রবিবার, ০৯ মে, 2০২1
নতুুন সময় প্রতিবেদক
Published : Saturday, 24 April, 2021 at 2:51 PM
‘সময় এত নিষ্ঠুর হবে কখনো ভাবিনি’

‘সময় এত নিষ্ঠুর হবে কখনো ভাবিনি’

ছোটবেলা থেকে রাজধানীতেই বেড়ে উঠেছেন ফারহানা নাজিরা খুকু। পড়ালেখা শেষে পেশা হিসেবে বেছে নেন ব্যবসা। সঞ্চয় করা ১৭ হাজার টাকা দিয়ে ২০০৮ সাল থেকে স্বল্প পরিসরে শুরু করেন ব্লক-বাটিকের ব্যবসা। যথেষ্ট চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সফলতার মুখও দেখতে শুরু করেন।

থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। সিঙ্গল মাদার তিনি। দুই সন্তান আর বৃদ্ধ মা-বাবার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে যথেষ্ট সফল হচ্ছিলেন খুকু। মিরপুরে শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সে দুটি শোরুম রয়েছে তাঁর। গড়ে তোলেন নিজের প্রডাকশন হাউস। শোরুম আর প্রডাকশন হাউস মিলে রয়েছে ১০-১২ জন  কর্মচারী। মাস শেষে সংসারের খরচ, কর্মচারীদের বেতন দিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয়ও করছিলেন। কখনো কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। বরং সব সময় অন্যদের সহায়তায় হাত বাড়িয়েছেন।

তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজের চোখের সামনেই এখন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারি গিলে খাচ্ছে তাঁর এত দিনের পরিশ্রম। করোনার প্রথম ধাক্কায় পুঁজি হারিয়ে খুকু প্রায় শূন্য, আর দ্বিতীয় ঢেউয়ে শেষ সম্বলটুকুও হারাতে বসেছেন।

কথায় কথায় ফারহানা খুকু কালের কণ্ঠকে বলেন তাঁর কষ্ট আর হাহাকারের কথা। ‘আমি সত্যি হতাশ। চেনা শহরটা এত নির্মম হয়ে উঠবে কখনো ভাবিনি। সময় এতটা নিষ্ঠুর হবে তাও কল্পনায় ছিল না। সত্যি জানি না আমি এখন কী করব! করোনা কত দিন থাকবে! গত বছর লকডাউনে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বছর ভাবছিলাম পুষিয়ে নেব। গত বছর করোনার লকডাউনের শুরু থেকে এখনকার এই লকডাউন পর্যন্ত আমার ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুরো পুঁজি বিনিয়োগ করে পণ্য তৈরি করছি। গত বছর টানা দুই মাস লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় বৈশাখ আর রোজার ঈদে কিছুই বিক্রি করা যায়নি। পরে কোরবানি ঈদে সীমিত আকারে দোকান খুললেও বেচাকেনা তেমন হয়নি। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আগের পুঁজি শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার ব্যাংক থেকে উৎসব লোন নিলাম সাত লাখ টাকা। এখন ফের আবার লকডাউন!’

খুকুর কণ্ঠ থেমে আসে। একটু দম নিয়ে ম্লান কণ্ঠে আবার বলতে থাকেন, “এই লকডাউনে আবার দোকান বন্ধ। দোকানের জন্য সাড়ে আট হাজার পিস পাঞ্জাবি তৈরি করেছি। বৈশাখের আগে কিছুদিন খোলা ছিল দোকান। তবে ক্রেতা ছিল হাতে গোনা। এখন যে অবস্থা, আমার কর্মীদের কোনো রকমে চালিয়ে নিচ্ছি। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে কাজ করান। তবু কিছু একটা করি।’ এ অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছি না। লোনের কিস্তি কিভাবে দেব, কর্মীদের বেতনই বা কিভাবে দেব, সঙ্গে রয়েছে সংসার! কিন্তু আমার ব্যবসা তো বন্ধ!”

সরকার ঘোষিত প্রণোদনার কথা জানেন কি না জানতে চাইলে খুকু বলেন, ‘না, সরকারের প্রণোদনার বিষয়ে কিছু জানি না। আমি নিজেও বেশ কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে আছি। সেখানেও প্রণোদনার জন্য কেউ আবেদন করেছে শুনিনি। এর বাইরে কোনো এনজিও কিংবা প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি আমরা।’



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft