারীতে এবার অনেকেই  লকডাইনে। অধিকালশ ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের একই সুর। নাই। খারাপ। বিপদে আছি। অথচ দেশের লক্ষাধিক কোটিপতির মধ্যে মাত্র ৬৪জন শিল্পপতি ইচ্ছে করলে চলমান চিকিৎসা ব্যবস্থার হাহাকার বহুলাংশে লাগব করতে পারতো। জেলায় একটি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের দায়িত্ব নেওয়াটা তাদের কোন ব্যপার-ই ছিলো না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হল। বিপুল অর্থ, বিত্ত, সম্পদ উজাড় করে দিয়েও করোনার কবল থেকে মুক্তি পানননি। কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে বিদেশ থেকে চার্টাড বিমানে ডাক্তার ও ঔষধ এনেও মৃত্যুর অসহ্য যন্ত্রণা লাগব করতে পানেননি। গত বছর এস আলম গ্রুপ এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প ও ব্যাকিং সেক্টরের নিয়ন্ত্রক। পরিচালক মোরশেদ আলম আইসিইউ’র অভাবে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে মারা যান। অনেকে আশা করেছিলো হয়তো এর পর চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে আইসিইইউ অভাব আর থাকবেনা। আবদুল মোমেন মৃত্যুর পর ব্রাক্ষ্মবাড়ীয়ার হাসপাতালগুলোতে সংকট থাকার কথা নয় করোনা চিকিৎসা সামগ্রীর। হাজী মকবুলের মৃত্যুর পর টাঙ্গাইলের হাসপাতালের চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা। নাশা গ্রুপের চেয়াম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার অসুস্থ হওয়ার পরও এক্সিম ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার কোন উন্নতি হয়নি। সিরাজুল ইসলাম মোল্লা আক্রান্তের পর নরসিংদীর শিবপুর হাসপাতালের আসেনি করোনা চিকিৎসার কোন অনুদান। সবাই হাত গুটিয়ে বসে আছেন তা নয়। ২০২১ সালে বসন্ধরা গ্রুপ, টি.কে গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপের মানবিক ইতিবাচক সংবাদও আছে। তবে এ সংখ্যা হতাশাব্যাঞ্জক।

বিত্তশালী অনেক রাজনীতিবীদ, মন্ত্রী, এমপিদের দেখা যায়নি নির্বাচনী এলাকার জনগনের জন্য কোভিড-১৯ মহামারিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে।ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান, ধনকুবের লতিফুর করোনাকালে প্রায় ৪মাস অবস্থান করেন গ্রামের চৌদ্দগ্রামের চিওোড়ায়। অথচ চৌদ্দগ্রামের মানুষ এই সময়ে তার কাছে কোন মানবিক ও সামাজিক সাহায্য পায়নি। চৌদ্দগ্রামে মারাগেলেও স্থানীয়ভাবে জানাযা নেননি তিনি। যা সামাজিক দৈন্যতার নজির হয়ে থাকবে।

অনেকে মনে করেছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চার দেওয়ালে বন্ধি থেকে রক্ষা পাবেন। তাই জনসম্পৃক্তা এড়িয়ে চলা। কিন্তু অধিকতর নিরাপদ ও সচেতনতা অবলম্বন করেও রক্ষা হয়নি অসংখ্য অর্থ, বিত্ত, ক্ষমতা ও পদ-পদবী ধারীর। করোনায় আক্রান্ত হয়ে কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে হাসপাতালে ভেন্টিলেটর ও আইসিইইউ ভাগ্য জোটেনি অনেকের। ছুটে যেতে পারেনি বিদেশের হাসপাতালে। প্রকৃতির কাছে করেছে স্যারেন্ডার। নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশের হাসপাতালে এখন চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি কোটিপতিরা। সামান্য এক অদৃশ্য ভাইরাস রাজপথ থেকে ফুটপাতের সবার জীবন পর্যবসিত করেছে অনিশ্চয়তার। অথচ এসব বিত্ত ও ক্ষমতাশালীরা চিকিৎসায় বিদেশমূখী নাথাকলে দেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রভৃত উন্নয়ন অনেক আগেই সাধিত হত। যা এখন হাড়ে হাড়ে উপলব্ধিতে এসেছে সবার।


অপ্রিয় হলেও সত্য, করোনা আক্রান্ত ও সম্ভাব্য রোগীদের আশে পাশে যেতে নারাজ অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি। হাঁচি কাঁশি দেওয়া ভোটারের টেলিফোন ধরতেও ভয়পান তারা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মন্ত্রী এমপি থেকে শুরু করে অনেক জনপ্রতিনিধি এখন লকডাউনে। জনগনের এই দুঃসময়ে মন্ত্রী-এমপিদের নিবাচর্নী এলাকার জনগন খুজে পাছেন না। করোনা সংকট মোকাবেলায় জেলার দায়িত্বে এখন সচিবরা। আমলাতন্ত্রের যাতাকলে পড়ে জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন ও কর্মকান্ড তদারকি এখন প্রশ্নের মুখে।

অপ্রিয় হলেও সত্য যে, করোনাকালে দ্ররিদ্রের হার বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে।সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস।  ঢাকা শহরের বাসাগুলোতে এখন টু-লেট ছড়াছড়ি। দেশের এই দু:সময়েও একশ্রেনীর মানুষ বিদেশে টাকা পাচার, নিরাপদ সেকেন্ড হোমের স্বপ্নোবিভোর। গত দশবছরে (২০০৬-২০১৫)বাংলাদশ থেকে পাচারকৃত অর্থ আমাদের বাজেটের সমান। একবছরের দেশে থেকে টাকা পাচার রোধ করাগেলে ৪টি পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্ভব হতো। তাই সরকারের উচিত এসব কোটিপতিদের চিহ্নিত ও তদন্তের মাধ্যমে দেশকে সর্বনাশের হাত থেকে রক্ষা। সেই সাথে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র পীড়িত জনগনের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ।

সরকার ইতিমধ্যে আমলাদের সম্পদের হিসাব দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছেন। এ তালিকায় রাজনীতিবিদেরও বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই। যা যথাযথভাবে কার্যকর হলে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বইবে সুবাতাস এবং ইতিবাচক মেরুকরন। 

লেখক: উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক নতুন সময়


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft