শুক্রবার, ০৬ আগস্ট, 2০২1
বিশেষ প্রতিবেদক
Published : Sunday, 25 April, 2021 at 7:57 PM
বিএনপি ক্যাডার শ্যামলের সন্ত্রাসী অতীত লুকোনোর অপচেষ্টা

বিএনপি ক্যাডার শ্যামলের সন্ত্রাসী অতীত লুকোনোর অপচেষ্টা

ঢাকা উত্তরে বিএনপির ক্যাডার শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন এবার গ্রেফতারের ভয়ে আওয়ামীলীগ সমর্থক সাজার চেষ্টা করছে। বিগত ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে সে বিএনপি হাইকমান্ডের আস্থা অর্জন করে। সে সময় গানপাউডার দিয়ে যাত্রীবাহী বাস পোড়ানোর মিশনে সবচাইতে সক্রিয়দের একজন শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন উত্তরা পাঁচ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ব্যাপারীর ছোট ছেলে। খুব অল্প বয়স থেকেই অঞ্জন মাদকাসক্তি আর বিকৃত জীবনাচারে জড়িয়ে পড়ে। এসময়ে সে যুক্ত হয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাথে। পরবর্তীতে সে ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পায়।

২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী চরম সন্ত্রাস শুরু হলে শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন বাসে আগুন দেয়ার মিশনের পাশাপাশি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে একাধিক ভুঁয়া আইডির মাধ্যমে আওয়ামীলীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালাতে থাকে। এসময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা হতে থাকলে শ্যামলের বিরুদ্ধেও অনেকগুলো মামলা হয়। কিন্তু চতুর শ্যামল চলে যায় আন্ডারগ্রাউন্ডে। এভাবেই সে আরো বেশ কয়েক মাস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পর ২০১৪ সালের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে আমেরিকায় পালিয়ে যায়। কিন্তু আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার কারণ ছিলো মার্কিন ভিসা। তাই আমেরিকায় পৌঁছার পর শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন ভর্তি হওয়া ওই ইউনিভার্সিটিতে উঁকিও দেয়নি। বরং সেখানে অবস্থানকালেও সে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পাশাপাশি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে সাইবার অপপ্রচার চালাতে থাকে। এরই মাঝে শ্যামল মাহমুদের সন্দেহজনক তৎপরতার কারণে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই শ্যামলকে ডেকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ পর্যায়ে এফবিআই এর জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থেকে ফিরে এসেই সে সড়ক পথে কানাডায় পাড়ি জমায়।

বিএনপি ক্যাডার শ্যামলের সন্ত্রাসী অতীত লুকোনোর অপচেষ্টা

বিএনপি ক্যাডার শ্যামলের সন্ত্রাসী অতীত লুকোনোর অপচেষ্টা

কানাডায় পৌঁছেই শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে। এসময় ঢাকা থেকে প্রকাশিত কিছু পত্রিকায় অঞ্জনের পরিবার টাকা দিয়ে ভুঁয়া সংবাদ প্রকাশ করাতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর ২০১৫, উত্তরা নিউজ নামের একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়ঃ  

“ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক শ্যামল মাহমুদ অঞ্জনের বৃদ্ধ বাবাকে লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

“অঞ্জনের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজনৈতিক দলের বাইরে মতাদর্শগত বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ৫/৪ জনের একদল যুবক অঞ্জনের উত্তরার ৫নং সেক্টরের ১/এ রোডের বাসার নিচে এসে অশ্লিল ভাষা গালাগাল দিতে থাকে। এ সময় অঞ্জনের বৃদ্ধ বাবা আব্দুর রশিদ এগিয়ে গেলে। তারা তাকেও গালাগাল করতে থাকে। এপর্যায়ে তারা তাকে জিজ্ঞাসা করে তোর পোলা কোথায় আছে বল, অঞ্জন কবে আসবে বল? নয়তো তোদের শেষ করে ফেলবো। এই বলে তারা আব্দুর রশিদকে ধাক্কা দিলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। এনিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।

“উল্লেখ্য, উত্তরা পশ্চিম থানা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট থেকে দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন।

ঢাকার আন্ডারগ্রাউন্দ পত্রিকা এবং নিউজ পোর্টালে আওয়ামীলীগ সরকার সম্পর্কে এবং শ্যামল মাহমুদ অঞ্জনের পরিবার ও বাবার উপর আওয়ামীলীগের হামলার মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করানোর পর এগুলো কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে থাকে অঞ্জন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসব সংবাদ প্রকাশ করে সে আওয়ামীলীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মারাত্মক অপপ্রচার চালাতে থাকে।

কিন্তু ঢাকায় শ্যামল মাহমুদ অঞ্জনের সন্ত্রাসী কাজের বিষয়ে কানাডীয় দুতাবাস সেদেশের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে কানাডায় অঞ্জনের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যখাত হয়।

কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখাত হওয়ার পর শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন বাংলাদেশের ফিরে আসে এবং আবার মালয়েশিয়ার ‘লিমককউইং ইউনিভারসিটি’ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামীলীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালাতে থাকে। উল্লেখ্য, আমেরিকা থেকে কানাডায় শ্যামল মাহমুদ অঞ্জন ভিসা ছাড়াই অবৈধপথে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে সে কানাডা থেকে আমেরিকায় মাদক পাচারের সাথেও সম্পৃক্ত হয় বলে জানা গেছে।

প্রভাবশালী ইংরেজী পত্রিকা ব্লিটজ-এর রিপোর্টে জানা যায়, মালয়েশিয়ার লিমককউইং ইউনিভারসিটি’র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ইসলামিক ষ্টেট সংশ্লিষ্টতার বহু অভিযোগ আছে। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মালয়েশিয়ার লিমককউইং ইউনিভারসিটি-কে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। মালয়েশিয়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ লিমককউইং ইউনিভারসিটিতে অভিযান চালিয়ে একাধিকবার ইসলামিক ষ্টেট সংশ্লিষ্ট বেশকিছু শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

ওই গ্রেফতার অভিযান শুরু হলে অঞ্জন বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এবিষয়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, শ্যামল মাহমুদ অঞ্জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে এরই মাঝে সন্দেহভাজনদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাকে মালয়েশিয়ার ভিসা না দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশস্থ মালয়েশীয় হাই কমিশনকেও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।

অঞ্জনের বড়ভাই সজল মাহমুদ অনি’র কুকর্ম
পত্রপত্রিকার রিপোর্টে জানা যায়, শ্যামল মাহমুদ অঞ্জনের বড়ভাই সজল মাহমুদ অনি ২০১২ সালে ভারতীয় নাগরিক সঞ্জীব সাহাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মুক্তিপনের দাবীতে আটকে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে সঞ্জীব সাহাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। সজল মাহমুদ অনির বিরুদ্ধে উত্তরাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানায় বহু মামলা ও অভিযোগ আছে।

সজল মাহমুদ অনি কয়েক বছর আগে ফারজানা আক্তার রিমা নামের এক নারীকে বিয়ে করে। রিমা বেসরকারী নভো এয়ারে চাকরিরত। এরপর অনি ব্রিটেন প্রবাসী আরেক নারীকে তার স্বামীর ঘর ত্যাগ করিয়ে বিয়ে করে ২০১৯ সালে। ওই নারীর নাম ফাতেহা খান মনি। বিয়ের কাবিন হয় ভাটারা কাজী অফিসে। এই দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় সজল মাহমুদ অনি নিজেকে অবিবাহিত বলে ঘোষণা দেয়।

 
নভো এয়ারে সন্ত্রাসী পরিবারের সদস্য
চিহ্নিত সন্তারসী এবং অপরাধী সজল মাহমুদ অনি’র স্ত্রী ফারজানা আক্তার রিমাকে কীভাবে নভো এয়ার কর্তৃপক্ষ চাকরী দিলো এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । এবিষয়ে নভো এয়ার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয় লক ডাউনের পর অফিস খুললে এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।

একজন সন্ত্রাসীর স্ত্রীকে এয়ারলাইন কোম্পানীতে চাকরী দেয়া যায় কিনা এবিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন, নভো এয়ার বেসরকারী খাতে এয়ার


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft