শুক্রবার, ০৬ আগস্ট, 2০২1
সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী
Published : Sunday, 27 June, 2021 at 8:41 PM, Update: 27.06.2021 8:49:53 PM
লাখলাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থে খুলে দেয়া হোক ডেসটিনি লিমিটেড

লাখলাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থে খুলে দেয়া হোক ডেসটিনি লিমিটেড

ভারতে গ্রাহকের হাজার-হাজার কোটি টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে সেখানকার মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানী সাহারা গ্রুপ-এর প্রধান সুব্রত রায়-কে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয় বেশ ক’বছর আগে। কিন্তু কারাগারে বসেও যাতে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন সেজন্যে উচ্চ আদালতের নির্দেশেই কারাগারের ভেতরে সুব্রত রায়-কে ছোট্ট একটা অফিস স্থাপন করে দেয়া হয়। এরপর যখন দেখা গেলো কারাগারে থেকে আসলে সুব্রত রায়ের পক্ষে তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিপুল সম্পদ সঠিক মূল্যে বিক্রী করা অসম্ভব, তখন উচ্চ আদালত ওনাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দিয়ে দেয়। শর্ত ছিলো তিনি মুক্তির ছয় মাসের মধ্যে সাহারা গ্রুপ-এর বিনিয়োগকারীদের একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা ফেরত দেবেন। এরই মাঝে সুব্রত রায় গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার পাশাপাশি আবার নতুন করে ওনার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সম্প্রসারিত করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অতীতের কিছু ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি এবার সাহারা গ্রুপকে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে যাচ্ছে তিনি।

সাহারা গ্রুপ যখন আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর দিকে এগুচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের শীর্ষ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানী ডেসটিনি লিমিটেড-এর শীর্ষ কর্তা ব্যক্তিরা প্রায় নয় বছর যাবত নানা মামলায় কারাগারে আটক আছেন। সাহারা গ্রুপের কর্ণধার সুব্রত রায় মুক্ত হয়ে যখন ওই প্রতিষ্ঠানকে আবার শক্ত অবস্থানে নেয়ার চেষ্টা করছেন, তখন শীর্ষকর্তা ব্যক্তিদের দীর্ঘ কারাবাসের কারণে একদিকে যেমন ডেসটিনি গ্রুপের হাজার-হাজার কোটি টাকার সম্পদ বেহাত হতে চলেছে, তেমনিভাবে লাখলাখ গ্রাহকের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টাও ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
 এখন প্রশ্ন হলো, ডেসটিনির লাখলাখ গ্রাহকের দাবী কিংবা চাহিদাটা কি? এটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ অন্যদের জেল খাটানো? ডেসটিনির মতো বিশাল একটা প্রতিষ্ঠানকে গলা টিপে হত্যা? নাকি এমন একটা পদ্ধতি বের করা যার ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকরা ওনাদের বিনিয়োগ ফেরত পাবেন, ঠিক তেমনিভাবে ডেসটিনিও হয়ে উঠবে হাজার-হাজার নতুন কর্মস্থলের ঠিকানা?

বিনয়ের সাথেই বলছি, ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ অন্যদের জেল খাটিয়ে আখেরে লাভ হবেনা কারোরই। অথবা ওনাদের আজীবন জেলেও আটকে রাখা যাবেনা। হতে পারে আরো পাঁচ কিংবা দশ বছর পর ওনারা ঠিকই জেল খেটে মুক্ত হবেন। ততোদিনে এই প্রতিষ্ঠানের হাজার-হাজার কোটি টাকার সম্পদ চলে যাবে দুর্বৃত্তদের দখলে। ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বিনিয়োগকারীরাই। এটাই বাস্তবতা।  

আবেগের তাড়নায় যদি কেউ মনে করেন ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনসহ অন্যদের জেল খাটাবেন, তাহলে এটা হবে ওনাদের মূর্খতা। কারণ, ওনারা তো ডেসটিনিতে টাকা খাটিয়েছেন লাভের আশায়। কাউকে জেল খাটানোর ইচ্ছায় নিশ্চয়ই নয়। আমি মনে করি, ভারতের সাহারা গ্রুপের সুব্রত রায়-কে যেভাবে আদালত মুক্তি দিয়েছে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার শর্তে, ঠিক একইভাবে ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিনকে অন্তত ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্যে মুক্তি দেয়া হোক। প্রয়োজনে নির্বাহী আদেশবলে। ওই সময়ের মধ্যে ওনারা গ্রাহকের পাওনা টাকার একটা অংশ ফিরিয়ে দেবেন এবং ওনাদের জামিনের মেয়াদ বেড়ে যাবে। প্রয়োজনে ওনাদের পাসপোর্ট জমা রাখাও যেতে পারে।

এখানে একটা কথা বলে রাখি, গ্রাহকের টাকা মেরে দেয়া যদি মোহাম্মদ হোসেন কিংবা রফিকুল আমিনের উদ্দেশ্য হতো, তাহলে ওনারা জেলে যাওয়ার অনেক আগেই বিদেশে পালিয়ে যেতে পারতেন। এটা তো ওনারা করেননি। কারণ, কাউকেই প্রতারণা করার উদ্দেশ্য ওনাদের ছিলো না। এখনও নেই। একারণেই ওনাদের যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাহী আদেশবলে মুক্তি দিলে ডেসটিনি বেচে যাবে, রক্ষা পাবে লাখলাখ বিনিয়োগকারীর টাকা।

একইভাবে আমি মনে করি সোনালী ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রের শিকার দেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানীকারক ও বহুমুখী শিল্প পরিবার হলমার্ক এর ব্যাপারেও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়াটা জরুরী। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তানভীর মাহমুদ কিংবা ওনার পরিবারের সদস্যদের বছরের-পর-বছর কারাগারে আটকে রেখে সমস্যার কোনোই সমাধান হবেনা। বরং এর ফলে সাভার এলাকায় হলমার্ক-এর বিশাল শিল্পাঞ্চল এবং তাদের শতশত কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। এরফলে, সোনালী ব্যাংকের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাটাও মিইয়ে যাবে। এতো বড় একটা শিল্প প্রতিষ্ঠান, যেখানে হাজার-হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছিলো, সেটা কোনও ভাবেই ধ্বংস হয়ে যেতে দেয়া অনুচিত।

বাংলাদেশের অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি এখন বিশ্বের কাছে এক অনন্য উদাহরণ। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ। এর কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আমি বরাবরই আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত ইংরেজী পত্রিকা ব্লিটজ এবং বিশ্বের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুজগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের শক্তিশালী অগ্রযাত্রার বিষয়গুলো তুলে ধরছি। আমি জানি, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই পারবেন বাংলাদেশকে উন্নত দেশের স্থানে উন্নিত করতে। আমি এটাও জানি, হাজার-হাজার মানুষের কর্মস্থল ডেসটিনি কিংবা হলমার্ক চিরতরে বন্ধ হয়ে যাক, এটা আমাদের  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কখনোই চাইবেন না।
 আমার ভীষণ ভালো লাগে, বাংলাদেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা আমার লেখাগুলো নিয়মিতভাবেই পড়েন। এজন্যে ওনাদের কাছে আমার আজন্মের ঋন। আমি আশা করবো এই লেখাটাও শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সদয় দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হবে।

মন থেকে প্রত্যাশা, খুলে যাক ডেসটিনি গ্রুপ – খুলে যাক হলমার্ক শিল্প পরিবার।
 
সালাহ উদ্দিন শোয়েব: চৌধুরী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, গবেষক, লেখক, কাউন্টার টেরোরিজম বিশেষজ্ঞ এবং প্রভাবশালী ইংরেজী পত্রিকা ব্লিটজ-এর সম্পাদক  


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft